ট্রাইব্যুনালকে দ্রুত শুনানি করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ (বোল্ড)
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ২৪ এপ্রিল: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় মাত্র ১৩৯জন ডিলিটেড ভোটারকে ক্লিনচিট বা ছাড়পত্র দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের অধীনস্ত ট্রাইবুনাল। যা নিয়ে রাজ্য তথা দেশজুড়ে ব্যাপক হইচই হওয়ার পর এবার ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (স্যার) জেরে যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন রয়েছে, তাঁদের মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এদিন স্পষ্ট বলেছে, সংশ্লিষ্ট ভোটাররা এই সমস্যার সমাধানে আদালতের তৈরি ১৯টি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন।
এদিন শুনানির শুরুতে প্রধান বিচারপতি প্রথম দফার নির্বাচনে ৯২.৭২ শতাংশ রেকর্ড ভোটদানের হার দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে। তবে ভোটার তালিকার জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নাম বাদ পড়ার ভয়ে মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ভোট দিতে আসছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের আবেদন এখনও ঝুলে রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১৩৯টি নিষ্পত্তি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, প্রশাসনিক বা বিচার বিভাগীয় প্রয়োজনে আবেদনকারীরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হতে পারবেন। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ-সহ ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের প্রায় ৭০০ বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এই ৬০ লক্ষ দাবি ও আপত্তি খতিয়ে দেখার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। শীর্ষ আদালত আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, ২১ বা ২৭ এপ্রিলের মধ্যে যাঁদের আবেদন ট্রাইব্যুনালে গ্রাহ্য হবে, তাঁরাই সংশ্লিষ্ট দফার ভোটে অংশ নিতে পারবেন। এখন দেখার, দ্বিতীয় দফার আগে ২৭ তারিখ পর্যন্ত কত সংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার ফিরে পান। কারণ, হাতে সময় মাত্র ৩ দিন বা ৭২ ঘণ্টা।








