হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন
নতুন পয়গাম, তাবাসসুমা খাতুন, বসিরহাট: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এবারের নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ রায়, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আনন্দ সরকার এবং ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে রেখা পাত্র—এই তিনজন প্রার্থীকে ঘিরেই জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই।
ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থী বিশ্বজিৎ রায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, শুনছেন তাদের অভাব-অভিযোগ। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিনি বিপুল সাড়া পাচ্ছেন এবং মানুষ পরিবর্তন চাইছেন।
হিঙ্গলগঞ্জ একটি নদীমাতৃক এলাকা হওয়ায় এখানকার সমস্যাগুলিও কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি দুলদুলি এলাকায় একটি স্থায়ী কংক্রিট সেতু নির্মাণ। এখনও পর্যন্ত সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “বসিরহাটের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য এই সেতু অত্যন্ত জরুরি। মানুষ প্রতিদিন সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করছেন।”
এছাড়াও এই বিধানসভা এলাকার আরেকটি বড় সমস্যা হল পানীয় জলের সংকট। বহু এলাকায় এখনও নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছায়নি। এর পাশাপাশি বর্ষাকালে নদীভাঙন একটি ভয়াবহ রূপ নেয়। নদীর তীরে বসবাসকারী বহু মানুষ প্রতি বছরই ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটান। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, “মানুষ যদি আমাকে জয়ী করেন, তাহলে সেতু নির্মাণ, পানীয় জল এবং নদীভাঙন—এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করব।”
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আনন্দ সরকার দাবি করেছেন, গত কয়েক বছরে তাঁর দল হিঙ্গলগঞ্জে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই অনেক কাজ করেছি। আগামী দিনেও মানুষের সমস্যা সমাধানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” সব মিলিয়ে উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতির লড়াইয়ে হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের কাছে এবারের ভোট শুধুমাত্র সরকার বাছাই নয়, বরং নিজেদের মৌলিক সমস্যার সমাধানেরও একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত হিঙ্গলগঞ্জের মানুষ কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।








