মাঠের বাইরে থেকেই ঘুঁটি সাজাচ্ছেন অস্কার,ফাইনালে গোয়া বধ করতে বদ্ধপরিকর ইস্টবেঙ্গল
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গামঃ
সেমিফাইনালে লাল কার্ড দেখে আজ ডাগআউটে থাকতে পারবেন না ইস্টবেঙ্গলের হেডস্যর।
তবে মাঠের থেকেই গোয়া বধের নীলনকশা তৈরি অস্কার ব্রুজোর।
মারগাঁওয়ের ছবির মতো সুন্দর পরিবেশে সুপার কাপ ফাইনালের মহড়া সারল ইস্টবেঙ্গল। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় বা সুযোগ অস্কার ব্রিগেডের নেই। বরং মিগুয়েলদের চোখে জেদের আগুন। রবিবার ফাইনালে এফসি গোয়াকে যে বোঝাতে হবে লাল-হলুদ জার্সির ওজন! মানোলো মার্কুয়েজের পাড়া থেকে সুপার কাপ ট্রফি লেসলি ক্লডিয়াস সরণিতে পৌঁছোতে মরিয়া লাল-হলুদ ব্রিগেড।ওয়ার্ম-আপের পর তাই পাখিপড়া পড়ালেন ফুটবলারদের। চর্চার কেন্দ্রে বোরহা হেরেরা। লাল-হলুদের প্রাক্তনী এক ছোবলে ছবি করার ক্ষমতা রাখেন। মেগা ফাইনালে এই স্প্যানিশ মিডিওকে বোতলবন্দি না করলে সর্বনাশ। তাঁর ডিফেন্স চেরা পাস থেকেই বিপক্ষ বক্সে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন ব্রাইসন, সিভেরিওরা। ছন্দে আছেন টিমোর, আয়ূষও। তবে ইস্ট বেঙ্গলের মাঝমাঠও কম যায় না। রশিদ-সাউল-মিগুয়েল ত্রয়ীও টক্কর জানাতে প্রস্তুত। চলতি টুর্নামেন্টে দুরন্ত ফর্মে তাঁরা। ব্যাটল অব মিডফিল্ডের উপর ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে ব্লকিং ঠিকঠাক হওয়া প্রয়োজন। প্রেসিং ফুটবল গোয়ার ট্রেডমার্ক। শুরুতে গোল তুলে নিয়ে বিপক্ষকে চাপে ফেলতে মানোলোর জুড়ি নেই। এই ঝাঁকুনি সামলানোই আনোয়ারদের বড় চ্যালেঞ্জ। গোয়ার দুই উইং ব্যাক পালা করে আক্রমণে যোগ দেন। আর সেই ফাঁকা জমি ব্যবহার করে পাল্টা হামলার পরিকল্পনা তৈরি বিপিনদের।
এফসি গোয়া অবশ্য ঘরের মাঠে খেলার অ্যাডভান্টেজ পাচ্ছে। পাশাপাশি পরিসংখ্যানও মানোলো মার্কুয়েজের দলের পক্ষে। মোট ১১ বারের সাক্ষাতে গোয়া জিতেছে ৭টি ম্যাচে। ইস্ট বেঙ্গল মাত্র দু’টিতে। বাকি দু’টি ম্যাচ ড্র। কিন্তু ফুটবল যে পরিসংখ্যান দিয়ে হয় না, এমন উদাহরণ প্রচুর। আর লড়াইটা ইস্ট বেঙ্গলের রক্তে। তাগিদ, জেদে গোয়াকে টেক্কা দিতে মরিয়া আনোয়াররা।
অস্বীকার করার উপায় নেই, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টু খেলার সুবাদে বেশি ম্যাচটাইম পেয়েছেন বোরহা-সিভেরিওরা। কোচ মার্কুয়েজ পজেশনাল ফুটবলে বিশ্বাসী। অ্যাটাকিং থার্ডে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি উইং দিয়ে আক্রমণ শানানো পছন্দের ট্যাকটিক্স। তাই গোয়ার ফর্মে থাকা দুই উইঙ্গার ব্রাইসন ফার্নান্ডেজ ও ডেজান ড্র্যাজিককে রুখতে হবে। তবে সন্দেশ ঝিংগানের অনুপস্থিতিতে দুর্ভেদ্য রক্ষণ কিছুটা দুর্বল। সেমি-ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধে সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে মুম্বই সিটি। আর তা কাজে লাগাতে বদ্ধপরিকর মশালবাহিনী। সেমি-ফাইনালে তো ইস্ট বেঙ্গলের তিনটি গোলের মধ্যে দুটোই এসেছিল সেটপিস মুভ থেকে। খেতাবি লড়াইয়েও ডেড বল মুভ কাজে লাগাতে মরিয়া মিগুয়েলরা। তবে ইস্ট বেঙ্গলের দুর্বলতা রয়েছে। মাঝমাঠ তুখোড় ফর্মে থাকলেও ফরোয়ার্ডদের গোলখরা চিন্তায় রাখছে কোচকে। ফাইনালে জিততে হলে হিরোশি, বিপিন, নাওরেমকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। চোটগ্রস্ত হামিদ শনিবারও সাইড লাইনে কাটালেন। ফাইনালে খেলবেন কি? প্রশ্ন থাকছেই। তবে জয় গুপ্তা চনমনে। আসলে গোয়ার এই প্রাক্তনীর মাধ্যমে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চান ব্রুজোঁ। ২০২৪ সালে ওড়িশাকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে সুপার কাপ জিতেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। এবারও গতবারের চ্যাম্পিয়নদের ডেরায় ফাইনাল। পুনরাবৃত্তি ঘটবে কি? স্পর্ধার জয়ের অপেক্ষায় লক্ষ লক্ষ ইস্ট বেঙ্গল সমর্থক। এদিকে, শোনা যাচ্ছে ফাইনালে রেফারি হতে পারেন হরিশ কুণ্ডু। তাঁকে নিয়ে বিতর্ক কম নেই। অতীতে হরিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বারবার চিঠি দিয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল ম্যানেজমেন্ট।
তবে সব ভুলে ট্রফি জয়কেই পাখির চোখ করছেন লাল হলুদ ব্রিগেড।
আজ সুপার কাপ ফাইনালেঃ
ইস্টবেঙ্গল বনাম এফসি গোয়া।
খেলা শুরু সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিটে।
সম্প্রচার স্টার স্পোর্টস খেল ও জিও হটস্টারে।








