বিরাটের দুরন্ত সেঞ্চুরিতে জিতলো ভারত, চিন্তায় রাখলো বোলিং
এম. রহমান, নতুন পয়গাম, রাঁচি:
এখনও তাঁকে ঘিরেই হেডলাইন হয়।এখনও তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত হয় স্বপ্ন; তিনি বিরাট ‘কিং’ কোহলি।তাঁর অনবদ্য সেঞ্চুরিতে ধোনির শহরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারালো টিম ইন্ডিয়া।
একদিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় এল ১৭ রানে। বিরাট কোহলির অনবদ্য শতরানের সুবাদে ভারত তুলেছিল ৩৪৯। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে থামল ৩৩২ রানে। কষ্টার্জিত এই জয়ে অবশ্য কাঁটার মতো বিঁধল বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তা। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে যাওয়া লোকেশ রাহুল বাহিনীকে যা নিশ্চিতভাবেই উদ্বেগে রাখবে।
টানা ১৯তম টস হেরে এদিন ব্যাট করতে নেমেছিল ভারত। যশস্বী জয়সওয়াল ফেরেন চতুর্থ ওভারেই। বিরাট কোহলিকে তুমুল হাততালিতে স্বাগত জানিয়েছিল গ্যালারি। কেন যে তাঁকে সম্মান জানানো হয়,তার প্রমান তিনি এদিন দিলেন।অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। একদিনের ক্রিকেটে সর্বাধিক সেঞ্চুরির মুকুট অনেক আগেই উঠেছিল মাথায়। এদিন তাতে আরও একটা পালক জুড়ল। ১২০ বলে ১৩৫ রানের তাৎপর্য লিখে বোঝানো সম্ভব না।সাতটা ছক্কা ও ১১টা বাউন্ডারিতে সাজানো এই ইনিংস দু’বছর পরের ওডিআই বিশ্বকাপ খেলার আশায় জলহাওয়া দিল। রবি শাস্ত্রী তো কমেন্ট্রি বক্সে মাইক হাতে বলেই ফেললেন, ‘কয়েকজনকে ভুল প্রমাণিত করল কোহলি।’ সেই তালিকার গোড়াতে নিশ্চয়ই গৌতম গম্ভীর!
রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুলের ব্যাটেও আসে হাফ-সেঞ্চুরি। মার্কো জানসেনের বলটা আচমকা নীচু না হলে হিটম্যান এদিনও লম্বা ইনিংস খেলতেন। তাঁর ৫১ বলে ৫৭ রানে রয়েছে পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা। দ্বিতীয় উইকেটে বিরাটের সঙ্গে রোহিত ১০৯ বলে যোগ করেন ১৩৬। মিডল অর্ডারে ঋতুরাজ গায়কোয়াড় (৮), ওয়াশিংটন সুন্দরের (১৩) ব্যর্থতা অবশ্য রানের গতি কমায়। রাহুলের ৫৬ বলে ৬০ রানে রয়েছে তিনটি ছক্কা ও দুটো চার। স্লগ ওভারে রবীন্দ্র জাদেজাও (২০ বলে ৩২) নেন আগ্রাসী ভূমিকা। ওভারপ্রতি সাত রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় প্রোটিয়ারা। দ্বিতীয় ওভারে হর্ষিত রানার শিকার রায়ান রিকেলটন ও কুইন্টন ডি’কক। পঞ্চম ওভারে পড়ে প্রোটিয়াদের তৃতীয় উইকেট। স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ১১! ম্যাথু ব্রিটজকে অবশ্য লড়াই জারি রাখেন। টনি ডি’জর্জি, ডিওয়াল্ড ব্রেভিস ও মার্কো জানসেনের সঙ্গে পঞ্চাশ প্লাস রানের জুটি গড়ে তোলেন তিনি। ষষ্ঠ উইকেটে ব্রিটজকে-জানসেনের ৬৯ বলে ৯৭ রানের পার্টনারশিপ রক্তচাপ বাড়ায়েছিল হোমটিমের ড্রেসিং-রুমে। শিশিরের কারণে তখন রীতিমতো সমস্যায় বোলাররা। কুলদীপ যাদবের একটা ওভারে অবশ্য পাল্টাল ম্যাচের চেহারা। দু’বলের মধ্যে ব্রিটজকে ও জানসেনকে ফেরান চায়নাম্যান। চার উইকেট নিয়ে তিনিই ভারতের সফলতম বোলার। দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্য লড়াই ছাড়েনি। করবিন বসের পাওয়ার হিটিং তো শেষ ওভার পর্যন্ত টেনশনে রেখেছিল। ছয় বলে দরকার ছিল ১৮। দলকে জেতাতে না পারলেও বস কিন্তু আতঙ্ক রেখেই গেলেন।
ভারতীয় সমর্থকরা নিশ্চয়ই ভাবছেন-
বিরাট কোহলি না থাকলে কি যে হত!
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ বুধবার, রায়পুরে।








