দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ
স্টাফ রিপোর্টার: তিনি বিশ্বের একনম্বর ব্যাটার। অথচ এই বিশ্বকাপে এখনো এক রানও করতে পারেননি।যাকে ঘিরে স্বপ্ন আবর্তীত হচ্ছে ভারতীয় সমর্থকদের,সেই অভিষেক শর্মা করে ফেললেন ‘শূন্য’ এর হ্যাটট্রিক। টি-২০ বিশ্বকাপে তাঁর ফর্ম রীতিমতো উদ্বেগে রাখছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। বুধবার মোতেরায় নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে নিয়মরক্ষার শেষ গ্রুপ লিগ ম্যাচে ফের ব্যর্থতা সঙ্গী হল বাঁ-হাতি ওপেনারের। এদিন ‘সিরাজ’ লেখা জার্সি পরে নেমেও ভাগ্য বদলাল না অভিষেকের। পরিসংখ্যান বলছে, গত আট ম্যাচে এটি তাঁর পঞ্চম শূন্য। অফস্পিনার আরিয়ান দত্তর বলে মারতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। নেদারল্যান্ডসকে নিয়মরক্ষার ম্যাচে ১৭ রানে হারালেও সুপার এইটের আগে অভিষেকের অফফর্ম কাঁটা হয়ে থাকছে ভারতীয় শিবিরে।টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ছয় উইকেটে ১৯৩ তোলে টিম ইন্ডিয়া। তবু ভারতীয় ব্যাটিং নিয়ে থাকল প্রশ্ন। ঈশান কিষানের ব্যাট না চললে পাওয়ার প্লে’তে উধাও ঝড়। এদিন দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি বোল্ড হতেই কমল রানের গতি। তিলক ভার্মা বড় শট নিতে সমস্যায় পড়ছেন। ডাচদের বিরুদ্ধে ২৭ বলে করলেন ৩১। ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার একবার জীবন পেলেন।
যখন মনে হচ্ছে, তাঁর ব্যাটে বড় রান আসছে, তখনই ফিরলেন। ‘৩৬০ ডিগ্রি’ ব্যাটারকে কিন্তু ইদানীং উইকেটের চতুর্দিকে শট নিতেও দেখা যাচ্ছে না। ২৮ বলে স্কাই করলেন ৩৪। তাৎপর্যের হল, স্পিনের সামনে বারবার থমকে যাচ্ছে ভারতীয় ব্যাটিং। বিশেষ করে অফস্পিনে দুর্বলতা প্রকট। নামিবিয়ার জেরহার্ড ইরাসমাস নিয়েছিলেন চার উইকেট। পাকিস্তানের সাইম আয়ুব নিয়েছিলেন তিন উইকেট। মারা যায়নি অদ্ভূত অ্যাকশনের উসমান তারিককেও। এদিন আরিয়ান দত্ত ১৯ রানে নিলেন দুই উইকেট। ভারতীয় ইনিংসের টপ থ্রি ব্যাটারই বাঁ-হাতি। ফলে অফস্পিনার দিয়ে আক্রমণের স্ট্র্যাটেজি নিচ্ছে বিপক্ষ। তার মোকাবিলায় খুব একটা স্বচ্ছন্দ দেখাচ্ছে না তিলকদের। মিডল ওভারে একটা সময় ১৯ বল ধরে আটকে থাকল বাউন্ডারি। ব্যাটিং অর্ডারে সূর্যকে তিনে প্রমোশন দেওয়ার কথা কিন্তু ভাবা যেতেই পারে। ততে অন্তত পরপর তিন বাঁ-হাতি নামবে না। তারপরও যে ভারতের রান দুশোর কাছাকাছি পৌঁছাল, এর জন্য কৃতিত্ব প্রাপ্য শিবম দুবের। পাঁচ নম্বরে নেমে ৩১ বলে তাঁর সংগ্রহ ৬৬। তাঁর হাফ-সেঞ্চুরি এল ২৫ বলে। ৬টি ছক্কা ও ৪টি চার মারলেন তিনি। ২১২.৯০ স্ট্রাইক রেটে দলকে ভরসা দিলেন মুম্বইকর। সুদর্শন বাঁ-হাতির তাণ্ডব ছাড়া ভারতীয় দলের অবস্থা কিন্তু শোচনীয় হত। সঙ্গতে ছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। ২১ বলে তাঁর সংগ্রহ ৩০। ১৯৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে হলে শুরুটা ঝড়ের গতিতে হওয়া জরুরি। নেদারল্যান্ডস প্রথম উইকেটে ৩৫ তুললেও তা আসে ৫.৪ ওভারে। এরপরই শুরু বরুণ চক্রবর্তী ম্যাজিক। স্টাম্প নিশানা করে বল ছাড়েন মিস্ট্রি স্পিনার। এর সুফলও পাচ্ছেন। এদিনও ৩ উইকেট নিলেন তিনি। মিডল ওভারে তিনিই ভাঙলেন বিপক্ষকে। চলতি আসরে ৯ উইকেট হয়ে গেল বরুণের। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও সফল দুবে। তাঁর শিকার দু’টি। হার্দিক, বুমরাহও পেলেন উইকেট। কুলদীপ যাদবের পরিবর্তে দলে আসা অর্শদীপ সিং সুইং পেলেন। কিন্তু উইকেট কোথায়?এভাবে চললে সুপার এইটে সমস্যায় পড়বে ভারত।








