প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী
নতুন পয়গাম, এম নাজমুস সাহাদাত, মালদহ: প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও বর্ষীয়ান সংসদ সদস্য আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু)-এর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ মালদহ সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল। বুধবার রাতে কলকাতা-র একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে মালদহ জেলার কংগ্রেস রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ১৯৩৮ সালের ১২ জানুয়ারি মালদহ জেলার সাহাজালালপুরে জন্মগ্রহণ করেন আবু হাসেম খান চৌধুরী। তিনি প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এ. বি. এ. গণি খান চৌধুরী-এর ভাই। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠার ফলে ছোটবেলা থেকেই জনসেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। পরবর্তীতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন।
প্রথম জীবনে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা-র সদস্য হিসেবে কালিয়াচক কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন এবং দুবার বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে লোকসভা-য় নির্বাচিত হয়ে মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র-এর সাংসদ হন। এরপর ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে চারবার মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র-এর সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন। কেন্দ্রীয় স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ভারত সরকার-এর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই সময় গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রসারে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। শিক্ষাজীবনে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাক্তনী ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা তাঁকে এক জনমুখী নেতায় পরিণত করে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গঙ্গার ভাঙন, বন্যা সমস্যা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ একাধিক জনজীবনের ইস্যু তিনি সংসদে তুলে ধরেছেন। তাঁর সহজ-সরল জীবনযাপন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে মালদহ তথা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক বিশেষ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তাঁর মৃত্যুতে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও শোকপ্রকাশ করেছেন। আবু হাসেম খান চৌধুরী-এর প্রয়াণে মালদহ জেলা তথা রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্য, অনুগামী ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীদের শোকের মাঝে রেখে তিনি চিরবিদায় নিলেন। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হচ্ছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি জানানো হয়েছে গভীর সমবেদনা।








