ক্রিকেটের নন্দনকাননে আজ শুরু বহু প্রতীক্ষিত ভারত-আফ্রিকা টেস্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম
সবে শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে বঙ্গে।তারই মধ্যে উষ্ণতা নিয়ে হাজির ভারত-দক্ষিন আফ্রিকা টেস্ট।যদিও দুই দলে কারা খেলবেন,ম্যাচের রেজাল্ট কি হবে,সেসব ছাপিয়ে- এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইডেনের পিচ।পিচ কি রকম আচরন করবে সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন!
বল গড়াবে আজ। তারপরেই পিচের চরিত্র বোঝা যাবে।
এদিকে ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত দফায় দফায় হুমড়ি খেয়ে পিচ পর্যবেক্ষণের পরেও প্রথম একাদশ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখল ভারতীয় শিবির। পিচ নাকি গিরগিটির মতো রং বদলাচ্ছে। সেটাই চিন্তার। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ম্যাচের দিন সকালে। মোদ্দা কথা হলো, যুদ্ধে নামার আগে অধিনায়ক গিল সেরা অস্ত্র লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেন আস্তিনে। তবে টস বড় ফ্যাক্টর। আগে ব্যাট করে বোর্ডে বড় রান চাপিয়ে দিতে পারলে, বাড়তি অ্যাডভান্টেজ। তবে লড়াই সহজ নয়। প্রোটিয়াদের সঙ্গে ভুলভুলাইয়া পিচও যে হয়ে উঠেছে প্রতিপক্ষ।
দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। আর এই খেতাবের স্বাদ অধরা টিম ইন্ডিয়ার কাছে। দু’দুবার সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে রানার্স হয়ে। গতবার তো বিদায় নিতে হয়েছিল আগেই। মুম্বইয়ে বোর্ডের সদর দপ্তরে জোড়া ওয়ান ডে বিশ্বকাপ ট্রফি রয়েছে। রোহিতের নেতৃত্বে জেতা টি-২০ বিশ্বকাপ ট্রফি জায়গা করে নিয়েছে ধোনির ২০০৭ সালের বিশের ফরম্যাটে বিশ্বসেরা হওয়া স্মারকের পাশে। ভরা সংসারে তবুও না পাওয়ার আক্ষেপ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাই এই টিম ইন্ডিয়ার একমাত্র লক্ষ্য। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারলে স্বপ্নপূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। টিম ইন্ডিয়া উঠে আসবে দ্বিতীয় স্থানে। এই সুযোগ কোনওভাবেই হাতছাড়া করতে চান না গিলরা।
মঞ্চ তৈরি। ঘরের মাঠ, বিপুল দর্শক সমর্থন, চেনা পরিবেশ—পাল্লা অবশ্যই ভারী গম্ভীরের ছেলেদের। কিন্তু প্রতিপক্ষ যে দক্ষিণ আফ্রিকা। যারা অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রবল পরাক্রমশালীকে বশ মানিয়েই টেস্টে বিশ্বসেরা হয়েছিল। কদিন আগে পাকিস্তানে পিছিয়ে পড়েও সিরিজে সমতা ফেরানোর সাহস দেখিয়েছিলেন কেশব মহারাজরা। তাই প্রোটিয়া বাহিনীকে সমীহ না করেও উপায় নেই। তবে যা গতি প্রকৃতি,
শুক্রবার সকালে ইডেনে ভারতের জার্সি গায়ে নামতে চলা এগারো জনের মধ্যে দশ জন চূড়ান্ত। বাকি একটা স্পট। লড়াই অক্ষর প্যাটেল ও কুলদীপ যাদবের মধ্যে। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্নটা শুনেই মুচকি হাসলেন ক্যাপ্টেন গিল। তবে প্র্যাকটিস দেখে মনে হল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ১২টি উইকেট পাওয়া চায়নাম্যান স্পিনার কুলদীপের খেলার সম্ভাবনাই বেশি।
দুই দল যতই স্পিন ব্রিগেডকে শক্তিশালী করুক, ইডেনের চিরাচরিত প্রথা হল, সকালের প্রথম ঘণ্টায় বল নড়বে। চালিয়ে খেলতে গেলেই বিপদ। গঙ্গার দিক থেকে বয়ে আসা হাওয়ায় বাড়তি স্যুইং আদায় করে নেবেন পেসাররা। তাই কিছুটা সময় ক্রিজে কাটিয়ে দিতে পারলে বড় ইনিংস খেলা অনেক সহজ হবে। তবে সময় যত গড়াবে, ম্যাচের রাশ চলে যাবে স্পিনারদের হাতেই।
ভারতের ব্যাটিং লাইন হতে পারে এরকম— লোকেশ রাহুলের সঙ্গে যশস্বী জয়সওয়াল করবেন ওপেন। ফর্মে না থাকলেও সুদর্শনই নামতে পারেন তিনে। চারে গিল। পাঁচে ঋষভ পন্থ। এই ম্যাচে স্পেশালিস্ট ব্যাটার হিসেবে ধ্রুব জুরেলকে খেলানোর ভাবনা টিম ইন্ডিয়ার। দুই পেসার হতে পারেন সিরাজ ও বুমরাহ।
উপমহাদেশের পিচে ম্যাচ জেতার রসদ মজুত দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরেও। তিন স্পিনার কেশব মহারাজ, সাইমন হার্মার ও সেনুরাম মুথুস্বামী পরীক্ষায় ফেলবেন ভারতীয় ব্যাটারদের। তবে রাবাডার সঙ্গে বাঁ হাতি পেসার জানসেনকে শুরুতে খেলতে সমস্যা হতে পারে। চোট সারিয়ে বাভুমা ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে শক্তি বেড়েছে। তবে রিকেলটন ও মার্করাম মোটেও ছন্দে নেই। মিডল অর্ডারে একাধিক অলরাউন্ডারের উপস্থিতি দক্ষিণ আফ্রিকার বড় শক্তি। তবে বল ঘুরলে জাদেজাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সহজ হবে না প্রোটিয়া বাহিনীর পক্ষে।
তবে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে প্রোটিয়ারাও যে একাধিক স্পিন অপশন রাখবে বলাই বাহুল্য।








