সঞ্জুর দুরন্ত ব্যাটিং, সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করলো ভারত
এম.রহমান, নতুন পয়গাম, কলকাতা: যতই জয় শাহ নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে বড় ম্যাচগুলো দিক, ইডেন যে ভারতের জন্য কতটা পয়া তা কাল আবার প্রমাণ হয়ে গেল। শব্দবহ্মের চাপে শিমরন হেটমায়ার চার ছাড়লেন,হোল্ডার ছাড়লেন ক্যাচ। ফলে সেমির টিকিট পেতে কষ্ট হয়নি ভারতের। সঞ্জুর শট বাউন্ডারি পার হতেই গর্জে উঠলো ইডেন। এক মুহূর্তের জন্য যেন সত্তর হাজার মানুষ একসঙ্গে স্বস্তির শ্বাস নিলেন। তারপর যা কানে এল, তাকে শুধু শব্দ বলা যায় না। ছিল আবেগের বিস্ফোরণ। আনন্দে আত্মহারা প্রত্যেকে। ভারতের ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার আবার হাত শূ্ন্যে তুলে দাঁড়িয়ে। দু’চোখ বন্ধ! নন্দনকাননের চারিদিক থেকে প্রশংসার ঢেউ আছড়ে পড়ছে তাঁর গায়ে। ম্যাচ জিতিয়ে ডাগ-আউটে ফেরার পথে সঞ্জু স্যামসনের মুখেও তৃপ্তির হাসি। তাঁর ব্যাটেই যে রবিবার নন্দনকাননে বেসুরো হয়েছে ক্যালিপসো। প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে তুলেছিল ১৯৫। জবাবে ৪ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে জয়ের কড়ি তুলে নেয় ভারত (১৯৯-৫)। নায়ক স্যামসনের অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস সাজানো ছিল এক ডজন বাউন্ডারি ও ৪টি বিশাল ছক্কায়। কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালের ক্যারিবিয়ান হার্ডলস পেরিয়ে যা হাতে ধরাল সেমি-ফাইনালের টিকিট।
এদিন টস ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির টোটকা ছিল ইডেনে রান তাড়ার। পরের দিকে পিচ সহজ হয়ে যায় বলেই এহনে পরামর্শ। এদিন ভারত ঠিক তাই করল। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে হারের পর অনেকেই অবশ্য টিম ইন্ডিয়ার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ইডেন গার্ডেন্সে ভারতের জয়ের ধ্বজা পতপত করে উড়িয়ে সূর্যরা জানান দিলেন, আমরা ফুরিয়ে যাইনি। ভারত ফুরিয়ে যেতে পারে না। ২০১৬ টি-২০ বিশ্বকাপে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে রান তাড়ায় সতর্ক ছিলেন গম্ভীরের ছেলেরা। ১৯৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা দেখেশুনে করেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। তবে অপর ওপেনার অভিষেক (১৬) বোধহয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক্সপোজ হয়ে গিয়েছেন। দলগত ২৯ রানে ভুল শট খেলে আকিল হোসেইনকে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে এলেন তিনি। তিনে নামা ঈশান কিষানও (১০) ব্যর্থ। তবে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে তৃতীয় উইকেটে ৫৮ রান যোগ করেন সঞ্জু-সূর্যকুমার জুটি। ক্যাপ্টেন ১৮ রান করে আউট হলেও স্যামসন থামেননি। তিনি যে থামতে জানেন না।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবিয়ানদের ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৬৮। এর জন্য অবশ্য ‘কৃতিত্ব’ প্রাপ্য বরুণ চক্রবর্তী ও অভিষেক শর্মার। দুই ব্যাটার সেট হওয়ার আগেই রান আউটের সুযোগ মিস করেন মিস্ট্রি স্পিনার। আর অভিষেক ফসকান চেজের ক্যাচ। শেষ পর্যন্ত শাই হোপকে ফিরিয়ে ক্যারিবিয়ান শিবিরে আঘাত হানেন বরুণ চক্রবর্তী। তবে বুমরাহ ধরা দিলেন স্বমেজাজে। ভারতের এক নম্বর পেসার ১২তম ওভারে ভয়ঙ্কর শিমরন হেটমায়ার (২৭) ও চেজকে (৪০) ডাগ-আউটের পথ দেখিয়ে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। তবে পঞ্চম উইকেটে ৭৬ রান জুড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুশোর কাছাকাছি পৌঁছে দেন জেসন হোল্ডার (অপরাজিত ৩৭) ও রভম্যান পাওয়েল (অপরাজিত ৩৪) জুটি।
ইডেন অনেক রাত দেখেছে। সৌরভের রাত, শচীনের রাত, ২০১৬ বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির পাকিস্তান বধ। তবে রবিবারের রাতটা একটু আলাদা। মরণবাঁচন ম্যাচে এই জয় নিছকই শেষ চারের দরজা খুলল না। বিপক্ষ দলগুলিকে দিল টিম ইন্ডিয়ার বার্তাও, ‘কাপ ধরে রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ দিনের শেষে একটাই আফশোস, যদি সঞ্জুর সেঞ্চুরিটা হতো!








