‘রো-কো’র ব্যাটেই মধুর প্রতিশোধ, সিরিজের সাথে অবশেষে টসও জিতল ভারত
এম. রহমান, নতুন পয়গাম, বিশাখাপত্তনমঃ
৭৫২ দিন,২০ ম্যাচ,১৫ নভেম্বর ২০২৩ অর্থাৎ প্রায় দু বছর পর টস জিতলো ভারত।আর জেতালেন সেই পুরনো জুটি ‘রো-কো’ অর্থাৎ রোহিত-কোহলি। তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-১ ব্যবধানে হারাল ভারত।পূর্ণ হল টেস্ট সিরিজ হারের মধুর বদলা। শনিবার বঙ্গোপসাগরের তীরে প্রোটিয়াদের কার্যত হেলায় নকআউট পাঞ্চ মারল হোমটিম। ২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ১০ ওভার ১ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছয় লোকেশ রাহুলের দল।
তবে এই জয়ে আরও একজনের নাম বলতে হবে,তিনি যশস্বী জয়সওয়াল।করলেন অপরাজিত ১১৬ রান।তার সুবাদে জয় এল ৯ উইকেটে। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অবদান রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলির অবদান তো আগেই বললাম।
এদিন বোলিংয়েও নজর কাড়লেন কুলদীপ যাদব, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণারা। সার্বিকভাবে, এদিন প্রোটিয়াদের উপর রোলার চালাল ভারত।
এই সিরিজে টস যে কত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা আবার দেখা গেল এদিন। ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে শেষবার টস জিতেছিল ভারত। ২০টা টস হারার পর অবশেষে এদিন কাটল খরা। বাঁ-হাতে টস করেছিলেন ক্যাপ্টেন রাহুল। জেতার পর তাঁর মুখে চওড়া হাসি। ম্যাচের শেষে সেটাই উৎসবের চেহারা নিল। রাঁচি ও রায়পুরে ভারতীয় বোলারদের অসহায় দেখাচ্ছিল। স্পিনাররা ভেজা বল গ্রিপ করতে সমস্যায় পড়ছিলেন। এদিন শুকনো বলে কুলদীপ যাদবের সামনে প্রোটিয়াদের দিশাহারা লাগল। চায়নাম্যান নিলেন চার উইকেট। ভাগ্য সহায় থাকলে শিকার সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা রায়পুরে দিয়েছিলেন ৮৫ রান। এদিনও শুরুতে ছন্দ পাননি। তবে দ্বিতীয় স্পেলে তিন উইকেট নিয়ে বিপক্ষ ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভাঙলেন প্রসিদ্ধ। সেটাই ম্যাচে ফেরাল দলকে। আর তাঁর চতুর্থ উইকেট দাঁড়ি ফেলল প্রোটিয়া ইনিংসে। তেম্বা বাভুমাদের ২৭০ তোলার নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল কুইন্টন ডি’ককের। ওডিআই কেরিয়ারের ২৩তম শতরানে পৌঁছতে তিনি নেন ৮০ বল। ভারতের বিরুদ্ধে মাত্র ২৩ ইনিংসে এটি তাঁর সপ্তম সেঞ্চুরি। তবে কুইন্টন ফিরতেই কুলদীপের সামনে আত্মসমর্পণ করে প্রোটিয়ারা।
ভারতীয় ইনিংসের শুরুটা ধীরেসুস্থে করেন রোহিত-যশস্বী। অফস্টাম্পের বাইরের বলে সংযম দেখাতে থাকেন বাঁ-হাতি ওপেনার। তুলনায় রোহিত ছিলেন আক্রমণাত্মক। তাঁর পঞ্চাশ আসে ৫৪ বলে। সেখানে অর্ধশতরানে পৌঁছতে যশস্বী নেন ৭৫টি ডেলিভারি। এরপর গিয়ার পাল্টান তিনি। পরের পঞ্চাশ আসে ৩৬ বলে। কেরিয়ারের চতুর্থ ওডিআই’তে প্রথম শতরানের স্বাদ পেলেন যশস্বী। তাঁর ১২১ বলের ইনিংসে রয়েছে এক ডজন চার ও দু’টি ছক্কা। রোহিতের শতরানও দেখাচ্ছিল নিশ্চিত। কিন্তু কেশব মহারাজকে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন তিনি। ৭৩ বলে হিটম্যানের ৭৫ রানে থাকল সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা।
এদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চতুর্থ ভারতীয় হিসেবে ২০হাজার রান পূর্ণ করলেন রোহিত (২৪০৬৪)। তাঁর সামনে শচীন তেন্ডুলকর (৩৪৩৫৭), বিরাট (২৭৯৬৭), দ্রাবিড়রা (২৪০৬৪)। দর্শকদের নিরাশ করেননি বিরাট কোহলিও। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের মেজাজেই বিপক্ষ বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন চেজমাস্টার। ৪৫ বলে ভিকে’র অপরাজিত ৬৫ সাজানো ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কায়। এই সিরিজ ‘রো-কো’ জুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন তাঁদের অপরিহার্যতা। ড্রেসিং-রুমে বসে হাততালি দেওয়া কোচ গৌতম গম্ভীর নিশ্চয়ই হাড়ে হাড়ে তা টের পেলেন!
এই জন্যই বলে- পুরনো চাল ভাতে বাড়ে।








