সিরিজ বাঁচাতে আজ জয়ের লক্ষ্যে নামছে টিম ইন্ডিয়া।
এম. রহমান, নতুন পয়গাম, গুয়াহাটি:
যে দেশের মাটিতে ভারতকে হারানো রীতিমতো অসাধ্য ছিল,সেই ভারত গৌতম গম্ভীর জমানায় হঠাতই দাপটহীন।নিউজিল্যান্ড গত বছর ০-৩ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে ঘরের মাঠে। দক্ষিণ আফ্রিকাও কলকাতায় সদ্য আড়াই দিনে টেস্ট জিতেছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় টেস্টে সিরিজ বাঁচাতে মাঠে নামছে ভারত। জিততে না পারলে আরও একটি টেস্ট সিরিজ হারের লজ্জা সঙ্গী হবে। চোটের কারণে ক্যাপ্টেন শুভমান গিল ছিটকে যাওয়ায় সমস্যা বেড়েছে। স্টপগ্যাপ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ এখন এই টেস্ট জিতে সিরিজ ড্র করতে পারেন কিনা, সেটাই দেখার।
সেনা দেশের (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) বিরুদ্ধে হোম সিরিজে টানা চারটি ম্যাচ হেরেছে গৌতম গম্ভীরের দল। গুয়াহাটিতেও পা হড়কালে স্কোর দাঁড়াবে ০-৫। অবশ্য তারপরও গম্ভীরের চাকরি খোয়ানোর ভয় নেই। তিনি যে শাসক ঘনিষ্ঠ! তবে কোচিং কেরিয়ারে দাগ লাগবেই। কলকাতায় গম্ভীরের গোঁয়ার্তুমির জন্যই ভরাডুবি হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার। কিউরেটরকে দিয়ে জোর করে ধুলো ওড়ানো পিচ বানিয়ে বিপদ ডেকে এনেছিলেন। অসমান বাউন্স, র্যাঙ্ক টার্নারে ভারতীয় ব্যাটাররাই তুর্কি নাচ নেচেছিলেন। প্রথমবার টেস্ট আয়োজন করা গুয়াহাটিতেও পিচ নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত। ভারতীয় শিবির জানিয়েছে, লাল মাটির উইকেট শুরুতে ব্যাটিং সহায়ক থাকবে। পরের দিকে বল ঘুরবে। অবশ্য ইডেন টেস্টের আগেও এমনটাই বলা হয়েছিল।
প্রশ্নের মুখে গম্ভীরের টিম নির্বাচনও। দলে এমনিতেই ছ’জন বাঁ-হাতি। তার উপর গিলের পরিবর্ত হিসেবে সম্ভবত খেলবেন আরও এক বাঁহাতি সাই সুদর্শন। অফ স্পিনার সাইমন হার্মারের চোখ চকচক করারই কথা। ইডেনে তিনি ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন। আসলে ভারতীয় স্কোয়াডে বিকল্প কোনও ডানহাঁতি স্পেশালিস্ট ব্যাটারই নেই। অক্ষর প্যাটেলকে বসিয়ে অলরাউন্ডার নীতিশ রেড্ডিকে অবশ্য খেলানো যায়। সেটা হলে প্রথম ন’জনে ডানহাতির সংখ্যা হবে তিন! তবে অযথা ঝুঁকি নিয়ে বড় শট খেললে ইডেনের মতোই ডুবতে হবে। টেস্ট ধৈর্যের খেলা। ঋষভদের উচিত শচীন তেন্ডুলকর, সুনীল গাভাসকরদের ভিডিও দেখে মাঠে নামার,যাতে বুঝতে পারেন কীভাবে স্পিন খেলতে হয়; সেই শিক্ষাটা জরুরি। কোচ গম্ভীর তো ইডেনে পরাজয়ের পরই স্বীকার করেছিলেন যে চাপের মুখে স্পিন খেলায় খামতির কথা। সেই ভুল থেকে ব্যাটাররা শিক্ষা নিয়েছেন কিনা, তা বোঝা যাবে এবার। পাশাপাশি, কোচরা নিজেদের দায়িত্ব কতটা পালন করেছেন, সেই আভাসও মিলবে।
পক্ষান্তরে, ২০০০ সালের পর ফের ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে প্রোটিয়ারা। ইডেনে কঠিন পিচে জিতে তেম্বা বাভুমাদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। ছন্দ ধরে রাখতে মরিয়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ীরা। ব্যাটিংয়ে তাদের বড় ভরসা বাভুমাই। আইডেন মার্করাম, ট্রিস্টান স্টাবসরাও রয়েছেন। প্রোটিয়াদের বোলিংও রীতিমতো শক্তিশালী। ইডেনে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন হার্মার। গুয়াহাটিতেও তাঁর দিকে নজর থাকবে। হার্মারকে সঙ্গত করতে তৈরি বাঁ-হাতি স্পিনার কেশব মহারাজও। পেস বিভাগে মার্কো জানসেনই সেরা অস্ত্র। চোটের জন্য এই ম্যাচেও নেই কাগিসো রাবাডা। তবে তাঁকে ছাড়াই তো ইডেনে জিতেছে প্রোটিয়ারা। দরকার বুঝলে লুঙ্গি এনগিডিকে নামাতে পারে।
অপরদিকে ভারত আর একবার তাকিয়ে বুম বুম বুমরাহর দিকে।








