টি-টোয়েন্টিতে হার্দিকের বিশ্বরেকর্ড,তৃতীয় ম্যাচে সহজ জয় ভারতের
এম.রহমান, নতুন পয়গাম, ধরমশালাঃ
আগের ম্যাচেই ২১৩ রানের পাহাড় গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।ভাবা হয়েছিল ধরমশালার ব্যাটিং পিচেও দাপট দেখাবেন ডি ককরা।কিন্তু কোথায় কি!ধারাবাহিক উইকেট খুইয়ে কোনোরকমে একশো রানের গন্ডি পেরোয় ম্যান্ডেলার দেশ।দক্ষিণ আফ্রিকার ১১৭ রানের মধ্য মার্কর্যাম একাই করেন ৬১।তাহলেই বোঝা যাচ্ছে বাকি ব্যাটারদের অবস্থা।ভারতীয় বোলাররা আগাগোড়া দাপট দেখিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে এগিয়ে গেল ২-১ এ। রবিবার পাহাড়ের কোলে ছবির মতো সুন্দর স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সাত উইকেটে বশ মানিয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দল।
এদিন পারিবারিক কারণে বিশ্রাম নেন যশপ্রীত বুমরাহ।তবে রানা,অর্শদীপরা তার অভাব বুঝতে দেননি।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অর্শদীপ সিংয়ের ভিতরে ঢুকে আসা ডেলিভারিতে এলবিডব্লু রিজা হেনড্রিকস (০)। পরের ওভারেই আঘাত হানেন হর্ষিত রানা। তিনিও এলবিডব্লু করেন বিপজ্জনক কুইন্টন ডি’কককে (১)। ডিওয়াল্ড ব্রেভিসও (২) শিকার হন হর্ষিতের। স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ৭ রান!
পাওয়ার প্লে’র পরের ওভারে আক্রমণে আসেন হার্দিক পান্ডিয়া। এসেই ফেরান ট্রিস্টান স্টাবসকে (৯)। তাঁর খোঁচা জমা পড়ে কিপার জিতেশ শর্মার গ্লাভসে। টি-২০ ক্রিকেটে এটি হার্দিকের শততম উইকেট। প্রথম ভারতীয় হিসেবে হাজার রান ও একশো উইকেট পূর্ণ হল তাঁর। ক্রিকেটবিশ্বে কোনও সিমারেরও এই কৃতিত্ব নেই।
সাত ওভারের শেষে সফরকারী দল ৩০ রানে চার উইকেট খুইয়ে ধুঁকছিল। সেখান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ পর্যন্ত থামে ১১৭ রানে। ক্যাপ্টেন আইডেন মার্কর্যাম একটা দিক আগলে ছিলেন। ৪৬ বলে তাঁর ৬১ রানই একশোর ওপাশে পৌঁছে দিল প্রোটিয়াদের। তিনি ছাড়া দুই অঙ্কের রান মাত্র দু’জনের, ডোনাভান ফেরেইরা (২০) ও অ্যানরিখ নর্তজের (১২)। ভারতের কোনও বোলারই উইকেটহীন নন। অর্শদীপ ও হর্ষিত নতুন বলে শুরুটা দারুণ করেছিলেন। শেষের দিকে দুই স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ও কুলদীপ যাদব ভেল্কি দেখালেন। এই চারজনই নিলেন দু’টি করে উইকেট। এই ফরম্যাটে ৯০ উইকেট হয়ে গেল কুলদীপের। আর উইকেটের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ হল বরুণের। হার্দিকের পাশাপাশি শিবম দুবেও একটি উইকেট নিয়েছেন। তবে ভারতীয় ফিল্ডিংয়ে উন্নতির জায়গা থেকেই গেল। বেশ কয়েকটি ক্যাচ না পড়লে প্রোটিয়াদের ইনিংসে আরও আগে দাঁড়ি পড়ত।
ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই শিশির পড়ছিল মাঠে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল ঠান্ডা। তার উপর ভারতের ইনিংসের পয়লা ওভারেই অভিষেক শর্মার সৌজন্যে ওঠে ১৬। পঞ্চাশ আসে মাত্র ২৫ বলে। চলতি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই ১৭ করেছিলেন অভিষেক। বড় রান পাননি। এদিন চেনা মেজাজে ঝড় তুললেন তিনি। মার্কর্যামের অনবদ্য ক্যাচ ফেরাল অভিষেককে (১৮ বলে ৩৫)। ফর্ম হাতড়ে বেড়ানো শুভমান গিল রিভিউ নিয়ে প্রথম বলেই এলবিডব্লু হওয়ার হাত থেকে বাঁচেন। ২৮ বলে ২৮ করলেও পরিচিত ছন্দ উধাও তাঁর ব্যাটে। ক্যাপ্টেন সূর্যও (১২) হতাশ করলেন। গিল-সূর্যকে নিয়ে উদ্বেগ তাই থেকেই গেল। তিলক ভার্মাও (অপরাজিত ২৬) খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে খেললেন। শেষ পর্বে শিবম দুবে বরং চালালেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি মাত্র ৪ বলে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন। কার্যত, অভিষেক ফিরতেই শুকিয়ে গিয়েছিল বাউন্ডারি, কমেছিল রানের গতিও। ভাগ্যিস, টার্গেট বড় ছিল না।
নাহলে কি হত কে জানে!
আপাতত নজর বুধবারের ম্যাচের দিকে।যেটি অনুষ্ঠিত হবে লক্ষ্ণৌতে।








