ট্রাম্পের দেশে একমাস বেতনহীন ২০ লক্ষ চাকরিজীবী
নতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন:
টানা এক মাস ধরে আমেরিকায় ‘শাটডাউন’ চলছে। গত ১ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে মার্কিন প্রশাসন পুরোপুরি ‘অচল’। হোয়াইট হাউসের তৈরি প্রশাসনিক অর্থ বরাদ্দের বিল মার্কিন আইনসভায় (কংগ্রেস) পাশ হয়নি। ফলে, ট্রাম্প প্রশাসনের যাবতীয় কার্যক্রম আটকে গিয়েছে। গত এক মাস ধরে আমেরিকার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর বেতন এবং যাবতীয় সামাজিক পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শাটডাউনের প্রথম ধাক্কায় আমেরিকার প্রায় ৯ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিনা বেতনে তাঁদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৭ লক্ষ, অর্থাৎ ৩২ শতাংশ সরকারি কর্মচারী বিনা বেতনে কাজ করছেন। ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা করছেন আরও কয়েক লক্ষ। অর্থের অভাবে দৈনন্দিন জীবনধারণের সঙ্কট ভয়াবহভাবে বাড়ছে।
শাটডাউনের জেরে আমেরিকার প্রায় ৭ লক্ষ ৩০ হাজার সরকারি কর্মচারী বর্তমানে বিনা বেতনে কাজ করছেন। পাশাপাশি, সরকারের সাধারণ পরিষেবা প্রশাসনের ৯৮ শতাংশ, শিক্ষা দপ্তরের ৮৭ শতাংশ, বাণিজ্য দপ্তরের ৮১ শতাংশ, শ্রম দপ্তরের ৭৬ শতাংশ, বিদেশ দপ্তরের ৬২ শতাংশ, সেনা ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের ৪৫ শতাংশ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের ৪১ শতাংশ কর্মচারীর কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিনা বেতনে তাঁদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দের অভাবে তাঁদের ৪৮ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ছাঁটাই হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতএব আমেরিকায় মোট ২০ লক্ষ কর্মচারী বর্তমানে বিনা বেতনে রয়েছেন।
এরই মধ্যে, নভেম্বরের শুরু থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ১০ অক্টোবর মার্কিন কৃষি দপ্তর জানায়, মাসের শেষে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির জন্য তাদের পর্যাপ্ত অর্থ থাকবে না। এর ফলে অক্টোবরের শেষেই আমেরিকার ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রাগ্রাম’ (এসএনএপি) প্রকল্প, শিশু ও প্রসুতিদের পর্যাপ্ত পুষ্টি সরবরাহের সরকারি প্রকল্প বন্ধ করার ঘোষণা করেন ট্রাম্প। যদিও তৎক্ষণাৎ তা আদালতে খারিজ হয়ে যায়। এদিকে ৪১ শতাংশ কর্মচারীর কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিনা বেতনে তাঁদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দের অভাবে তাঁদের ৪৮ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ছাঁটাই হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অতএব আমেরিকায় মোট ২০ লক্ষ কর্মচারী বর্তমানে বিনা বেতনে রয়েছেন।
এরই মধ্যে, নভেম্বরের শুরু থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ১০ অক্টোবর মার্কিন কৃষি দপ্তর জানায়, মাসের শেষে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির জন্য তাদের পর্যাপ্ত অর্থ থাকবে না। এর ফলে অক্টোবরের শেষেই আমেরিকার ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’ (এসএনএপি) প্রকল্প ও শিশু ও প্রসুতিদের পর্যাপ্ত পুষ্টি সরবরাহের সরকারি প্রকল্প বন্ধ করার ঘোষণা করেন ট্রাম্প। যদিও তৎক্ষণাৎ তা আদালতে খারিজ হয়ে যায়।
শেয়ার বাজারের সূচকও মুখ থুবড়ে পড়েছে।
শাটডাউন মিটে গেলে সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের বকেয়া বেতন পাওয়ার আশা রাখছেন। তবে চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা সবচেয়ে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, যেহেতু তাঁদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বকেয়া মেটাতে বাধ্য নয়। এদিকে শাটডাউনের সুযোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকার খেটে খাওয়া মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া না দেওয়া বা ছাঁটাই করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। এতে অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়বে। আর তিন দিন শাটডাউন চললেই তা আমেরিকার ইতিহাসে সব থেকে দীর্ঘতম শাটডাউন হিসাবে গণ্য করা হবে। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে- ২০১৮-র ডিসেম্বর থেকে ২০১৯-র জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ৩৫ দিন শাটডাউন চলে। এখনও পর্যন্ত সেটাই আমেরিকার ইতিহাসে দীর্ঘতম শাটডাউন হিসেবে বিবেচিত হয়। ট্রাম্প, প্রশাসনের দুই মেয়াদেই আমেরিকা যে দীর্ঘতম অচলায়তনের সম্মুখীন হয়েছে, তা এই সময়কালে মার্কিন রাজনীতির তীব্র মেরুকরণের ইঙ্গিত দেয়। এর আগে আমেরিকায় ‘শাটডাউন’ ঘোষণা হলে, প্রধান দুই দল নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে সে পরিস্থিতি মিটিয়ে নিত। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের চিরাচরিত একবগ্গা আচরণের জেরে তা সম্ভব হয়নি। সপ্তাহখানেক আগেই শাটডাউন তুলে নেওয়ার বিষয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনায় বসেন ট্রাম্প ও মার্কিন সেনেটের বিরোধী দলনেতা চাক শুমার। তবে এই বৈঠক সফল হয়নি।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিল কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে পাশ হলেও, উচ্চকক্ষ অর্থাৎ সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সমর্থন পায়নি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর মোট ১০০ জন সেনেট সদস্যের মধ্যে ৪৪ জন এই বিলের পক্ষে এবং ৪৮ জন বিরুদ্ধে ভোট দেন। বিরোধী ডেমোক্র্যাট পার্টির সমস্ত সাংসদদের পাশাপাশি, রিপাবলিকান পার্টিরও দুই সাংসদ এই বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেন। তার পরের দিন ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাব করা অর্থ বরাদ্দের বিলও সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে খারিজ হয়।
কোন খাতে কত অর্থ বরাদ্দ করা উচিত, তা নিয়ে আমেরিকার দুই দলের মধ্যে বচসা বাঁধে। ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টি সামাজিক প্রকল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও বার্ধক্য ভাতার ব্যয় বরাদ্দ কমাতে চায়। জলবায়ু সঙ্কট মোকাবিলায় সার্বিক বরাদ্দ বন্ধ করতে চায়। স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়াম ও ছাত্র ঋণের সুদের হার বাড়াতে চায়। উচ্চ আয়ে করের হার কমিয়ে কর্পোরেট করে ছাড় দিতে চায়। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত ‘অপ্রয়োজনীয় কর্মচারী’, বিশেষ করে মহিলা ও প্রান্তিক লিঙ্গের মানুষদের ছাঁটাই করতে চায়। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় নজরদারি, অভিবাসন প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রপতির বাসভবন সংস্কারে বরাদ্দ বাড়াতে চান ট্রাম্প। এতে বিরোধীদের পাশাপাশি খোদ রিপাবলিকান পার্টিরও বেশ কয়েকজন সাংসদ রাজি হয়নি।








