ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক খেলা বন্ধ, বহুপাক্ষিক আসরেই মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী
নতুন পয়গাম: ভারত-পাকিস্তান ক্রীড়া সম্পর্ক নিয়ে বড় ঘোষণা করল ভারতের ক্রীড়া মন্ত্রক। জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে আর কোনো দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া সিরিজ দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে না। তবে বহুপাক্ষিক টুর্নামেন্ট যেমন এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ বা অলিম্পিকস—সেসব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারত অবশ্যই অংশ নেবে। এর ফলে মাঠে ভারত-পাকিস্তান লড়াই কেবল বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক আসরেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরেই দুই প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ক্রীড়াঙ্গন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। ২০১২ সালের পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কোনো পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট সিরিজ হয়নি। কেবলমাত্র আইসিসি টুর্নামেন্ট বা এশিয়া কাপেই দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। এবার সরকারিভাবে ক্রীড়া মন্ত্রক জানিয়ে দিল, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের কোনো সুযোগ নেই।
মন্ত্রকের এই ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রীড়ামহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এশিয়া কাপ বা বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই কোটি কোটি দর্শককে টিভির সামনে টেনে আনে। তাই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হলেও এই বহুপাক্ষিক ম্যাচগুলোই দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও উসকে দেবে। তবে অনেকেই মনে করছেন, খেলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত ছিল।
ক্রীড়া মন্ত্রকের যুক্তি ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ দেশের সম্মান ও দায়িত্ব। সুতরাং বহুপাক্ষিক আসরে ভারত খেলবে, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে আলাদা করে সিরিজ খেলার প্রশ্নই ওঠে না। যদি পাকিস্তান ভারত আয়োজিত কোনো বহুপাক্ষিক টুর্নামেন্টে খেলতে অস্বীকার করে, তবে দায়ভার সম্পূর্ণ তাদের ওপর বর্তাবে।
এই সিদ্ধান্ত কেবল ক্রিকেট নয়, ফুটবল, হকি বা কুস্তি—সব ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। যদিও বাস্তবে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ক্রিকেটে, কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতিগত অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের অবস্থান দুর্বল করবে না। বরং বিশ্বমঞ্চে ভারতের ধারাবাহিক অংশগ্রহণই দেশের ক্রীড়া শক্তিকে আরও প্রমাণ করবে।
ক্রীড়াপ্রেমীদের আশা, রাজনীতির সীমারেখা সত্ত্বেও অন্তত বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপের মতো টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান লড়াই চলবে। কারণ এই ম্যাচগুলোই যে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে সবচেয়ে বড় উৎসব, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।








