একাই লড়লেন হ্যারি ব্রুক,তবুও সহজ জয় ইংল্যান্ডের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম :
একটা হারা দলের খেলোয়াড় যখন ম্যাচের সেরা হয়,তখনই বোঝা যায় তাঁর ভূমিকা।আসলেই তাই।
৫৬ রানে ৬ উইকেট পড়ে গেলে কিই’বা আর করার থাকে।কিন্তু দলের ৯ জন খেলোয়াড় যেখানে দু অঙ্কের রানে পৌঁছাতে পারেনি,সেখানে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করাটা অবিশ্বাস্য!ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ডের
প্রথম এক দিনের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দিল নিউজিল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করে ৩৫.২ ওভারে ২২৩ রান করেন হ্যারি ব্রুকেরা। জবাবে ৩৬.২ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৪ রান তুলে নেন মিচেল স্যান্টনারের দল।
টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন স্যান্টনার। প্রথমে ব্যাট করার সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি ইংল্যান্ড। অধিনায়ক ব্রুক ছাড়া কেউই কিউয়ি বোলিং আক্রমণের সামনে টিকতে পারেননি। তাঁর ১০১ বলে ১৩৫ এবং জেমি ওভারটনের ৫৪ বলে ৪৬ রানের ইনিংসের সুবাদে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছোয় ইংল্যান্ড। ব্রুকের দলের আর কোনও ব্যাটার দু’অঙ্কের রান করতে পারেননি। প্রথম বল থেকেই একের পর এক উইকেট হারাতে শুরু করে ইংল্যান্ড। ১০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট পড়ে যায় ব্রুকদের। জেমি স্মিথ (০), বেন ডাকেট (২), জো রুট (২), জ্যাকব বেথেল (২), জস বাটলার (৪), সাম কারেন (৬), ব্রাইডন কার্স (০), আদিল রশিদেরা (৪) দলকে ব্যাট হাতে সাহায্যই করতে পারলেন না।
জাকারি ফোকস্ এবং ম্যাট হেনরির দাপটে ৫৬ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর সপ্তম উইকেটে ব্রুক এবং ওভারটন ৮৭ রানের জুটি তৈরি করেন। শেষ পর্যন্ত ২২ গজের এক প্রান্ত আগলে ছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তাঁর ১৩৫ রানের ইনিংসে রয়েছে ৯টি চার এবং ১১টি ছক্কা। দশম উইকেটে লুক উডকে (অপরাজিত ৫) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫৭ রান যোগ করেন ব্রুক। ওভারটন মারেন ৬টি চার এবং ১টি ছয়।
নিউজিল্যান্ডের সফলতম বোলার ফোকস্ ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ৫৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন জেকব ডাফি। ৫৩ রানে ২ উইকেট হেনরির। এ ছাড়া ২২ রানে ১ উইকেট স্যান্টনারের।
জয়ের জন্য ২২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভাল করতে পারেনি কিউয়িরাও। পর পর আউট হয়ে যান উইল ইয়ং (৫), কেন উইলিয়ামসন (০) এবং রাচিন রবীন্দ্র (১৭)। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলের ইনিংসের হাল ধরেন ড্যারেল মিচেল এবং টম লাথাম। শুরুর ধাক্কা সামলে দিলেও বড় রান করতে পারেননি লাথাম (২৪)। মিচেল অবশ্য পিচের এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন। পঞ্চম উইকেটে তিনি জুটি বাঁধেন মাইকেল ব্রেসওয়েলের সঙ্গে। তাঁদের জুটিতে ওঠে ৯২ রান। যা নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে দেয়। ব্রেসওয়েল করেন ৫১ বলে ৫১ রান। মারেন ৬টি চার। ১টি চার এবং ২টি ছয়ের সাহায্যে স্যান্টনার করেন ২৫ বলে ২৭। শেষ পর্যন্ত মিচেলের সঙ্গে ২২ গজে ছিলেন নাথান স্মিথ (অপরাজিত ৫)। মিচেল খেলেন ৯১ বলে ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৭টি চার এবং ২টি ছয়।
ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার কার্স ৪৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ৫৪ রনে ১ উইকেট উডের। ৬৯ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন রশিদ।
তবে ম্যাচ হারলেও হ্যারি ব্রুকের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার স্মৃতি অনেকদিন মনে থাকবে সমর্থকদের।








