গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..!
নতুন পয়গাম, বানারহাট: গাছের পাতা নড়ুক চাই না নড়ুক, গরম পড়লেই ব্রেকডাউনের নামে দিনে ৭০ বার বিদ্যুতের ঝটকা, বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই —বিদ্যুৎ দপ্তর নীরব!: এটা লোডশেডিং নয়। এটা বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রহসন। একবার ব্রেকডাউন হলেই প্রতি মিনিটে ৫-৬ বার লাইন কাটা আর জোড়া হচ্ছে। সারাদিনে ৬০-৭০ বার। গয়েরকাটা, নাথুয়া, আংরাভাসার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তবু বিদ্যুৎ দপ্তরের মুখে কুলুপ আঁটা। জনরোষের ভয়ে শুধু গয়েরকাটা ব্রিজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ব্রিজের ওপারে একবার বিদ্যুৎ গেলে ফেরার কোনো নিশ্চয়তা নেই। মিনিটে, সেকেন্ডে সেকেন্ডে বিদ্যুৎ আসছে-যাচ্ছে। চলছে শুধু সুইচ টেপাটেপির খেলা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, অদক্ষ মিস্ত্রি আর দায়িত্বজ্ঞানহীন অপারেটর দিয়ে কেন বারবার লাইন চার্জ করা হচ্ছে? বিভিন্ন কারখানার মেশিন এর ফলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফল্ট না খুঁজে শুধু চালু-বন্ধ করা হচ্ছে কেন? এভাবে খেলতে গিয়ে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে? দপ্তর না ওই মিস্ত্রি? গয়েরকাটার সুনীল রায় বলছেন, অকর্মণ্য মিস্ত্রি এনে ফল্ট না খুঁজেই লাইন চালু করে দিচ্ছে। প্রতি মিনিটে কারেন্ট যায়-আসে।
ছোট বাচ্চা নিয়ে ভয়ে থাকি। কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে কে জানে। নাথুয়ার বাসিন্দা প্রদীপ সরকার বলেন, গত সপ্তাহে আমার জলের মোটর পুড়ে গেছে। কয়েক হাজার টাকার জিনিস নষ্ট হল। বিল দু’দিন দেরি হলেই লাইন কাটতে চলে আসে। আর আমাদের জিনিস নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ কে দেবে? দপ্তর চুপ করে আছে। আংরাভাসার গৃহবধূ সাবিত্রী বর্মন বললেন, শুধু গয়েরকাটা বাজার পর্যন্ত আলো জ্বলে। আমরা অন্ধকারে পড়ে আছি। বিদ্যুৎ দফতরে ফোন করলে বলে ব্রেকডাউন। তারপর ৫০-৭০ বার মিনিটে মিনিটে কারেন্ট যাবে আসবে তারপর ঠিক হবে। এত সুইচ টেপাটেপির খেলা হয় কেন? ছেলেমেয়ের পড়াশোনা বন্ধ, ঘরে বয়স্ক মানুষ। এই গরমে কীভাবে বাঁচব? আসল সমস্যা একটাই। ফল্ট সারানোর কোনো উদ্যোগ নেই। অদক্ষ মিস্ত্রি আর অনভিজ্ঞ অপারেটর দিয়ে শুধু লাইন অন-অফ করানো হচ্ছে। তাতেই টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান সব পুড়ে যাচ্ছে। মানুষের ক্ষতি, আতঙ্ক, রাগ— কিছুতেই দপ্তরের ভ্রুক্ষেপ নেই।
অথচ বিলের টাকা আদায়ে এরা সবার আগে। একদিন দেরি হলেই হুমকি, লাইন কাটা। মাসের পর মাস মানুষকে অন্ধকারে রেখে, জিনিসপত্র নষ্ট করেও এদের লজ্জা নেই। অনেক চিঠি, অনেক ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। মালবাজার ডিভিশনে জানিয়েও কোনো ফল হয়নি। আর নয়। এবার এলাকার সবাই এক হচ্ছে। সরাসরি মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানো হবে। দুরামারির বাসিন্দা বিকাশ দাস বলছেন, দপ্তর কানে তুলো গুঁজে আছে। এবার রাস্তায় নামব। পথ অবরোধ হবে, দপ্তর ঘেরাও হবে।অকর্মণ্য মিস্ত্রি সরিয়ে দক্ষ লোক দিয়ে স্থায়ী সমাধান চাই। না হলে লাগাতার আন্দোলন হবে। নষ্ট হওয়া যন্ত্রের দাম আর দুর্ঘটনার দায় দপ্তরকেই নিতে হবে। এবিষয়ে মালবাজার বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের সঙ্গে ফোনে পাওয়া যায়নি তাই বিদ্যুৎ দপ্তরের কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।








