ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে
ঘুঁটে পুড়লে, তা দেখে গোবর হাসে। কারণ, গোবর জানে না তাকেও একদিন ঘুঁটে বানিয়েক আগুনে পোড়ানো হবে। এসআইআর নিয়ে যা চলছে, তাতে বিজেপির অন্ধভক্তরা এখন হাসছে। মজা করছে। চেখ টেপাটিপি করছে। ভাবছে, এবার নির্ঘাত অনুপ্রবেশকারী বা মুসলিমদের বে-নাগরিক করা হবে। এনআরসি-র সময়েও এমনটাই তারা ভেবেছিল। কিন্তু আসাম তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, বিজেপি শুধু মুসলিম বিদ্বেষীই নয়, বিজেপি আদ্যোপান্ত বাঙালি বিদ্বেষীও। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুত্বের নয়া পোস্টারবয় হিমন্ত বিশ্বশর্মা গত বছর মার্চ মাসে স্বীকার করেন, এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়া মোট ১৯ লক্ষের মধ্যে ৭ লক্ষ মুসলিম এবং ৫ লক্ষ বাঙালি হিন্দু, ২ লক্ষ অসমীয়া হিন্দু গোষ্ঠী কোচ-রাজবংশী, দাস, কলিতা এবং শর্মা (অসমীয়া) এবং ১.৫ লক্ষ গোর্খা হিন্দুর নাম রয়েছে।
অর্থাৎ মুসলিম হটাও-এর ডাক দিলেও বাস্তবে দেখা গেছে মুসলিমদের থেকে বেশি হিন্দুর নাম রয়েছে এনআরসি তালিকায়। বিজেপি যে শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষীই নয়, তারা বাঙালি বিদ্বেষীও — তাই তো বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে বিভিন্ন ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে অসংখ্য বাঙালিকে হেনস্থা, প্রহার, গ্রেফতার ইত্যাকার যাবতীয় পৈশাচিকতা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বোপরি বিজেপি যে হিন্দু রাষ্ট্র কায়েমের কথা বলে, তা কিন্তু মোটেই হিন্দুদের সবার জন্য নয়। বাস্তব হল বিজেপি চায় হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র। হিন্দু আর হিন্দুত্ববাদ কখনোই এক নয়। হিন্দুত্ববাদের সঙ্গে হিন্দু ধর্মের তেমন কোন সম্পর্ক নেই। হিন্দুত্ববাদ আসলে একটা রাজনৈতিক চমক বা গিমিক। এই মতবাদের দ্বারা হিন্দুদেরকেই গিনিপিগ বানানো হবে।
বিজেপির সাধের হিন্দু রাষ্ট্র হবে আদতে ধৃতরাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্রে বর্ণবাদ প্রবলভাবে মাথা চাড়া দেবে। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র ইত্যাদি বিভাজন কর্কট রোগের মতো জেঁকে বসবে। এদেশে হিন্দুদের ৭০ শতাংশেরও বেশি হল বৈশ্য, শূদ্র অর্থাৎ নিম্নবর্ণের। এদের হাল একেবারে বেহাল হবে বিজেপির স্বপ্নের হিন্দু রাষ্ট্রে। কারণ, বিজেপি সত্যিকার অর্থে হিন্দুরাষ্ট্র চায় না, তারা চায় মনুবাদী বা ব্রাহ্মণ্যবাদী রাষ্ট্র। আর এই বিশেষ ধাঁচের রাষ্ট্রের স্বরূপ লুক্কায়িত রয়েছে হেডগেওয়ার, গোলওয়ালকর, সাভারকর ত্রয়ীর মতাদর্শে। বাঞ্চ অফ থটস বা সংঘ পরিবারের অন্যান্য বইপত্র পড়লে বোঝা যাবে বিজেপি কেমন হিন্দু রাষ্ট্র বানাতে চায়।
তাই বিজেপির মুখে এখন হিন্দু রাষ্ট্রের জিগির দেখে যেসব অন্ধভক্ত হাসছে, তারাই সেদিন কেঁদে কুল পাবে না। তারাই সেদিন মাথা কুটে মরবে, কিন্তু তখন আর করার কিছু থাকবে না। এদের হাসি সেদিন কর্পূর হয়ে উবে যাবে। সেদিন তারা কপাল চাপড়াবে আর আফসোস করে বলবে, কেন বিজেপিকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়ুল মেরেছিল, কেন তারা খাল কেটে কুমির ডেকে এনেছিল। তখন শুধু কুমির নয়, দেখা যাবে জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ। বিজেপি তখন হয়ে যাবে সর্বভুক প্রাণীর মতো। সাপের মতো জন্মদাতা হয়েও নিজের বাচ্চাকে ভক্ষণ করেই পেট ভরাবে।








