কাটছে না অন্ধকার, ভারতীয় ফুটবলে আরও এক লজ্জার অধ্যায়
স্টাফ রিপোর্টার, নতুন পয়গামঃ
দেশের সর্বোচ্চ লিগ বন্ধ, মেসিকে ঘিরে অবাঞ্ছিত ঘটনা,স্টেডিয়াম ভাঙচুর। এবার আবার দেশের অন্যতম সেরা ক্লাব মোহনবাগান নির্বাসিত।
এএফসি’র বড় শাস্তির মুখে পড়ল মোহনবাগান। পরবর্তী দু’টি মরশুমের জন্য শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবকে এএফসি’র ক্লাব প্রতিযোগিতা (যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে) থেকে নির্বাসিত করা হয়েছে। বুধবার এএফসির এথিক্স ও শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণবাবদ প্রায় ১লক্ষ মার্কিন ডলার দিতে হবে মোহন বাগানকে। আর তা না দিতে পারলে অপেক্ষা করছে আরও কড়া শাস্তি। মোহন বাগান সভাপতি দেবাশিস দত্তের মন্তব্য, ‘আমি অত্যন্ত হতাশ। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অবিলম্বে কথা বলা প্রয়োজন। সচিব সৃঞ্জয় বসু দেশের বাইরে। তিনি ফেরা অবধি অপেক্ষা করতে চাই।’ সূত্রের খবর, সবদিক খতিয়ে ক্যাসে (আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত) যাওয়ার কথা ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
গত মরশুমে হোসে মোলিনার কোচিংয়ে আইএসএলের লিগ-শিল্ড ও ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয় মোহন বাগান। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’তে সরাসরি খেলার ছাড়পত্রও মেলে। আন্তর্জাতিক স্তরে ভালো ফল করতে টাকার থলি উপুড় করে দিয়েছিলেন কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। শক্তিশালী দলগঠনে কোনও কাপর্ণ্য করেননি। এসিএল টু’য়ের গ্রুপ ‘সি’তে স্থান পায় পালতোলা নৌকা ব্রিগেড। কিন্তু প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে তুর্কমেনিস্তানের আহাল এফসি’র বিরুদ্ধে মুখ থুবড়ে পড়েন কামিংস, ম্যাকলারেনরা। অপ্রত্যাশিত হারের ধাক্কায় শুরু হয় প্রবল সমালোচনা। মোহন বাগানের পরের প্রতিপক্ষ ছিল ইরানের সেপাহান এফসি। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে ইরান যাত্রা বাতিল করে থিঙ্কট্যাঙ্ক। যুক্তি ছিল, ফুটবলাররা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। কোনওমতেই অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে যেতে রাজি নন তাঁরা। তবে তৎকালীন কোচ হোসে মোলিনা স্পষ্টই জানিয়েছিলেন, ইরান যেতে রাজি ছিলেন তিনি। বেসুরো মোলিনা বলতে চেয়েছিলেন ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত গিলতে হয়েছে তাঁকে। এদিকে, ততদিনে ম্যাচ আয়োজনের যাবতীয় আয়োজন সম্পূর্ণ। সবদিক বিবেচনা করে গ্রুপ লিগ থেকে মোহন বাগানকে ছেঁটে ফেলে এএফসি। এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার কড়া মনোভাব এদিনের পর আরও স্পষ্ট হয়ে গেল। উল্লেখ্য, গত মরশুমেও নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ইরান যাত্রা স্থগিত রাখে মোহন বাগান। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেক্ষেত্রে মোহন বাগানের প্রতি অনেকেরই সহানুভূতি ছিল। কিন্তু চলতি মরশুমের ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দেন সদস্য-সমর্থকরা। এখন দেখার, মোহন বাগানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়। সেদিকেই তাকিয়ে ক্লাব অন্তপ্রাণ অনুরাগীরা।
সত্যিই ভারতীয় ফুটবলের সময়টা খারাপই যাচ্ছে।








