এশিয়া কাপের আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সিতে আসতে পারে নতুন পৃষ্ঠপোষক, বিসিসিআই শুরু করেছে দরপত্র প্রক্রিয়া
এশিয়া কাপের আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সিতে আসতে পারে নতুন পৃষ্ঠপোষক, বিসিসিআই শুরু করেছে দরপত্র প্রক্রিয়া
নতুন পয়গাম, ২ সেপ্টেম্বর : ভারতীয় ক্রিকেটে সামনে আসতে চলেছে এক বড় আর্থিক পরিবর্তন। আসন্ন এশিয়া কাপ ২০২৫-এ ভারতীয় দলের জার্সিতে নতুন পৃষ্ঠপোষক যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ামক বোর্ড (বিসিসিআই) প্রধান পৃষ্ঠপোষকত্ব অর্জনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহপত্র আহ্বান করেছে, যা ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
দরপত্র সংক্রান্ত নথি থেকে জানা গিয়েছে, বিসিসিআই শুধুমাত্র বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলির কাছ থেকেই আবেদন চাইছে। তবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য স্পষ্ট শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে—ক্রিপ্টোকারেন্সি, অনলাইন খেলা বা তামাক-সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না।
আবেদনকারীদের আর্থিক সামর্থ্যের ক্ষেত্রেও কড়া শর্ত রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, গত তিন বছরের গড় বার্ষিক আয় বা সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা থাকতে হবে। অন্যদিকে, আগ্রহপত্র সংগ্রহের ফি ধার্য করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা (মুল্য সংযোজন কর-সহ ৫.৯ লাখ টাকা)। এই প্রক্রিয়া শেষ হবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নথি সংগ্রহের মাধ্যমে এবং ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা।
ড্রিম ইলেভেন নামের অনলাইন গেম সংস্থা প্রধান পৃষ্ঠপোষকতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পরই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতের অনলাইন গেম আইন কার্যকর হওয়ার পর সংস্থাটি স্বেচ্ছায় চুক্তি ভেঙে দেয়। সেই সময় তাদের চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ৩৫৮ কোটি টাকা (প্রায় ৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্য)।
ফলে এমনও হতে পারে, এশিয়া কাপ (৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়ার সময় ভারতীয় দলকে পৃষ্ঠপোষকবিহীন জার্সি পরেই খেলতে নামতে হবে, কারণ আগ্রহপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া তখনও চলবে। তবে বিসিসিআই ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে—যা শুধু এই প্রতিযোগিতা নয়, বরং সরাসরি ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
ক্রিকেট মহলে এখন জোর আলোচনা, কে হতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন পৃষ্ঠপোষক। আলোচনায় রয়েছে টাটা, রিলায়েন্স (জিও), আদানি গোষ্ঠী, মহিন্দ্রা, টয়োটা প্রভৃতি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান।
এই সিদ্ধান্ত কেবল আর্থিক দিক থেকেই নয়, বরং দেশের আইন প্রয়োগ, বিজ্ঞাপনের নীতি ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ভারতীয় ক্রিকেট ও কর্পোরেট জগতের এই নতুন সম্পর্ক ভবিষ্যতে নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।








