অপ্রতিরোধ্য শামি, তবুও মুস্তাক আলি ট্রফি থেকে বিদায় বাংলার
এম.রহমান, নতুন পয়গাম, হায়দরাবাদঃ
যদি প্রশ্ন করা হয় বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে হতভাগ্য ক্রিকেটারের নাম কি!
তাহলে একটাই নাম ভেসে আসবে-মহম্মদ শামি!
তাঁকে হতভাগ্য বলবো,নাকি অবিচারের স্বীকার বলবো; সেটাও প্রশ্ন থেকে যাবে।
শামি হয়তো নিজেও মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করেন, আর কতটা ভাল বোলিং করা সম্ভব! আর কতটা ভাল খেললে নির্বাচকরা জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করবেন! ভারতের জার্সিতে শেষবার তিনি খেলেছিলেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে৷ ৫ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহক হয়েছিলেন। কিন্তু এই মুহূর্তে ওযানডে স্কোয়াডের জন্য তাকে আর ভাবা হচ্ছে না!
এরই মাঝে আইপিএলের পর চোট থেকে ফিরে এসে রঞ্জি ট্রফিতে ৪ ম্যাচে ২০ উইকেট তুলেছেন শামি। কিন্তু টেস্ট দলের পরিকল্পনাতেও তিনি নেই! ভারত আজকাল হোম সিরিজেও হারছে, কিন্তু শামির অভিজ্ঞতার কোনো মূল্য পাচ্ছে না।
শুধু ফার্স্ট-ক্লাস কিংবা ওয়ানডে নয়, ডোমেস্টিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও লাগাতার পারফরম্যান্স করে চলেছেন শামি! সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ৭ ম্যাচে তুলেছেন ১৬ উইকেট। দু’টো ফোর-ফার। আপাতত টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহক। ৩৫ বছর বয়সে এসেও দেশের তরুণ পেসারদের সমানতালে টক্কর দিয়ে চলেছেন। তিন ফর্ম্যাটেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। তবুও তিনি উপেক্ষিত! নির্বাচকরা বিভিন্ন বাহানায় শামিকে স্কোয়াডের বাইরেই রেখে চলেছেন দিনের পর দিন!
আর কতটা ভাল খেললে নির্বাচকরা ফিরে তাকাবেন!
গতকালও তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।তবে শামি ভয়ংকর উঠলেও,সতীর্থদের বোলিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি থেকে বিদায় নিল বাংলা। সোমবার হরিয়ানার বিরুদ্ধে হতশ্রী বোলিং সায়ন ঘোষদের। তার জেরেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল বেঙ্গল ব্রিগেড। এদিনও চার উইকেট তুলে নেন মহম্মদ শামি। কিন্তু তাঁর ভালো পারফরম্যান্স জলে গেল।
পাঞ্জাবের পর পুদুচেরির কাছে হেরে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলা। তাই পরের রাউন্ডে যেতে গেলে হরিয়ানাকে হারাতেই হবে, এটাই একমাত্র অঙ্ক ছিল অভিমন্যু ঈশ্বরণদের সামনে। বিমান বিভ্রাট সামলে এই ম্যাচের দলে ফিরেছিলেন শাহবাজ আহমেদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেল বাংলা। ২৪ রানে হেরে এবারের মতো জাতীয় টি-২০তে বাংলার অভিযান শেষ।
সোমবার টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলা। কিন্তু প্রথম থেকেই বিপক্ষের উপর সেভাবে চাপ তৈরি করতে পারেননি আকাশ দীপরা। মোট সাতজন বোলারকে দিয়ে এদিন রান আটকানোর চেষ্টা করেন অভিমন্যু। কিন্তু শামি ছাড়া কেউই দাগ কাটতে পারেননি। চার ওভারে ৩০ রান দিয়ে চার উইকেট পেয়েছেন শামি। দু’টি করে উইকেট পেয়েছেন প্রদীপ্ত এবং আকাশ। একটি উইকেট সায়নের। কিন্তু অধিকাংশ বোলার বেশি রান দেওয়া ১৯১ রান করে হরিয়ানা। সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন নিশান্ত সিন্ধু।
১৯২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালোই করেছিল বাংলা। করণ লাল তাড়াতাড়ি আউট হলেও বিস্ফোরক মেজাজে ব্যাট করছিলেন অভিষেক পোড়েল (৪৭)। চার নম্বরে নেমে ঋত্বিক চট্টোপাধ্যায় ৪৪ রান করেন। কিন্তু যুবরাজ কেশওয়ানি (২৫) আউট হতেই ধস নামে বঙ্গ ব্যাটিংয়ে। লোয়ার অর্ডারে কেউই বলার মতো রান পাননি। ২০ ওভারে ১৬৭ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলা। দু’টি করে উইকেট পেয়েছেন হরিয়ানার চার বোলার।
সত্যি বাংলার সময়টা খারাপই যাচ্ছে।








