প্রশংসা আর পুরষ্কারে ভাসলেন বাংলার ‘ফিমেল’ ধোনি, পেলেন পুলিশের চাকরিও
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম:
উইকেটের পিছনে তিনি ধোনির মতোই বিশ্বস্ত এবং ব্যাট হাতেও অনবদ্য। ফাইনালে তাঁর অসামান্য ৩৪ রান পার্থক্য গড়ে দেয়।বাংলার সোনার মেয়ে রিচা ঘোষকে নিয়ে কাল ইডেনে যেন আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে গেল।
সোনার বল-ব্যাট, ৩৪ লক্ষ টাকার চেক, বঙ্গভূষণ ট্রফি, সোনার চেন তো থাকলই। ছিল পুষ্পস্তবক, উত্তরীয় ছাড়াও বঙ্গজীবনের অঙ্গ মিষ্টিও। চোখধাঁধানো আতসবাজির প্রদর্শনীও আনল মায়াবি আবহ। তবে শনিবারের গোধূলিবেলায় নন্দনকাননের ইউএসপি রিচা ঘোষের জন্য হৃদয় উজাড় করা আবেগ। তিনিই একমাত্র সিনিয়র বিশ্বকাপজয়ী বাঙালি। সেজন্যই হয়তো এমন পাগলপারা উন্মাদনা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তাঁর নাম ঘোষিত হতেই ক্লাবহাউসের লোয়ার টিয়ার কেঁপে উঠল গর্জনে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাঁর গলায় সোনার চেন পরানোর সময়ও শোনা গেল শব্দব্রহ্ম। আবার সিএবি প্রেসিডেন্ট যখন ভবিষ্যতে তাঁকে ইন্ডিয়া ক্যাপ্টেন হিসেবে দেখতে চাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন, তখনও তেমনই আবেগের বিস্ফোরণ। এমনকী, সিএবি থেকে বেরনোর সময়ও তাঁকে ঘিরে চলল ভালোবাসার অত্যাচার। আর তা এতটাই যে মা স্বপ্না ঘোষকে অন্য গাড়িতে উঠতে হল!
আলো ঝলমলে ইডেনেও পরতে পরতে থাকল তুঙ্গস্পর্শী আবেগ। ঝুলন গোস্বামী শোনালেন প্রথমবার রিচাকে ‘স্পট’ করার কথা। থাকল ঘোষণা, ‘ওই বাংলার সেরা মহিলা ক্রিকেটার। জুনিয়র পর্যায়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সিনিয়রদের ক্রিকেটেও তাই। আবার আরসিবি’র হয়ে ডব্লুপিএল’ও জিতেছে। তবে আরও দূর যেতে হবে।’
সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি সোজাসুজি বললেন, ‘কখনও বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ পাইনি। এটা স্পেশাল স্পেশাল মোমেন্ট। ছয়-সাত নম্বরে ব্যাট করাও রীতিমতো কঠিন। ওখানে কম বলে বেশি রান করতে হয়। সেটাই অনায়াসে করেছে রিচা। বিশ্বজয়ে তাই ওর অবদান কারও চেয়ে কম নয়।’ এরপরই মহারাজকীয় ভবিষ্যদ্বাণী, ‘চাইব একদিন ঝুলনের মতো রিচাও যেন ভারতের ক্যাপ্টেন হয়। ওর বয়স মাত্র ২২, সানার চেয়েও কম। তাই অনেক সময় আছে ওর সামনে।’
মুখ্যমন্ত্রী আবার শোনালেন সাংসদদের খেলায় তাঁর ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ হওয়ার গল্প। তারপর বললেন, ‘ইডেনকে আমি বলি গোল্ডেন গার্ডেন। সোনা তৈরি হয় এখানে। সৌরভ যেমন বিশ্বকে অনেক কিছু দিয়েছে। ওরই তো আইসিসি প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা। এখন তা হতে না পারলেও বিশ্বাস করি, একদিন ও হবেই। সৌরভকে আটকানো অত সহজ নয়। ঝুলনরা আবার একটুর জন্য বিশ্বকাপ পায়নি। রিচা সেটা পেরেছে। এর জন্য বাবা-মায়ের অবদান অনস্বীকার্য। তবে রিচার উপর চাপ বাড়াব না। ও যেন সহজাত ক্রিকেট খেলেই রাজ্যের তথা দেশের মুখ উজ্জ্বল করে। আমরা ওর পাশে আছি।’
স্বয়ং রিচার গলায় স্বপ্নালু আবেশ। ভাষাই যেন হারিয়ে ফেলেছেন। তারপর বললেন, ‘শিলিগুড়ি ও সিএবি’তে আমাকে যেভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে, তাতে আপ্লুত। নেটে টার্গেট সেট করে প্র্যাকটিস করতাম। চাপের মুখে সেটাই কাজে এসেছে। আসল হল মারার জন্য সঠিক বল বেছে নেওয়া। আমি সেটাতেই ফোকাস করি। বড় আসরে চাপ থাকেই। সেজন্য ফোন থেকে দূরে থাকি, মুভি দেখি, টিটি খেলি।’ ঠিক যেন ক্রিজ থেকে স্টেপ আউট করে ছক্কা। এমন বেপরোয়া আগ্রাসন তো মহিলা ক্রিকেটের ‘মাহি’কেই মানায়!
সর্বোপরব রিচার এই উত্থান বাঙালীর সামনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।








