টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের
স্টাফ রিপোর্টার: প্রথম ম্যাচে দু’গোলে জয়।দ্বিতীয় ম্যাচে একেবারে চার চারটে গোল। তাও আবার পিছিয়ে পড়ে।সবচেয়ে বড় কথা ইস্টবেঙ্গল অনেকদিন পর একজন সলিড গোলগেটার পেয়েছে-ইউসুফ আজ্জেরি।
এদিন আইএসএলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে লালহলুদ ব্রিগেড।তা সত্বেও স্পোর্টিং দিল্লিকে সহজেই হারায় তারা। এদিন ইউসিফ আজ্জেরি ছাড়াও স্কোরশিটে নাম তুলেছেন এডমুন্ড ও মিগুয়েল। ব্রাজিলের অ্যাটাকারটি এদিন দারুণ পারফরম্যান্স মেলে ধরলেন। তাঁর ছন্দেই মশালের আগুনে গনগনে আঁচ। তবে সাউল না থাকায় মাঝমাঠের জমাট ভাব কিছুটা উধাও। পরের ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গলের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী জামশেদপুর এফসি। তালাল, মেসি বৌলিদের বিরুদ্ধে আরও সতর্ক থাকতে হবে অস্কার ব্রিগেডকে।
শনিবার প্রথম একাদশে একটি মাত্র পরিবর্তন করেছিলেন কোচ অস্কার। চোট পাওয়া সাউল ক্রেসপোর বদলে এডমুন্ডকে মাঠে নামান তিনি। স্প্যানিশ মিডিওর অনুপস্থিতি ঢাকার দায়িত্ব ছিল মিগুয়েলের উপর। কিন্তু গুছিয়ে ওঠার আগেই ধাক্কা খেল মশাল বাহিনী। জোসেফ সানির আচমকা বাড়ানো থ্রু’র জন্য প্রস্তুত ছিল না লাল-হলুদ রক্ষণ। ফলে ডান প্রান্তে বল ধরে জয় গুপ্তাকে কোমরের ঝাঁকুনিতে বোকা বানাতে অসুবিধা হয়নি অগাস্টিনের। তারপর ডান পায়ের জমি ঘেষা শটে জাল কাঁপান তিনি (০-১)। প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে অবশ্য বেশি সময় লাগেনি ইস্ট বেঙ্গলের। পেন্ডুলামের মতো ব্রাজিলিয়ান মিডিও নড়াচড়া শুরু করতেই কাঁপতে থাকে দিল্লি রক্ষণ। সুফলও মেলে সপ্তম মিনিটেই। বিপিন সিংয়ের সেটপিস হেডে ক্লিয়ার করেন বিপক্ষ ডিফেন্ডার। ফিরতি বল পেয়ে ডান পায়ের ভলিতে জাল কাঁপান এডমুন্ড। তবে এই গোলের দায় নিতে হবে দিল্লির নড়বড়ে গোলরক্ষককে (১-১)। তিন মিনিট পর লাল-হলুদের ব্যবধান দ্বিগুন হওয়ার নেপথ্যেও সেই এডমুন্ড। বক্সে তাঁকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইস্ট বেঙ্গল। স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদে ভুল হয়নি ইউসেফের (২-১)। ম্যাচের বয়স গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই প্রভাব বিস্তার করেন মিগুয়েল। তাঁর একের পর এক ডিফেন্স চেরা থ্রু দিল্লির ডিফেন্ডারদের ঘুম কেড়ে নেয়। ৪০ মিনিটে তেমনই একটি পাস ইউসুফকে খুঁজে নেয়। দক্ষ বক্স স্ট্রাইকারের মতোই বিপক্ষের অফসাইড ট্র্যাপ কেটে বেরলেন তিনি। এরপর চিলের মতো ছোঁ মেরে তা জালে জড়াতে ভুল করেননি স্প্যানিশ স্ট্রাইকার (৩-১)। উল্লেখ্য, ইস্ট বেঙ্গলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি হিসাবে শুরুর দু’ম্যাচে চার গোলের মালিক আজ্জেরি।
বিরতির পর শুরুটা ভালো করলেও তা ধরে রাখতে পারেনি মশাল বাহিনী। মাঝমাঠে ফুটবলার বাড়িয়ে লাল-হলুদের গতি রোধের চেষ্টায় সফল দিল্লি। এই পর্বে সাউলের অভাব বারবার অনুভূত হয়েছে। তার ফায়দা নিয়ে চাপ বাড়ায় দিল্লি। তবে জয় গুপ্তা ছাড়া আর কাউকে টলাতে পারেনি তারা। শেষ পর্বে বল স্ন্যাচ করে মিগুয়েলকে বাড়ান শৌভিক। লম্বা স্ট্রাইডে বিপক্ষ বক্সের দোড়গোড়ায় পৌঁছে বাঁ পায়ের গোলার মতো শটে বিপক্ষ কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন মিগুয়েল (৪-১)।ফলে টানা দুই জয়ে লিগ টেবিলে উপরের দিকে অবস্থান করছে তারা।








