ডিব্রুগড়ে সাংবাদিকদের হুঁচরি দলের ষোড়শ বর্ষে পদার্পণ
নতুন পয়গাম, এম হাশিম আলি, ২৪ এপ্রিল: অসম এবং অসমীয়া জাতীয় জীবনের আয়ুরেখা তথা বাপতি সাহোন বহাগ বিহু মানেই অসমীয়া মানুষের প্রাণ। হাজার দুঃখ-কষ্ট থাকলেও বিহুতে একবার হলেও কোমর দুলিয়ে নাচার ইচ্ছা সবারই থাকে। ব্যতিক্রম নন ডিব্রুগড়ের সাংবাদিকরাও। প্রতিদিন নিত্যনতুন তথ্য নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাজ্য ও দেশবাসীকে প্রতি মুহূর্তের খবর পৌঁছে দিতে দিনভর ব্যস্ত থাকা সাংবাদিকরা তাঁদের কর্মব্যস্ততার মাঝেই ষোড়শ বছরে পদার্পণ করল হুঁচরি দল। পরম্পরাগত বিহুর নিয়মে গৃহস্থের মঙ্গলকামনা ও আশীর্বাদ জানিয়ে জাতীয় জীবনের ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়াসে এ বছরও ডিব্রুগড়ের সাংবাদিকদের দেখা গেল ঘরে ঘরে গিয়ে হুঁচরি পরিবেশন করতে। ডিব্রুগড় সদর এলাকায় কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার বিভিন্ন জাতি-জনগোষ্ঠী ও ধর্মাবলম্বী সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ হয়ে গত ১৫ বছর ধরে এইভাবে হুঁচরি গেয়ে আসছেন। জাতীয় পোশাক পরে ঢোল, পেঁপা, বাঁশি ও পরম্পরাগত বিহুনাম গেয়ে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের উঠোনে হুঁচরি পরিবেশন করা হয়। ঐক্য ও সংস্কৃতির ভ্রাতৃত্ববোধে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সাংবাদিক এক হয়ে ২০১১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এই হুঁচরি পরিবেশনের ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছেন। তবে গত দু-বছরে দু’জন প্রবীণ সাংবাদিকের মৃত্যুর কারণে হুঁচরি বন্ধ ছিল। কিন্তু এবার আবার সকল সাংবাদিক কোমরে গামছা বেঁধে বিহুর আনন্দে মেতে উঠেছেন। সাংবাদিকদের হাতে ক্যামেরা বা বুম নয়, বরং ঢোল, পেঁপা ও বাঁশি এই হুঁচরিই চারিদিক মুখরিত করে তুলেছে। সাংবাদিকরা রাত গভীর পর্যন্ত হুঁচরি গেয়ে যে অর্থ সংগ্রহ করেন, তা ‘সাংবাদিক কল্যাণ সমিতি’র নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রেখে বিভিন্ন সময়ে বিপদগ্রস্ত সাংবাদিকদের সাহায্য করে আসছেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন সাংবাদিককে দুর্ঘটনা ও চিকিৎসার জন্য এককালীন সাহায্য দেওয়া হয়েছে। ডিব্রুগড়ের সাংবাদিকদের এই উদ্যোগ স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের সংবাদমহলে এক নজির স্থাপন করেছে। এই উদ্যোগকে ডিব্রুগড়বাসী ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং বিভিন্ন ধর্ম ও জাতি-জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য, সম্প্রীতি অটুট থাকার কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, সাংবাদিক হুঁচরি দলের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে ডিব্রুগড় পুরনিগমের কাউন্সিলর ও প্রাক্তন আছু নেতা বিজু লখিমী হাজৰিকাই একটি বিহুর ঢোল ও এক জোড়া তাল উপহার দিয়েছেন।








