দল ত্যাগের পর হাসানুজ্জামান বাপ্পার প্রতিক্রিয়া
নতুন পয়গাম: জঙ্গিপুরের প্রাক্তন মহকুমা কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র হাসানুজ্জামান বাপ্পা সাংবাদিদের বলেন, “খুব বেদনা যন্ত্রনা নিয়েই কংগ্রেস দলটা ছাড়তে হয়েছে। কেননা ৩০ বছরের সম্পর্ক যে দলের সঙ্গে, এক নিমেষে সেই দলটা ছেড়ে দেওয়া বেদনাদায়ক। কিন্তু কেন কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে আসতে হলো এটাই বড় প্রশ্ন। এ প্রসঙ্গে বাপ্পা বলেন গতকাল মহিলা সংরক্ষণ এর নামে বিজেপি পার্লামেন্টেজে বিধ্বংসী বিল নিয়ে এসেছিলেন যা পরাস্ত হয়েছে। তারপর রাহুল গান্ধী প্রথম যাকে ফোন করে ধন্যবাদ জানালেন, তিনি হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখান থেকে স্পষ্ট হয় যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং তাদের দোসর নির্বাচন কমিশনের যে অশুভ শক্তি তার মোকাবেলা করতে পারে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস। এই উগ্র সাম্প্রদায়িক দল বিজেপিকে পরাস্ত করতে হলে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। আর সেটা করতে পারে একমাত্র মা-মাটি-মানুষের দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে বিজেপির মত একটা বহিরাগত বর্বর শক্তিকে পরাস্ত করতেই আমার তৃণমূলে আসা।”
সেইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি উত্তর মুর্শিদাবাদকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলার দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। তৃণমূল কংগ্রেসের ম্যানিফেস্টোতে নতুন জেলার কথা বলা আছে। আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ করেছি দুই মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলার উন্নয়নের জন্য যেন একটি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি করা হয়, যেমনভাবে উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি করা হয়েছে।” এদিন তিনি মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বকে নিশানা করে বলেন, “এই জেলায় যিনি কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি বিজেপির ছত্র ছায়াতে আছেন। বিজেপির ইশারায় তিনি চলেন।”
জেলায় যোগ্য কংগ্রেস প্রতিনিধিদের বঞ্চিত করে টাকার বিনিময়ে বহিরাগতদের টিকিট দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে বাপ্পা প্রশ্ন করেন, “ফারাক্কায় যাকে কংগ্রেসের প্রার্থী করা হয়েছে সে কি কোনদিন কংগ্রেস দলটা করেছেন ? সামশেরগঞ্জে যাকে কংগ্রেসের প্রার্থী করা হয়েছে সে কি কোনদিন কংগ্রেস দলটা করেছেন ? রঘুনাথগঞ্জ, জঙ্গিপুরে যাকে কংগ্রেসের প্রার্থী করা হয়েছে সে কি কোনদিন কংগ্রেস দলটা করেছেন ? কোটি কোটি ভালবাসার (পড়ুন টাকার) বিনিময়ে তাদের প্রার্থী করা হয়েছে বলে মানুষ বিশ্বাস করে। আমরাও তাই বিশ্বাস করি।”








