BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

সিনেমা সমাজের আয়না, নাকি বিনোদনের বাজার?

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৫২ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৫২

বিশ্বজিৎ বৈদ্য

আরও পড়ুন:

বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে শিল্পের প্রতিটি রূপই সমাজকে বোঝার এক বিশেষ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। চিত্রকলা, ভাস্কর্য, সংগীত কিংবা সাহিত্য — সবই এক অর্থে সময়ের মানসিকতা, বিশ্বাস ও দ্বন্দ্বকে ধারণ করে। বিংশ শতাব্দীর সূচনায় আবির্ভূত সিনেমা বা চলচ্চিত্রও সেই একই ধারার উত্তরসূরি, তবে একে আধুনিকতার পরম প্রতীক বলা চলে। কারণ, সাহিত্য বা চিত্রকলার তুলনায় সিনেমা অনেক দ্রুত ও বহুমাত্রিক উপায়ে বৃহত্তর জনমানসে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। জন্মলগ্ন থেকেই সিনেমাকে ঘিরে একটি দ্বন্দ্ব প্রবল হয়ে উঠেছে — এটি কি কেবলই বিনোদনের এক মোহময় দুনিয়া, নাকি সমাজের অন্তর্লীন স্রোতকে প্রতিফলিত করার আয়না? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য সিনেমার ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকে সমান্তরালে দৃষ্টি দিতে হবে।

আরও পড়ুন:

চলচ্চিত্রের জন্ম ১৮৯৫ সালে, যখন লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় ফ্রান্সে তাঁদের সংক্ষিপ্ত দৃশ্যচিত্র প্রদর্শন করেন। শুরুর সেই সময় সিনেমা ছিল নিছক চমকপ্রদ দৃশ্যাবলী প্রদর্শনের একটি প্রযুক্তি, যেখানে ট্রেনের আগমন বা কারখানার শ্রমিকদের বেরোনোই ছিল দর্শকের বিস্ময়ের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু অচিরেই চলচ্চিত্রকারেরা উপলব্ধি করেন, ক্যামেরার এই যন্ত্র কেবল চিত্রধারণে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, সংগ্রাম ও সামাজিক বাস্তবতার দলিল রচনাতেও সক্ষম। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সিনেমা হয়ে ওঠে গল্প বলার, বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এবং সমাজের অন্তর্লীন অস্থিরতাকে প্রকাশ করার এক অন্যতম মাধ্যম।

আরও পড়ুন:

ভারতে সিনেমার আগমন ১৯১৩ সালে দাদাসাহেব ফালকের রাজা হরিশচন্দ্র চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তখনকার দিনে ভারতের সামাজিক প্রেক্ষাপট ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের দমননীতি ও জাতীয়তাবাদের উত্থানের সংমিশ্রণে পূর্ণ। ফলে সিনেমাও ক্রমশ জাতীয় চেতনার এক বাহন হয়ে উঠতে শুরু করে। ফালকের পৌরাণিক কাহিনী নির্ভর চলচ্চিত্র দর্শককে কেবল বিনোদনই দেয়নি, বরং একদিকে ঐতিহ্যের প্রতি আস্থা জাগিয়েছে, অন্যদিকে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আত্মপরিচয়ের বোধকে উসকে দিয়েছে। এই ধারা পরবর্তী কালে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন প্রমথেশ বড়ুয়া, হিমাংশু রায়, ঋত্বিক ঘটক কিংবা সত্যজিৎ রায় তাঁদের সিনেমার মাধ্যমে সমকালীন সমাজের সংকটকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন।

আরও পড়ুন:

আসলে সিনেমাকে সমাজের আয়না বলার প্রমাণ খুঁজতে গেলে আমাদের দেখতে হবে কিভাবে চলচ্চিত্র সময়ের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বকে আত্মস্থ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৫০–৬০-এর দশকে ভারতীয় সমাজ ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন, বিভাজনের যন্ত্রণা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বন্দ্বে ভরপুর। এই সময়ের সিনেমা যেমন রাজ কাপুরের আওয়ারা বা শ্রী ৪২০—শহুরে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও নৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। অন্যদিকে সত্যজিৎ রায়ের অপু ত্রয়ী (পথের পাঁচালি, অপরাজিত, অপুর সংসার) গ্রামীণ দারিদ্র্য, স্বপ্ন ও বাস্তবতার সংঘাতকে অসামান্য সংবেদনশীলতায় পর্দায় রূপ দিয়েছে। এইসব সিনেমা প্রমাণ করে, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের উৎস নয়, বরং সমাজতাত্ত্বিক দলিল হিসেবেও কাজ করে।

আরও পড়ুন:

তবে এখানেই আরেকটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়—সিনেমা কি সর্বদা সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করেছে? নাকি বাজারের চাপ, দর্শকের রুচি ও বিনোদনের চাহিদা তাকে এক ‘পণ্য’তে পরিণত করেছে? বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে বিশেষত বলিউড বা হলিউডে সিনেমা হয়ে ওঠে এক বিশাল শিল্প, যেখানে প্রযোজনা সংস্থা, তারকা সংস্কৃতি ও বিপুল অর্থনৈতিক বিনিয়োগ প্রধান চালিকাশক্তি। এই প্রেক্ষাপটে বহু চলচ্চিত্র নির্মাতার প্রধান লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন। ফলে বিষয়বস্তু নির্বাচনে সমাজের সমস্যার পরিবর্তে অগ্রাধিকার পায় রোমান্স, অ্যাকশন, কমেডি বা কল্পনার জগৎ। দর্শককে অস্থায়ী স্বস্তি প্রদান করাই হয়ে ওঠে উদ্দেশ্য। এই বাজারকেন্দ্রিক মানসিকতা সিনেমাকে প্রায়শই বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

তবে এখানেই সিনেমার দ্বৈত চরিত্র ফুটে ওঠে। একদিকে এটি নিছক বিনোদনের বাজার, অন্যদিকে সমাজ-রাজনীতি-সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। উদাহরণস্বরূপ, হলিউডের চলচ্চিত্র মডার্ন টাইমস (চার্লি চ্যাপলিন) শিল্পায়নের যুগে শ্রমিকের যন্ত্রনির্ভর জীবনের কাহিনী শোনায়, যা ছিল স্পষ্ট সামাজিক সমালোচনা। আবার একই সঙ্গে হলিউডই তৈরি করেছে অ্যাভেঞ্জারস বা স্পাইডার-ম্যান সিরিজের মতো চলচ্চিত্র, যেখানে মূলত ফ্যান্টাসি ও বাজারজাতকরণই মুখ্য। ভারতের ক্ষেত্রেও আমরা একদিকে পাই ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারা বা মৃণাল সেনের ভুবন সোম — যেখানে সমাজের বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত হয়, অন্যদিকে সমসাময়িক বলিউডে পাই আইটেম গান, অতিরঞ্জিত অ্যাকশন দৃশ্য আর পণ্যায়িত নায়কতন্ত্র।

আরও পড়ুন:

এখন প্রশ্ন আসে, গবেষণাধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে সিনেমাকে কোন খোপে ফেলা যায়? সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব বলছে, সিনেমা হলো ‘কালচারাল টেক্সট’ — যেখানে সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ, দ্বন্দ্ব, লিঙ্গবিন্যাস, শ্রেণি বৈষম্য ও রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিফলিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭০-এর দশকের ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’-এর ভূমিকায় অমিতাভ বচ্চন আসলে ভারতীয় সমাজে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও শ্রেণি বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুবকের ক্ষোভকে প্রকাশ করেছিলেন। একইভাবে দক্ষিণ ভারতের সিনেমায় ভক্তিমূলক ধারার প্রাবল্য স্থানীয় সামাজিক-ধর্মীয় কাঠামোকে প্রতিফলিত করে। আবার নারীবাদী সিনেমা যেমন দীপা মেহতার ফায়ার বা ওয়াটার ভারতীয় সমাজে নারীর অধিকার ও যৌনতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।

আরও পড়ুন:

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিনেমা নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী শিল্প। ফিকি (FICCI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে আরও দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা। এই বিপুল অর্থনৈতিক কাঠামো সিনেমাকে কেবল সমাজচিত্রের দলিল হতে দেয় না, বরং তাকে ভোগ্যপণ্য বানিয়ে ফেলে। একদিকে যেমন স্বাধীন চলচ্চিত্রকারেরা সীমিত বাজেটে বাস্তব সমস্যার সিনেমা নির্মাণ করছেন, অন্যদিকে বড় প্রযোজনা সংস্থা বাজারমুখী ‘মসালা’ ছবিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। ফলে সিনেমার ভেতরে সমাজের প্রতিফলন ও বিনোদনের বাজার—দুটি প্রবণতাই পাশাপাশি বিদ্যমান।

আরও পড়ুন:

ডিজিটাল যুগে এসে সিনেমার চরিত্র আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম যেমন নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম বা হটস্টার দর্শকের সামনে নতুন ধারা খুলে দিয়েছে। এখানে যেমন সমাজমুখী কনটেন্ট (দ্য কাশ্মীর ফাইলস, আর্টিকেল ১৫, পঞ্চায়েত) তৈরি হচ্ছে, তেমনই বাজারকেন্দ্রিক ওয়েব সিরিজও আসছে যেখানে চটকদার কাহিনী, সহিংসতা ও যৌনতার প্রদর্শনই প্রধান। ফলে প্রশ্ন জটিলতর হয়েছে — সিনেমা আসলে সমাজের আয়না নাকি কেবল বিনোদনের বাজার?

আরও পড়ুন:

এই দ্বন্দ্বের সমাধান খুঁজতে গেলে আমাদের হয়তো স্বীকার করতে হবে যে সিনেমা একযোগে দুটো ভূমিকা পালন করে। এটি কখনো আয়না, যেখানে সমাজের সুখ-দুঃখ, বৈষম্য, সংগ্রাম ও স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়। আবার কখনো এটি এক বিশাল বাজার, যেখানে দর্শকের আবেগকে পুঁজি করে মুনাফা অর্জনই মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু এখানেই সিনেমার আসল শক্তি নিহিত। কারণ একে কেবল সমাজের আয়না বললে বিনোদনের প্রভাবকে অস্বীকার করা হবে, আর কেবল বাজার বললে সামাজিক প্রতিফলনের শক্তিকে খাটো করা হবে।

আরও পড়ুন:

তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সিনেমার বাজারমুখী চরিত্রকেও উপেক্ষা করা উচিত নয়, কারণ বিনোদনের মাধ্যম দিয়েই অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়। যেমন আমির খানের ‘তারে জমিন পার’ সিনেমাটি ছিল বাণিজ্যিক সাফল্য, কিন্তু একইসঙ্গে এটি শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ও ডিসলেক্সিয়া আক্রান্ত শিশুদের সমস্যা নিয়ে সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আবার ‘পিঙ্ক’ বা ‘কাহানির’ মতো ছবিও বিনোদনের পাশাপাশি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোড়ন তুলেছিল। সুতরাং সিনেমার বাজারকেন্দ্রিক দিকও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে।

আরও পড়ুন:

অবশেষে বলা যায়, সিনেমাকে একমাত্রিকভাবে বিচার করা যায় না। এটি একদিকে প্রযুক্তির বিস্ময়, অন্যদিকে শিল্পের পরম রূপ। এর ভেতরেই জড়িয়ে আছে সমাজের ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। সিনেমা যেমন আমাদের হাসায়, কাঁদায়, স্বপ্ন দেখায়, তেমনি প্রশ্ন তোলে, প্রতিবাদ গড়ে তোলে, ন্যায়ের দাবি জানায়। তাই সিনেমা কখনো নিছক বিনোদনের বাজার, আবার কখনো সমাজের নির্লজ্জ আয়না। এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই সিনেমার প্রকৃত শক্তি নিহিত।

আরও পড়ুন:

(লেখক: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder