ওয়াশিংটনের ‘সুন্দর’ ব্যাটিং আর উপেক্ষিত নায়কের দুরন্ত বোলিংয়ে সিরিজে সমতা ভারতের
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম
অস্ট্রেলিয়া ১৮৬-৬ (২০ ওভার)।
ভারত ১৮৮-৫ (১৮.৩ ওভার)।
হোবার্টঃ
‘তোমার হল সারা, আমার হল শুরু’ – মুম্বই থেকে ১০ হাজার কিলোমিটার দূরে বোধহয় এই বার্তাই দিয়ে শুরু করেছিলেন হরমনপ্রীতের দল।
সিরিজে ০-১ অবস্থায় পিছিয়ে থেকে অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো যে একেবারে সহজ নয়,তা জানে আসমুদ্রহিমাচল।ফলে কঠিন পরিস্থিতিতে ছেলেদের সহজ জয় অবশ্যই উদ্বুদ্ধ করেছিল ভারতের মেয়েদের।
এদিন ন’বল বাকি থাকতেই ১৮৬ রান তাড়া করে সিরিজে সমতা ফেরাল মেন টিম ইন্ডিয়া। এমন দাপুটে জয়ে তারকাদের অবদান অবশ্য যৎসামান্যই। মারমুখী অভিষেক শর্মা ফিরলেন ২৫ রানে। তারপর সেট হয়ে এলবিডব্লু শুভমান গিল (১৫)। আর ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার (২৪) ক্যাচ প্র্যাকটিস করানোর ঢঙে উইকেট উপহার দিলেন এক্সট্রা কভারে। স্কোর তখন ৭৬-৩। সিরিজ ২-০ করার আশা জাগিয়ে তুললেন মার্শরা। অক্ষর প্যাটেলও চাপের মুখে ১৭ রানে ধরা পড়লেন বার্টলের হাতে। চলতি সফরে টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয়ের ধারা অব্যাহত। যে কারণে মুখ পুড়েছিল ওয়ান ডে সিরিজে। দ্বিতীয় টি-২০’তেও সঙ্গী হয়েছিল পরাজয়। রবিবার টপ অর্ডারের ব্যর্থতা দলকে ঠেলে দিয়েছিল বিপদের মুখে। কিন্তু ধ্বংসস্তুপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ২৩ বলে অপরাজিত ৪৯। এক রানের জন্য হাফ-সেঞ্চুরি অধরা থাকল ঠিকই, কিন্তু দলকে জেতানোর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী-ই বা হতে পারে! তিলক ভার্মার সঙ্গে জুটিতে যোগ করেন ৩৫ রান। দু’জনেই পারতেন ম্যাচ শেষ করতে। কিন্তু তিলক স্কুপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষকের হাতে। প্রশংসা করতে হবে সঞ্জুর পরিবর্ত হিসেবে নামা জিতেশ শর্মার। তরুণ উইকেট কিপার চাপ সামলে যোগ্য সঙ্গত দিলেন সুন্দরকে। তাঁর সংগ্রহ ১৩ বলে অপরাজিত ২২।
ভারত জিতল ৫ উইকেটে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ দাঁড়াল ১-১। বাকি দু’টি ম্যাচ। কোচ গৌতম গম্ভীর কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলেন। দেরিতে হলেও ভুল বুঝতে পেরেছেন গোতি। হর্ষিত রানাকে বসিয়ে বাঁহাতি পেসার অর্শদীপকে খেলানোর সুফল মিলল হাতেনাতে। ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিলেন পাঞ্জাব কা পুত্তর। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার ফায়দা তুলেছেন অর্শদীপ। বাইশ গজে তিনি থিতুই হতে দেননি ট্রাভিস হেড (৬) ও জস ইলিংশকে (১)। এরপর ডেথ ওভারে তুলে নেন আগ্রাসী মেজাজে থাকা মার্কাস স্টোইনিসের উইকেট। উইকেট না পেলেও দারুণ কৃপণ বোলিং করলেন বুমরাহও। ৪ ওভারে দিলেন মাত্র ২৬ রান। পাশাপাশি স্পিনে নজর কাড়লেন বরুণ চক্রবর্তী। তাঁর বিষাক্ত ডেলিভারিতে খাতা খুলতে ব্যর্থ মিচেল ওয়েন। একটা সময় অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৭৩। সেখান থেকে টিম ডেভিড ও স্টোইনিসের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ক্যাঙারু বাহিনী পৌঁছায় ১৮৬-৬। ডেভিডের সংগ্রহ ৩৮ বলে ৭৪। শিবম দুবের নিরীহ বোলিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৩৯ বলে ৬৪ করলেন স্টোইনিস। হার্দিক পান্ডিয়ার বিকল্প হিসেবে দুবেকে পেস অলরাউন্ডার তৈরির প্রয়াস ধাক্কা খাচ্ছে বার বার। গ্রেগ চ্যাপেল একই ভুল করেছিলেন ইরফান পাঠানের ক্ষেত্রে। শেষ পর্যন্ত তাঁর কেরিয়ারটাই শেষ হয়ে গিয়েছিল। গম্ভীর কি সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেবেন!সেটা সময়ই বলবে।
তবে ক্রিকেটে জয়ই সব।জয় পেলে সিকান্দার, নাহলে বান্দর।
যে ওয়াশিংটনকে খেলানোর জন্য প্রশংসিত হচ্ছেন গম্ভীর,সেই সুন্দর মূলত বোলার হয়েও বলা না করানোর জন্য এবং যদি কাল রান না পেত,আবার কিন্তু সমালোচনার ঝড় বয়ে যেত।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ডঃ-
অস্ট্রেলিয়া ১৮৬-৬ (ডেভিড ৭৪, স্টোইনিস ৬৪, শর্ট অপরাজিত ২৬, অর্শদীপ ৩-৩৫)।
ভারত ১৮৮-৫ (ওয়াশিংটন অপরাজিত ৪৯, তিলক ২৯, এলিস ৩-৩৬)।








