ওবিসি: নলহাটি ও দেগঙ্গার বিধায়ককে পিআইবি-র ডেপুটেশন
নতুন পয়গাম:
রবিবার বীরভূম জেলার নলহাটির বিধায়ক তথা নলহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র প্রসাদ সিংহের কাছে পিআইবি-র পক্ষ থেকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা এদিন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ২০২৪ সালে হাই কোর্টের অর্ডারে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল হওয়ার পরে রাজ্য সরকার নতুন ওবিসি তালিকা প্রকাশ করে। এতে ‘ওবিসি-এ’ থেকে বহু পিছিয়েপড়া সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ওবিসি-বি ক্যাটিগোরিতে সরিয়ে আনা হয়েছে। আর ওবিসি-বি থেকে ওবিসি-এ-তে তুলনামূলক আর্থিকভাবে স্বচ্ছল সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়কে আনা হয়েছে। এতে প্রকৃত পিছিয়েপড়া সংখ্যালঘু শ্রেণির কোনো সুবিধা হল না।
কীভাবে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সংরক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তা বিস্তারিত জানানো হয় নলহাটির বিধায়ককে। বিসিডব্লিউ কমিশনের সদস্য ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেনকে তৎক্ষণাৎ ফোন করে পিআইবি-র দাবিগুলো জানান এবং নতুন তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পিআইবি-র প্রতিনিধিদলকে বিধায়ক আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন।

উল্লেখ্য, এদিন একই ইস্যুতে নতুন ওবিসি তালিকা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ‘প্রোগ্রেসিভ ইন্টেলেকচুয়ালস অফ বেঙ্গল’ বা পিআইবি-র তরফে দেগঙ্গার বিধায়ক রহিমা মন্ডলকেও ডেপুটেশন দেওয়া হয়। প্রতিনিধিদল তাঁকে জানায়, নতুন তালিকার জেরে সংখ্যালঘু ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির বহু পড়ুয়া শিক্ষা, বিশেষত উচ্চশিক্ষা (পিএইচডি ভর্তি) ও অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাঁদের অভিযোগ, নতুন তালিকা কার্যকর হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৩০ শতাংশ মানুষ কার্যত উধাও। সংরক্ষণ থাকা সত্ত্বেও বহু যোগ্য প্রার্থী সুযোগ পাচ্ছেন না, যা সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন তুলেছে। অবিলম্বে রাজ্য সরকার হস্তক্ষেপ না করলে প্রাইমারি, আপার প্রাইমারিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই রকম বঞ্চনার শিকার হবেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যোগ্য, মেধাবীরা — এই আশঙ্কা পিআইবি-র।
তাই সংগঠনের দাবি, বর্তমান ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ওবিসি তালিকা বাতিল করে পুরনো ওবিসি তালিকা ফিরিয়ে এনে বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হবে। বিধায়ক রহিমা মন্ডল তাদের কথা ও দাবি-দাওয়া মন দিয়ে শোনেন এবং ডেপুটেশন নেন। অভিযোগগুলি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখারও আশ্বাস দেন।








