রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন
নতুন পয়গাম ডেস্ক: ভরসার মর্যাদা দিলেন অভিষেক শর্মা। টানা ব্যর্থতায় তাঁকে বসানোর দাবি উঠছিল সমর্থক মহলে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেমির লড়াইয়ে টিকে থাকার ম্যাচে পুরনো মেজাজে তাঁকে পাওয়া গেল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বিপক্ষ বোলারদের উপর রীতিমতো রোলার চালালেন অভিষেক শর্মা।তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন হার্দিক পান্ডিয়া, তিলক ভার্মারা। পুরো ইনিংসে ১৭টা চার-ছক্কা। ২০ ওভারে টিম ইন্ডিয়া তুলল ৪ উইকেটে ২৫৬। চলতি বিশ্বকাপে সর্বাধিক। সার্বিকভাবে দ্বিতীয়। ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কা ২৬০-৬ তুলেছিল কেনিয়ার বিরুদ্ধে। তবে হার্দিক-তিলক যেভাবে ডেথ ওভারে ঝড় তুলেছিলেন, তাতে আর একটা বল পেলে হয়তো মগডালে বসে পড়ত ভারত।
ম্যাচ শুরুর ঘণ্টা দুয়েক আগে টিম ইন্ডিয়ার বাস যখন স্টেডিয়ামে ঢুকছিল, তখন কাচের জানালা দিয়ে দেখা গেল কোচ গৌতম গম্ভীরের হাতে মোবাইল। চোখ স্ক্রিনে। বুঝতে অসুবিধা হল না, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচটাই দেখছেন। ভারত চেয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা হারুক। তাতে নেট রানের ঝামেলা আর থাকবে না। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালেই মিলবে সেমি-ফাইনালের টিকিট। সেই মঞ্চ তৈরি। রবিবার ইডেনেই হবে এসপার-ওসপার। কার্যত কোয়ার্টার-ফাইনাল!
ভারতীয় দলে তো ম্যাচ জেতানো ক্রিকেটারের অভাব নেই। তবুও গত কয়েক ম্যাচে শুরুতে উইকেট পড়ে যাওয়ায় মনোবল তলানিতে ঠেকেছিল অভিষেক, ঈশানদের। পরের দিকের ব্যাটাররাও সেই চাপ নিতে পারছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারার সেটাই ছিল বড় কারণ। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তাই শুরুতে ডানহাতি-বাঁ হাতি কম্বিনেশনে যেতে বাধ্য হয় টিম ম্যানেজমেন্ট। দরকার ছিল ভালো স্টার্ট। ওপেনিং জুটিতে অভিষেকের সঙ্গে সঞ্জু ৪৮ তোলার পরেই বোঝা গিয়েছিল রানের মিনার খাড়া করবে ভারত। অভিষেকের উপর থেকে যথাসম্ভব চাপ কমানোর চেষ্টা করলেন সঞ্জু। তিনি ২৪ রানে আউট হওয়ার পর অভিষেক-ঈশানের পার্টনারশিপে ওঠে ৭২ রান। পাওয়ার প্লে’তে ভারতের স্কোর ১ উইকেটে ৮০। ২৬ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অভিষেক। শেষ পর্যন্ত ৫৫ করে তিনি ফেরেন ডাগ-আউটে।
ঈশানের সংগ্রহ ৩৮। কমবেশি রান পেলেন সকলেই। ক্যাপ্টেন সূর্যও ১৩ বলে যোগ করলেন ৩৩। তবে কথায় আছে, সব ভালো যার শেষ ভালো। অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে হার্দিক-তিলক জুটি ৩১ বলে যোগ করেন ৮৪। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতরান পূরণ করেন হার্দিক। আর ১৬ বলে অপরাজিত ৪৪ করে মন্থর ব্যাটিংয়ের ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া সমালোচকদের যোগ্য জবাব দিলেন তিলকও।
এই টার্গেট চেজ করা যে অসম্ভব, সেটা বুঝে গিয়েছিল জিম্বাবোয়ে। তাই তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের মতো তাড়াহুড়ো করে উইকেট ছুড়ে দেয়নি। পুরো কুড়ি ওভার খেলাই ছিল লক্ষ্য। দুর্দান্ত ব্যাটিং করলেন বেনেট। প্রবল চাপের মুখেও ৫৯ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেললেন তিনি। ক্যাপ্টেন সিকান্দর রাজাও কম পরীক্ষায় ফেললেন না ভারতীয় বোলারদের। ২১ বলে ৩১ করে আউট হন তিনি। জিম্বাবোয়ে শেষ পর্যন্ত তুলল ৬ উইকেটে ১৮৪। তবে ভারতীয় বোলিংয়ে ধরা পড়ল অনেক খামতি। ইডেনের পিচ যে ব্যাটিং সহায়ক। ক্যারিবিয়ানরা তো ছিঁড়ে খাবে বরুণ, দুবেদের। তাই ইডেনে নামার আগে সাধু সাবধান!
কেননা সেখানে একটু ভুলচুক হলেই একেবারে মাটিতে আছড়ে পড়বে ভারত।








