সাঁইথিয়ায় নিখোঁজের রহস্য উন্মোচন, ময়ূরাক্ষী থেকে উদ্ধার মৃতদেহ
খান সাহিল, নতুন পয়গাম, বিরভূম: নদীয়ার মুক্তারপুরের বাসিন্দা মহম্মদ সামিউল ইসলাম মণ্ডল প্রায় সাত দিন আগে আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বীরভূমের সাঁইথিয়া এলাকায় আসেন। পরিবারের সঙ্গে শেষবার যোগাযোগের পর থেকেই তিনি ছিলেন নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কায় দিন কাটালেও কোনও সূত্র মিলছিল না। অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলেও তা হয়ে উঠল আরও বেদনাদায়ক। গতকাল সন্ধ্যায় সাঁইথিয়ার ময়ূরাক্ষী নদী থেকে উদ্ধার হয় এক অজ্ঞাতপরিচয় দেহ। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে জানা যায় দেহটি নিখোঁজ সামিউলের।
ঘটনাস্থল থেকে দেহ উদ্ধারের পরই শুরু হয় নানারকম জল্পনা। আজ সিউড়ি সদর হাসপাতালে মৃতদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মৃতের পরিবারের দাবি, এটি কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়—খুন করা হয়েছে সামিউলকে। তবে কারা, কী উদ্দেশ্যে এমন নৃশংস ঘটনাটি ঘটাল, তা এখনও পরিবারের কাছে ধোঁয়াশা। তারা জানিয়েছেন, সামিউলের কোনও শত্রু বলে তাদের জানা নেই। তবুও এমন এক রহস্যজনক নিখোঁজ এবং পরে নদী থেকে দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক এবং ক্ষোভ ছড়িয়েছে দুই পরিবারের মধ্যে।
পরিবারের পক্ষ থেকে সাঁইথিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। কোথায়, কীভাবে, কার সঙ্গে শেষবার দেখা গিয়েছিল—সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে পুলিশ।
এদিকে স্থানীয় এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর নদী থেকে মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সাঁইথিয়ার নিরাপত্তা নিয়েও। পরিবারের দাবি, তারা ন্যায়বিচার চান এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হোক।
পুরো ঘটনার উপর নজর রেখেছে পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল। এখন সকলেরই অপেক্ষা—ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতিতেই স্পষ্ট হবে, সামিউলের রহস্যজনক মৃত্যু কি দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত খুন।








