আমার নজরে এসআইও
আরিফ সেখ
এসআইও শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, এটা আমার কাছে এক আবেগের নাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানের পথ চলা শুরু ১৯৮২ সালের ১৯ অক্টোবর। একটি প্রতিষ্ঠানে যেমন বিভিন্ন ক্লাস থাকে এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। যেমন একদিকে শিখবে বিশ্বের টেকনোলজি অপরদিকে শিখবে জান্নাতের পথ পরিক্রমা। বাহ্যিক সৌন্দর্য যতটা মনোমুগ্ধকর, ভেতরটাও ঠিক ততটাই সুশৃংখল, মানবিক ও নমনীয়তার প্রতীক। যারা তাঁর সান্নিধ্য লাভ করার সৌভাগ্য পেয়েছে সে নিজেকে সমাজে এক অন্যরকম ভাবে উপস্থাপন করেছে।
মিশন: ঐশী পথ (কুরআন-সুন্নাহ) অনুযায়ী সমাজ পুনর্গঠনে ছাত্র যুবকদের উদ্বুদ্ধ করা। এই মিশনকে সামনে রেখে ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলে অনবরত। যে কাফেলা এক অভিন্ন। এ কাফেলার সাথীরা দুনিয়া পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, জান্নাতের উচ্চ আকাঙ্খায় তাদের দিন কাটে। তাদের দিন কাটে দ্বীনি কাফেলায়, রাত কাটে তাহাজ্জুদের জায়নামাযে। অশ্রুসিক্ত নয়নে ডুব দেয় রবের প্রেমে।
এই কাফেলার সদস্যরা যেমন করে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে উন্নত কুরআন-হাদীস গবেষণাতেও তৎপর। অসহায়ের পাশে যেমন আশার আলো হয়ে ছুটে চলে, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদী কণ্ঠ।
কাফেলার সদস্যরা দায়িত্ব পেলে কান্নায় বুক ভাষায়, অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পাওয়ার জন্য হত্যাযজ্ঞ চালাতেও বদ্ধপরিকর। তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আর আমার সংগঠনের সদস্যরা দায়িত্বের আমানত রক্ষা করে এটাই পার্থক্য।
এই কাফেলায় সকলকেই দেওয়া হয়েছে সমানাধিকার, স্বাধীনতা। এরা গায় একতার গান, ডাক দেয় ঐক্যের পথ করে সুগম। অসীম প্রেমের পরশ দিয়ে বুকে টেনে নেয় দায়িত্বশীলগণ, ভুল-ত্রুটি হলে মার্জিত ভাষায় মাথায় কোমল হাত বুলিয়ে সংশোধন করে দেয়। কখনও চোখ রাঙানি, ধমকানি, চমকানি, রাগান্বিত চেহারা প্রকাশ করেনি। তাদের থেকে শুধু ভালবাসার পরশ, এক প্রকার আত্মিক টান অনুভব করি।
মাঝে মাঝে অনুমিত হই বর্তমান সমাজের রূপরেখা দেখে। এই অন্ধকার-কোলাহল পরিবেশে নিজেকে তরুণরা স্রোতের অভিমুখে যেভাবে তাল মিলিয়েছে, নিজের চরিত্রকে করেছে কালিমালিপ্ত, কিন্তু আমার কাফেলার ভাইয়েরা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা স্রোতের সাথে নয়, স্রোতের বিপরীতে নিজের জীবন পরিচালনা করছে। ক্লাসে ফার্স্ট হওয়াটা যেমন গর্বের বিষয়, ঠিক এই কোলাহল পরিবেশে নিজেকে উন্নত চরিত্র রূপে গড়ে তোলাটা বেশিই গর্বের।
আমরা আজকে আবারও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, আমরাই গড়ব আগামীর দেশ, ন্যায়, সততা, মানবিকতার প্রতীক হয়ে।








