ষাটের দশকের বিশিষ্ট কবি, অধ্যাপক ড. নিরেন্দু হাজরা প্রয়াত
নতুন পয়গাম, অভিজিৎ হাজরা, হাওড়া: ষাটের দশকের বিশিষ্ট কবি, অধ্যাপক ও গবেষক ড. নিরেন্দু হাজরা প্রয়াত হয়েছেন। দীর্ঘ রোগভোগের পর গত ১৫ এপ্রিল রাত ১০টা ২৮ মিনিটে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।তিনি রেখে গেলেন স্ত্রী, দুই কন্যা ও অসংখ্য গুণমুগ্ধ। নিমতলা মহাশ্মশানে তাঁর অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ড. হাজরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ও ইংরেজিতে এম.এ এবং পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। গ্রামের বেশ কয়েকটি উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকতার পর পুরাশা-কানপুর হরিদাস নন্দী মহাবিদ্যালয়ে ২২ বছর অধ্যাপনা করেন।
ষাটের দশকের অন্যতম কবি হিসেবে তিনি নিজেকে তুলে ধরেন। তাঁর লেখা কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১২টি। এছাড়া বঙ্কিম অগ্রজ সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের জীবন ও সাহিত্য বিষয়ক একটি গবেষণা গ্রন্থ এবং ৫টি প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা অবলম্বনে ‘দেনা-পাওনা’, ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘দুই বিঘা জমি’ শীর্ষক নাট্যরূপ দেন, যা তৎকালীন সময়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বিভিন্ন মঞ্চে মঞ্চস্থ হয়।আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনুষ্ঠানে কথিকা পাঠে অংশ নেন তিনি। প্রবাসী, পরিচয়, দৈনিক বসুমতী, সপ্তাহ, সত্যযুগ, একক, স্বদেশ, কেতকী সহ অজস্র পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতো।হাওড়ার গ্রামীণ এলাকা উদয়নারায়ণপুর থেকে ‘অঞ্জলি’ নামে প্রথম প্রিন্টেড ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেন, যা দুই বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে মেলবন্ধন ঘটিয়েছিল। এছাড়া ‘শম্পা’ নামে একটি পত্রিকার সম্পাদনাও করেন তিনি।উদয়নারায়ণপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ প্রতিষ্ঠা করে বহু ছাত্র-ছাত্রীকে কবি, সম্পাদক, সাংবাদিক হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ করে দেন। তিনি কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য ও চেন্নাই রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফেলো মেম্বার ছিলেন।প্রয়াত এই কবি মাইকেল মধুসূদন সম্মান, কবি দিনেশ দাস স্মারক সম্মাননা ও চেন্নাই আন্তর্জাতিক রাইটার্স সম্মাননা সহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলেন।








