শুরু হতে না হতেই শেষের পথে, তিনদিনেই যবনিকা পড়তে চলেছে ইডেন টেস্টের!
এম. রহমান, নতুন পয়গাম, কলকাতা:
এত আয়োজন,এত উত্তেজনা সব যেন দ্বিতীয় শুষে নিল,সৌজন্যে-ইডেন পিচ।থিতু হতে পারলেন না কোনো ব্যাটারই।ফলে তৃতীয় দিনেই শেষ হতে চলেছে ইডেন টেস্ট এবং আরও একটা ভবিষ্যদ্বানী করে বলা যায়- এ টেস্ট ভারতই জিততে চলেছে।
যেহেতু জিতছে ভারত,তাই অভিযোগ তুলনামূলক কম।কীভাবে জিতলেন, কত ব্যবধানে জিতলেন, ক’দিনে ম্যাচ শেষ হল, তা বিচার্য নয়। দিনের শেষে জয় ছিনিয়ে নেওয়াই আসল। লক্ষ্য টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল। তার জন্য গতবারের চ্যাম্পিয়নদের হারানো জরুরি। তাই কলকাতায় পা রাখার পর পিচ নিয়ে পড়েছিলেন গম্ভীর। চাপ বাড়িয়ে নিজের মতো করে উইকেটও বানিয়েছেন। চার স্পিনার নিয়ে দল সাজানোর মধ্যেই বার্তা ছিল স্পষ্ট। দ্বিতীয় দিনেই ম্যাচের রাশ চলে গেল স্পিনারদের হাতে। বল লাট্টুর মতো ঘুরল, লাফাল, কখনও কখনও নীচু হয়ে আঘাত করল প্যাডে। দু’দিনেই পড়ল ২৭ উইকেট। তার মধ্যে রবিবারই ১৫টি। ১২টি স্পিনারদের ঝুলিতে। আসলে এমন ভুলভুলাইয়া পিচে রান করাই দুষ্কর। ব্যাট তোলা যাচ্ছে না। প্রথম ইনিংসে দুই দলের ব্যাটিংয়ে বড় কোনও ফারাক চোখে পড়ল না। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৫৯-এর জবাবে ভারতের দৌড় থামল ১৮৯ রানে। ম্যাচের গতিপ্রকৃতির নিরিখে মাত্র ৩০ রানের লিডটাও মূল্যবান দেখাচ্ছে।
শনিবার সকাল থেকেই ভিড় বাড়ছিল গ্যালারিতে। ১ উইকেটে ৩৭ থেকে লোকেশ রাহুল ও ওয়াশিংটন সুন্দর ধীরে ধীরে ভিত মজবুত করছিলেন। কিন্তু হার্মারের বলে ২৯ রানে আউট সুন্দর। ক্লাব হাউস থেকে শুভমান গিল ব্যাট হাতে বেরিয়ে আসতেই উচ্ছ্বাসের ঢেউ গ্যালারিতে। তিনিই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের পোস্টার বয়। নন্দন কাননে টেস্ট অভিষেক। দুটো বল দেখে নিয়ে তৃতীয় বলে পা মুড়ে সজোরে সুইপ। বল মাঠের বাইরে। উল্লাসে ফেটে পড়লেন দর্শকরা। কিন্তু কে জানত, রোদ ঝলমলে ইডেনে আচমকাই নেমে আসবে অন্ধকার! ঘাড়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন অধিনায়ক। আর নামতেই পারেননি। দিনের শেষে স্ট্রেচারে নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতালে। দ্বিতীয় ইনিংসেও তাঁর ব্যাট করা অসম্ভব।
ভারত অধিনায়কের চোট সংক্রান্ত উদ্বেগকেও ছাপিয়ে গেল পিচ। এমন উইকেটে রান পাওয়ার একটাই শর্ত— ইমপ্লিমেন্টেশন বা প্রয়োগ দক্ষতা। সেই নিরিখে ভারতের তথাকথিত তারকারা দায় এড়াতে পারেন না। সেট হয়েও আউট লোকেশ রাহুল। আর ঋষভ পন্থ প্রথম থেকেই ছটফট করছিলেন। একবার জীবন পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ফিরলেন ২৭ রানে। জাদেজা কিছুটা ভরসা জোগান দলকে। তবুও প্রশ্ন উঠছে, ন’জন ব্যাটার খেলিয়ে আখেরে কী লাভ হল? ধ্রুব জুরেল ব্যর্থ। হতাশ করলেন অক্ষরও। প্রশংসা করতে হবে প্রোটিয়া স্পিনার হার্মারের। একাই নিলেন চারটি উইকেট। যোগ্য সঙ্গত বাঁ হাতি পেসার জানসেনের। তাঁর ঝুলিতে তিনটি শিকার।
দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্বস্তিতে ম্যান্ডেলার দেশ। মনপসন্দ বাইশ গজে স্পিনের ভেল্কি দেখাচ্ছেন জাদেজা, কুলদীপরা। রবিবারই টেস্টের ফয়সালা হওয়া একপ্রকার নিশ্চিত। কেউ কেউ বলছেন, লাঞ্চ পর্যন্ত খেলা গড়াবে না। কঠিন যুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়ছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক বাভুমা (২৯ ব্যাটিং)। দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ৭ উইকেটে ৯৩। লিড আপাতত ৬৩। এই পিচে ১২০-১৩০ রান তাড়া করাও সহজ হবে না ভারতের পক্ষে। তার উপর গিলের ব্যাট করা অনিশ্চিত। ফলে বাভুমা কাঁটা উপড়ে প্রতিপক্ষ ইনিংসে দ্রুত যবনিকা টানতে না পারলে চিন্তা বাড়বে। দক্ষিণ আফ্রিকা যতই এক স্পিনার কম খেলাক, লড়াকু পুঁজি হাতে পেলে এই পিচে হার্মার-মহারাজও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন। তাই না আঁচালে বিশ্বাস নেই।
তবে অক্ষর প্যাটেল বলেন-
রান ১২০-১৩০ হলেও সমস্যা নেই।








