“তাৎক্ষণিক ঋণ”-এর প্রলোভনে প্রতারণা, গ্রেফতার ৫
অতসী মণ্ডল, নতুন পয়গাম, হাওড়া
এক অভিনব প্রতারণা কাণ্ডের পর্দাফাঁস করল হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ। “ম্যাজিক পেন” ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতানোর অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রতারণার মাধ্যমে তোলা ১,৮৬,০০০ টাকা।
ঘটনাটি বাগনান থানার অন্তর্গত খাদিনান এলাকার। অভিযোগকারী গোলাম কাদার জানান, তাঁর ছেলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়। জানা গেছে, জরুরি ঋণের প্রয়োজনে অভিযোগকারীর ছেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গ্রুপে যোগাযোগ করেন, যেখানে কিছু ব্যক্তি যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাৎক্ষণিক ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। “লোন ভেরিফিকেশন”-এর নামে প্রতারণা চক্রটি ক্লাইন্টের বাড়িতে গিয়ে একটি বাতিল চেক চায় এবং বিশেষ এক “ম্যাজিক পেন” দিয়ে তাতে “CANCELLED” শব্দটি লেখে। কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই লেখা অদৃশ্য হয়ে যায়, আর সেই চেক ব্যবহার করেই হাতিয়ে নেয় ব্যাংক ব্যালেন্স।
বাগনান থানায় ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীরা কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR), সাবস্ক্রাইবার ডিটেইল রেকর্ড (SDR) এবং টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করে একে একে চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন অভিজিৎ ঘোষ, সুব্রত খামরুই, বিশ্বনাথ দাস ওরফে অমল কৃষ্ণ মণ্ডল, প্যাট্রিক লিওন স্মিথ ওরফে গ্যাভেন এবং চন্দন রায় ওরফে সুপ্রভাত দত্ত। তাদের মধ্যে শেষ দুইজনকে যথাক্রমে নারেন্দ্রপুর ও কল্যাণী থানা এলাকা থেকে ধরা হয়।
হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক কারও হাতে তুলে দেবেন না, বিশেষত “লোন ভেরিফিকেশন”-এর নামে নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত “তাৎক্ষণিক ঋণ”-এর প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে কেবলমাত্র নিবন্ধিত ব্যাংক বা NBFC-এর মাধ্যমেই আর্থিক লেনদেন করতে হবে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে অবিলম্বে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, নাগরিকদের আর্থিক ও সাইবার প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দিতে হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ সর্বদা সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।








