এশিয়া মাষ্টার্সে সোনাজয়!
সিভিক ভলান্টিয়ার নাইমা এখন দেশের গর্ব
নাজমুস সাহাদাত, নতুন পয়গাম, মানিকচক:
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে আবারও উজ্জ্বল ভারতের নাম। আর সেই গৌরব এনে দিলেন মালদা জেলার মানিকচক থানার এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে — নাইমা খাতুন। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২৩তম এশিয়া মাষ্টার্স অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপ–২০২৫-এ জ্যাভলিন থ্রো ইভেন্টে সোনার পদক জিতে তিনি সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।
নাইমা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার পদে কর্মরত। চাকরির ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন অনুশীলন চালিয়ে গেছেন তিনি। খেলাধুলার প্রতি একাগ্রতা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসই তাঁকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের আসনে বসিয়েছে। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পিছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি দেশের জন্য গৌরব ছিনিয়ে আনেন।
দেশে ফেরার পর থেকেই মানিকচকের মাটিতে উৎসবের আবহ। চারদিকে করতালি, অভিনন্দন ও উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে গোটা এলাকা। সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল— সকলেই ছুটে আসেন নাইমাকে শুভেচ্ছা জানাতে।
এদিন নাইমার বাড়িতে সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মানিকচক ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সংখ্যালঘু সেলের ব্লক সভাপতি বাবুল আক্তার, যুব সভাপতি শাহিদুল হক, এবং হায়দার আলী ও হারুন রশিদ প্রমুখ। তাঁরা সবাই মিলে নাইমার হাতে ফুলের তোড়া, পুষ্পস্তবক ও উপহার সামগ্রী তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানান।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন,
“নাইমা খাতুন আজ দেশের গর্ব। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের পতাকা উড়িয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন — মেয়ে মানেই শক্তি, সাহস ও সাফল্য। আমরা লিখিতভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাঁর পদোন্নতি ও আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানাব। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের কাছেও অনুরোধ জানানো হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “নাইমা শুধু একজন ক্রীড়াবিদ নন, তিনি এলাকার প্রতিটি মেয়ের অনুপ্রেরণা। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে, সুযোগ ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামের মাটিতেও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হতে পারে।”
নিজের সাফল্য নিয়ে নাইমা খাতুন বলেন,
“ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ভালোবাসতাম। চাকরির পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলন করেছি। এই সাফল্য আমার পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের উৎসাহের ফল। আমি চাই, আমার এই জয় দেখে আরও মেয়েরা খেলাধুলায় এগিয়ে আসুক এবং দেশের জন্য কিছু করুক।”
নাইমার হাতে সোনার পদক দেখে গর্বে চোখে জল এসেছে অনেকের। জেলার ক্রীড়া মহল বলছে, “এই অর্জন শুধু মানিকচকের নয়, সমগ্র বাংলার ও ভারতের।”
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠন ও ক্রীড়া সংস্থা থেকে নাইমাকে সংবর্ধনা জানাতে ভিড় জমছে তাঁর বাড়িতে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে জেলা পর্যায়ে বিশেষ সম্মাননার আয়োজন করা হবে।
নাইমার সাফল্য আজ প্রমাণ করছে—
সাফল্য কখনও শহরের সীমায় বাঁধা পড়ে না; পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসই পারে এক সাধারণ মানুষকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদে পরিণত করতে।







