প্রধান বিচারপতিকে জুতো উঁচিয়ে ধৃত আইনজীবী
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এজলাস চলাকালে নির্ধারিত আসনে বসেছিলেন প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই। এমন সময় আচমকা একেবারে সামনে চলে গিয়ে বর্য়ীয়ান আইনজীবী রাকেশ কিশোর বলতে থাকেন, ‘সনাতন ধরম কা অপমান, নেহি সহেগা হিন্দুস্তান।’ জানা গিয়েছে, পূর্ব দিল্লির ময়ূর বিহারের বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সি আইনজীবী রাকেশ স্লোগান দিতে দিতেই হঠাৎ নিজের পা থেকে খুলে ফেলেন জুতো। সামনে বসা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে লক্ষ্য করে জুতো উঁচিয়ে এগিয়ে যেতেই অবশ্য আটকানো হয় তাকে। তখন গোটা এজলাস হতভম্ব হয়ে যায়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় এহেন চরম অবমাননাকর ও নজিরবিহীন ঘটনা। আগে কোনওদিন এরকম ঘটনা ঘটেনি। যাতে হইচই পড়ে যায় সারা দেশজুড়ে।
নির্বিকার প্রধান বিচারপতি বি.আর গাভাই বলেন, ‘এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা আমাকে বিচলিত করে না। ইগনোর ইট। বিভ্রান্ত হবেন না। আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কার কী মেনশন করার আছে করুন।’ এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন। অভিযুক্ত আইনজীবীকে সাসপেন্ড করেছে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া। দেশের কোনও আদালত বা ট্রাইব্যুনালে প্র্যাকটিস করতে করতে পারবে না আইনজীবী রাকেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনে কথা বলেন প্রধান বিচারপতি বি.আর গাভাইয়ের সঙ্গে। পরে এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে দেশের প্রধান বিচারপতির উপর হামলায় ক্ষুব্ধ প্রত্যেক ভারতবাসী। আমাদের সমাজে এই ধরনের নিন্দনীয় কাজের কোনও স্থান নেই। এমন পরিস্থিতিতেও মাননীয় বিচারপতি গাভাই যেভাবে শান্ত ও সংযত ছিলেন, তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।’ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বলেছেন, ‘এটা স্রেফ দেশের প্রধান বিচারপতিকেই অপমান নয়, সংবিধান এবং বিচার ব্যবস্থার উপর আঘাত। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি বিনয়ের সঙ্গে অগ্রাহ্য করলেও দেশের সচেতন মানুষদের এব্যাপারে প্রতিবাদ করা উচিত।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ”ভয়ানক ঘটনা। এটা আদতে দেশের সংবিধানের উপরই হামলা। আজ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ভারতের মাননীয় প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এটি অত্যন্ত জঘন্য কাজ। এটি কার্যত সংবিধানের উপর আক্রমণ। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিচারপতি গাভাইকে সম্মান করি।”
নেপথ্য কারণ কী?
ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহো মন্দির কমপ্লেক্স নিয়ে এক মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের বেঞ্চে। সেখানকার জাভারি মন্দিরে মুখমণ্ডলহীন সাত ফুট উঁচু বিষ্ণু মূর্তির সংস্কার চাইছিলেন এক আইনজীবী। তখনই প্রধান বিচারপতি মামলাটি খারিজ করতে গিয়ে মন্তব্য করেন, ‘যদি আপনি সত্যিই বিষ্ণুর ভক্ত হন, তবে যান এবং প্রার্থনা করুন। দেবতাকে বলুন যেন, উনি নিজেই কিছু করেন। খাজুরাহো একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং এএসআইয়ের অনুমতি প্রয়োজন।’ সূত্রের খবর, বিচারপতি গাভাইয়ের এহেন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই এদিন আইনজীবী রাকেশ কিশোর জুতো ছুড়ে মারতে যান প্রধান বিচারপতিকে। অভিযুক্তকে আটক করে তিন ঘণ্টা জেরা করেছে দিল্লি পুলিস। তাঁর কাছে পাওয়া গিয়েছে স্লোগান লেখা চিরকুট। যদিও জেরার পর প্রধান বিচারপতির পরামর্শে তাকে ছেড়ে দিতে বলেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল।








