৩১ হাজার পরিযায়ী পরীক্ষার্থী ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে কর্মসংস্থানের কঙ্কালসার চেহারা পরীক্ষা দিলেন বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর: এতদিন শোনা যাচ্ছিল পরীযায়ী শ্রমিকদের কথা। রবিবার এসএসসি পরীক্ষায় দেখা গেল পরিযায়ী পরীক্ষার্থীদের ভিড়। এদিন কলকাতা ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভিন রাজ্য থেকে এসে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে গেলেন তারা। জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, দিল্লি, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ইত্যাদি নানা রাজ্য থেকে এদিন তারা বাংলায় পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। এদের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজারেরও বেশি, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১০ শতাংশ।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিজেপি বা এনডিএ শাসিত ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে ঢালাও সরকারি চাকরি বা বিপুল কর্মসংস্থানের যে ফানুস ওড়ানো হয়, এদিন তা চুপসে গিয়েছে। বিজেপি নেতাদের দাবি যে জুমলা, তা পরিযায়ী পরীক্ষার্থীর ঢল দেখে প্রমাণ হয়েছে। এই পরিসংখ্যান বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর কর্মসংস্থানের মিথ ভেঙে দিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ থেকে আগত কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানালেন, যোগীরাজ্যে সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ নেই। অধিকাংশ নিয়োগ হচ্ছে চুক্তিভিত্তিক বা ঠিকার ভিত্তিতে। তিনবার পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। তাই তারা আর ভরসা করতে না পেরে বাংলায় পরীক্ষা দিতে এসেছেন। শুধু উত্তরপ্রদেশ থেকেই এদিন এক হাজারেরও বেশি এসএসসি পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন।
•
তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, কয়েক মাস আগে বিহারে চাকরি দিতে যাওয়া বাংলার পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বিরাট হইচই হয়। এখানে না হয় আইনি জটিলতায় নিয়োগ থমকে রয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নাকি চাকরির ছড়াছড়ি। মুড়ি মুড়কির মতো চাকরি পাওয়া যায় ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে। তাহলে কেন দলে দলে ওইসব রাজ্য থেকে তরুণ-তরুণীদেরকে পশ্চিমবঙ্গের মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে? এতেই তো ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলোর কর্মসংস্থানের বেহাল দশা ধরা পড়ল।
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, এসএসসিতে ভিন রাজ্যের এত পরীক্ষার্থীর বিষয়টা অস্বাভাবিক। অবিশ্বাস্য লাগছে। এটা স্বাভাবিক ঘটনা নয়। আসলে টাকা দিলেই যে বাংলায় চাকরি মেলে, এটা সারা দেশে জানাজানি হয়ে গেছে। তাহলে কি টাকার থলি নিয়েই এখানে এসএসসি পরীক্ষা দিতে এসেছেন ভিন রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরা?
উত্তরপ্রদেশে ২০১৯ সালের পর থেকে সরকারি শিক্ষক নিয়োগই হয়নি। প্রশ্নফাঁস, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির কারণে তিনবার পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। এদিকে আজকের এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিপিএম, তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে দড়ি টানাটানি বা ব্লেম-গেম চলছে। তৃণমূলের দাবি, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে; তবু কেন এত কাদা ছোড়াছুড়ি?
সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপির অভিযোগ, ২৬ হাজার শিক্ষককে পথে বসিয়েছে যে রাজ্য সরকার, তাদের মুখে এখন এ কথার কোনও মানে নেই। ৯ বছর পর এসএসসি পরীক্ষা হওয়া নিয়েই কটাক্ষ করছে বিরোধী দলগুলো। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য থেকে পরীক্ষার্থীরা এসেছিলেন বাংলায়। ওই রাজ্যগুলিতে কর্মসংস্থানের ভয়ঙ্কর অবস্থার কথা তাঁরাই তুলে ধরেছেন। সেই জায়গায় বাংলায় সুষ্ঠু পরিবেশের কারণে তাঁরা যে আশার আলো দেখছেন, সেটাও জানিয়ে গিয়েছেন।
অন্যদিকে, নির্বিঘ্নে পরীক্ষা মিটলেও স্বচ্ছতার প্রশ্নে রাজ্যকে ক্লিনচিট দিতে রাজি নন সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, আদালতের চাপে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তাই এই পরীক্ষা কতখানি স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে, তার উত্তর সময়ই দেবে।








