লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম: এবছর লাল বালির দাম সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়েছে। নির্মাণ সামগ্রীর লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে পাকা ঘর তৈরির কাজ প্রায় থমকে যাওয়ার জোগাড়। বাধ্য হয়ে অনেকেই ইটের গাঁথুনিতে বালির বদলে পাথরের ডাস্ট (ঘ্যাশ) মিশিয়ে কাজ চালাচ্ছেন।
স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি ১০০ সিএফটি (ঘনফুট) লাল বালির দাম ৮৫০০ থেকে ৯০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। গত বছর একই পরিমাণ বালি পাওয়া যেত ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়। চলতি বছরে একসময় সেই দাম বেড়ে ১০ হাজার টাকাও ছুঁয়েছিল। পরে কিছুটা কমলেও রাজ্য সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছতেই ফের প্রায় ১০০০ টাকা বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ।
এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে সরকারি আবাসন প্রকল্পের উপভোক্তাদের উপর। ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার সরকারি বরাদ্দে ‘আবাস যোজনা’র ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে চরম সঙ্কটে পড়েছেন প্রান্তিক পরিবারগুলি। করিমপুরের বারবাকপুরের বাসিন্দা হাফিজুল সেখ বলেন, “এক গাড়ি ইটের দাম ১৪,৫০০ টাকা, বালির দাম ৮,৫০০ টাকা। তাহলে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় বালি কিনব, ইট কিনব, না মিস্ত্রির মজুরি দেব?”
খরচ সামাল দিতে অনেকেই এখন বিকল্প পথে হাঁটছেন। পাথরের গুঁড়ো বা ডাস্ট ১০০ সিএফটি পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৪,০০০ টাকায় যা বালির তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ফলে অনেকে বালি ও পাথরের ডাস্ট সমপরিমাণে মিশিয়ে ইটের গাঁথুনির কাজ করছেন।
অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ প্রসঙ্গে বালির ব্যবসায়ীদের দাবি, ঘাটেই বেশি দামে বালি কিনতে হচ্ছে। তার উপর এক লরি বালি গন্তব্যে পৌঁছতে পথে ৫-৭ জায়গায় বিভিন্ন খাতে টাকা গুনতে হয়। সেই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত চাপছে সাধারণ ক্রেতার উপরই।
ফলে নির্মাণ খাতে এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণেই নয়, সরকারি আবাসন প্রকল্পের বাস্তবায়নেও বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মত স্থানীয়দের।








