ভঙ্গুর ব্যাটিংয়ে ওয়ান ডে’তে বেহাল বেঙ্গল টাইগাররা।
নিজস্ব সংবাদদাতা।
টি-টোয়েন্টিতে সাড়া জাগানো বাংলাদেশ ওয়ান ডে’তে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।এরজন্য অবশ্যই দায়ী থাকবে জাকের,সোহানদের
ব্যাটিং ব্যর্থতা। আফগানিস্তানের কাছে টানা তিন তিনটে ওয়ানডে সিরিজ হারল বাংলাদেশ।গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ান ডে’তে কাবুলিওয়ালার দেশের কাছে ৮১ রানে হেরেছে টাইগাররা। সিরিজের প্রথম ম্যাচ ৫ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে এক ম্যাচ বাকী থাকতে আফগানিস্তান সিরিজ নিশ্চিত করে ফেললো।
২০২৩ ও ২০২৪ সালে তিন ম্যাচের সর্বশেষ দুই সিরিজেও ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এছাড়া নিজেদের ওয়ানডেতে টানা চতুর্থ সিরিজ হারল টাইগাররা। এরমধ্যে আফগানিস্তানের কাছে দু’বার, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলংকার কাছে একবার করে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ।
এদিন আবু ধাবি’র শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ১১ রান করা রহমানুল্লাহ গুরবাজ শিকার হন তানজিম হাসান সাকিবের।
নবম ওভারে প্রথম আক্রমণে এসেই উইকেট তুলে নেন স্পিনার তানভীর ইসলাম। তিন নম্বরে নামা সেদিকুল্লাহ আতালকে ৮ রানে শিকার করেন তিনি।
দলীয় ৬৫ রানে পায়ের ইনজুরিতে রিটায়ার্ড হার্ট হন ৯ রানে থাকা রহমত শাহ। তার ফেরার পর দুই ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান। ৪ রান করা আফগান অধিনায়ক হাসমতুল্লাহ শাহিদিকে আউট করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক আজমতুল্লাহ ওমারাজাইকে রানের খাতা খুলতে দেননি আরেক স্পিনার রিশাদ হোসেন। এতে ৭৯ রানে ৪ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
পঞ্চম উইকেটে ৩৯ রানের জুটিতে আফগানিস্তানের রান একশো পার করেন জাদরান ও নবি জুটি। এই জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ৭০ বল খেলা জাদরান।
৩০তম ওভারের প্রথম বলে নবিকে শিকার করে জুটি ভাঙেন তানজিম। ২২ রান করেন নবি। এরপর নাঙ্গোলিয়া খারোতেকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন জাদরান। এই জুটি ৩৬ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি। ১৩ রানে রান আউট হন খারোতে।
রশিদ খানকে ১ রানে শিকার করে দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পান মিরাজ। ১৫৭ রানে সপ্তম উইকেট পতনের পর আফগানিস্তানের রানের গতি বাড়ান জাদরান ও এএম গাজানফর। অষ্টম উইকেটে ৩২ বলে ৩১ রান তুলে আফগানদের দু’শ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান তারা। কিন্তু ২ রানের ব্যবধানে জাদরান ও গাজানফর আউট হলে আফগানদের ২০০ রান পাওয়া হুমকির মুখে পড়ে। কারণ ১৯০ রানে নবম উইকেট হারায় আফগানরা।
এসময় শেষ ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে ফেরেন ১৫তম ওভারে আহত অবসর নেওয়া রহমত। কিন্তু ১ বলের বেশি খেলতে পারেননি তিনি। পায়ের ইনজুরিতেই হুইলচেয়ারে মাঠ ছাড়েন রহমত। এতে ৪৪.৫ ওভারে ১৯০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।
মিরাজের তৃতীয় শিকার হয়ে ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন জাদরান। ১৪০ বল খেলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৯৫ রান করেন জাদরান।
১০ ওভারে ৪২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার মিরাজ। এছাড়া রিশাদ-তানজিম ২টি করে এবং তানভীর ১ উইকেট নেন।
১৯১ রানের টার্গেট খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই ওপেনার তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের পেসার ওমারাজাইর বলে আউট হয়ে খালি হাতে ফিরেন তানজিদ।
পঞ্চম ওভারে রান আউটের ফাঁদে পড়ে ৭ রানে থামেন তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৫০ রানের মধ্যে আরও ২ উইকেট পতনে বিপদে বাড়ে টাইগারদের। ওপেনার সাইফ হাসানকে ২২ ও মিরাজকে ৪ রানে শিকার করেন ওমারজাই।
ওমারাজাইর তোপ সামলে জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি ও নুরুল হাসান। পঞ্চম উইকেটে হৃদয়ের সাথে ২৯ ও ষষ্ঠ উইকেটে নুরুলকে নিয়ে ২০ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি জাকের।
আফগানিস্তানের স্পিনার রশিদ খানের ঘূর্ণিতে পড়ে ৯৯ রানে অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। হৃদয় ২৪, নুরুল ১৫ ও তানজিম শূন্য রানে রশিদের শিকার হন। ৪৩ বলে ১৮ রান করে খারোতের বলে আউট হন জাকের। শেষ পর্যন্ত ২৮.৩ ওভারে মাত্র ১০৯ রানে অলআউট হয় টাইগাররা।
আফগানিস্তানের স্পিনার রশিদ ৮.৩ ওভার বল করে ১৭ রানে ৫ উইকেট নেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই ক্যারিয়ার সেরা বোলিং রশিদের।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশের ভরাডুবির ময়না তদন্ত।আর কবে সাবালক হবে মেহেদী,জাকেররা!








