হার্মারের ‘হার্ম-ফুল’ স্পিন আর গম্ভীরের গোঁয়ার্তুমিতে লজ্জার হার ভারতের
এম. রহমান, নতুন পয়গাম, কলকাতা:
গম্ভীর যতই বলুক যে-পিচ ঠিক ছিল।আদতে মোটেই ঠিক নয়।বল কখনো লাফাচ্ছে,কখন উঁচু হচ্ছে, নীচু হচ্ছে; এককথায় প্রায় ‘আনপ্লেয়বল’ ছিল পিচ।আর সেই পিচে ‘বিষাক্ত’ হয়ে উঠলেন সাইমন হার্মার।কিউরেটর সুজন মুখার্জির পরামর্শ না মেনে জোর করে এমন পিচই তৈরি করিয়েছিলেন উন্নাসিক এবং দাম্ভিক গম্ভীর। ফল যা হওয়ার, তাই হল। গম্ভীরের ‘স্বখাত-সলিলে’ ডুবে মরল টিম ইন্ডিয়া। রবিবার দুপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৩০ রানে দেশের হার দেখে বাড়ি ফেরার পথে তাই সমর্থকদের কণ্ঠে একরাশ হতাশা। কেউ কেউ তো বলেই ফেললেন, ‘এই ধরনের পিচ টেস্ট ক্রিকেটকেই নষ্ট করছে। মাত্র আড়াই দিনে খেল খতম, পয়সা হজম! যাঁরা সোম ও মঙ্গলবারের টিকিট কেটেছেন তাঁদের কী হবে?’
গুরু গম্ভীর জানেন কি, তাঁর সাধের ব্যাটিং লাইন-আপে সুনীল গাভাসকর, রাহুল দ্রাবিড়, এমনকী একজন চেতেশ্বর পূজারাও নেই? অধিকাংশ ব্যাটসম্যানের পা নড়ে না। দেখে মনে হয়, সাদা বলের ক্রিকেটেই মজে আছেন। যেমন অসম্ভব প্রতিভাসম্পন্ন যশস্বী জয়সওয়াল। প্রতিটি বলই বাউন্ডারির বাইরে না পাঠালে তাঁর যেন শান্তি নেই! অফ স্টাম্প ঠিক কোথায় তা অজানা লোকেশ রাহুল-ধ্রুব জুরেল-ঋষভ পন্থদের। বিপক্ষ অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা ক্রিজ আঁকড়ে যে ইনিংসটা খেলেছেন, তার সিকিভাগ খেললেও ম্যাচ বেরিয়ে যায়। আসলে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের খোলস ছেড়ে কীভাবে টেস্ট ক্রিকেটে ঢুকতে হয়, তা শেখেইনি গম্ভীরের ছাত্ররা। আশ্চর্যের ব্যাপার, ছাত্রদের টেকনিক সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ওয়াকিবহাল নন কোচ নিজেও। তাঁর ধারণা, বল ঘুরলে বা লাফালেও এই যশস্বী-ধ্রুবরা ম্যাচ বের করে দেবেন। চোটের কারণে অধিনায়ক শুভমান গিলের না থাকাটা অবশ্যই ফ্যাক্টর। তবে তা নিয়ে বেশি কথা বললে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’ই হবে।
স্পিনিং ট্র্যাক ও আনপ্লেয়েবল পিচের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? স্পিনিং ট্র্যাকে বল ঘুরবে। ফাটল দেখা দেবে তৃতীয় দিনের শেষে। টেকনিক, টেম্পারামেন্ট থাকলে রান পাবেন ব্যাটাররা। কিন্তু ইডেনের এই পিচের বাউন্স বুঝতেই পারেননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা। পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ম্যাচের প্রথম বল ঋষভ পন্থ ধরলেন বুক সমান উচ্চতায়। আর বুমরাহর দ্বিতীয় বলই প্রায় গড়িয়ে গড়িয়ে উইকেটরক্ষকের নাগাল এড়িয়ে বাউন্ডারির বাইরে পৌঁছে গেল। এই অসমান বাউন্স, অতিরিক্ত টার্ন এবং ভারতীয় ব্যাটারদের অযোগ্যতাই এই হারের প্রধান কারণ। দায় পুরোপুরি নিতে হবে সরকার ঘনিষ্ঠ গৌতমকেই। ম্যাচ শেষে গম্ভীর যতই পিচের গুণগান করুন, তা পাপস্খলনের জন্য যথেষ্ট নয়।
১৯৯৬ বিশ্বকাপে ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি নিশ্চয়ই মনে আছে গম্ভীরের। তখন তাঁর মাত্র ১৫ বছর বয়স। সেদিনও জয়সূর্যদের চাপে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপ। সেদিন খেলা বন্ধের আগে টিম ইন্ডিয়া খেলেছিল ৩৪.১ ওভার। আর এই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ৩৫ ওভারে গুটিয়ে গেল মাত্র ৯৭ রানে। আসল কথা হল, বোর্ডের অত্যন্ত প্রিয় পাত্র গম্ভীর। অমিত শাহের স্নেহধন্য বলেই জঘন্য পারফরম্যান্সেও তাঁর জামাই আদর চলছে। ঘরের মাঠে শেষ ছ’টি টেস্টের মধ্যে চারটিতে হেরেছে এই দল। অন্য কেউ হলে চাকরি যেত। কিন্তু গৌতম যে গেরুয়া শিবিরের কাছের লোক! তাই ম্যাচ হারলেও তাঁর চাকরি থাকছে,থাকবে আর সমর্থকরা হাহুতাশ করতে করতে বাড়ি ফিরবে।








