ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে দিশা দেখাচ্ছে ‘এডুসলভ এডুটেক’, দেশী-বিদেশী অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হল সমাবর্তন
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ২৬ এপ্রিল: অনেকে ছোট থেকে স্বপ্ন দেখেন ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু কখনো মধ্যমেধা, আবার কখনো আর্থিক সমস্যা, স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এ সফল হলেও সরকারিভাবে পড়াশোনার সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন অনেকেই। তাদের স্বপ্ন সফল করতে দিশা দেখাচ্ছে “এডুসলভ এডুটেক প্রাইভেট লিমিটেড”। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ডা. রাকেশ হোসেন ও সম্পাদক ইনজামুল হক মিদ্যা বলেন, পশ্চিমবাংলা থেকে কিরগিজস্তান, কাজাকিস্তান-সহ প্রায় ১০ টি দেশে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ করে দিই আমরা। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা থেকে বিদেশে ডাক্তারি পড়ে সফলভাবে দেশে ফিরেছেন অন্তত ৩০০ শিক্ষার্থী। বিদেশে পড়াশোনা করছেন প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী।

কিরগিজস্তান পাস আউট ৫০ জন সফল ডাক্তারকে নিয়ে রবিবার কলকাতায় সমাবর্তন উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সফল ডাক্তারা বিদেশে ডাক্তারি পড়ার অভিজ্ঞতা উপস্থিত নতুনদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। অন্যদিকে, নতুনদের পথচলা সহজ করতে উপস্থিত বিশিষ্টজনরা অনুপ্রাণিত করেন। উপস্থিত ছিলেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আয়াতুল্লাহ ফারুক মোল্লা প্রমুখ। কিরগিজস্তানের প্রখ্যাত চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
“এডুসলভ এডুটেক প্রাইভেট লিমিটেড”-এর মাধ্যমে কিরগিজস্তানের “ইন্টারন্যাশনাল হাইস্কুল অফ মেডিসিন” থেকে ডাক্তারি কোর্স সম্পন্ন করে আসা সুস্মিতা, সিরিন, সবনম-রা বলেন, “মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি, স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়া, কিন্তু প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করলেও সরকারিভাবে পড়াশোনার সুযোগ হয়নি র্যা ঙ্ক বেশি হওয়ার কারণে। শেষমেষ এডুসলভ এডুটেক-এর মাধ্যমে দেশের থেকে অনেক কম খরচে কিরগিজস্তান থেকে ডাক্তারি পাস করেছি। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, এখানকার সঙ্গে ওখানকার পড়াশোনার বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। সংস্থার পক্ষ থেকে আমাকে দারুনভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ এডুসলভ এডুটেক সংস্থার প্রতি।”
অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রফিকুল ইসলাম এডুসলভ এডুটেক-এর কর্মকর্তাদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। সংস্থার পক্ষ থেকে হবু ডাক্তারদের অনুপ্রাণিত করে এডুসলভ-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. রাকেশ হোসেন বলেন, এখানে অনেক সফল ডাক্তার এসেছেন। নতুনদের জানা-বোঝার সুযোগ রয়েছে তাদের কাছ থেকে। অনেকের বাবা-মা টেনশনে আছেন, ওখানে কতটা সাকসেস হবে, ওখান থেকে পাস করে এসে এ রাজ্যে রেজিস্ট্রেশন পাবে কিনা, সেটা নিয়ে অনেক সংশয় রয়েছে। আমরা আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, আপনাদের এখানে এসে রেজিস্ট্রেশন না পাওয়া পর্যন্ত সাথে থাকব। যেকোন সমস্যায় আমরা পাশে থাকব। অনেকেই সফল ডাক্তার হয়ে রাজ্যে ফিরে এসে চিকিৎসক হিসেবে মানবসেবায় কর্মরত। অনেকে মেডিকেল অফিসার হয়েছেন। তাই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখলে, আমরা সেই স্বপ্ন সফল করতে সর্বদা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এদিনের অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে স্মৃতিময় ও প্রাণবন্ত। শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল প্রেরণাদায়ক বক্তব্যের পাশাপাশি অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা মূল্যবান অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান এডুসলভ এডুটেক কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ধরনের অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের অনুপ্রাণিত করবে এবং তাঁদের পেশাগত জীবনে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানবতার প্রতি আজীবন অঙ্গীকার — এই বোধকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করাই এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।








