জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে পুনরায় নোটিশ
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ২৪ এপ্রিল: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রাজ্যসভায় ফের প্রস্তাব পেশ করলেন ৭৩ জন বিরোধী সাংসদ। শুক্রবার উপ-রাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি.পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, গত ১৫ মার্চের পর থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর টিন চরম পক্ষপাতিত্ব এবং ‘গুরুতর অসদাচরণ’প্রদর্শন করে চলেছেন।
বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১৮ মার্চের একটি ভাষণকে কেন্দ্র করে। তাঁদের দাবি, দূরদর্শন ও আকাশবাণীতে সম্প্রচারিত ২৯ মিনিটের ওই জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূল এবং সমাজবাদী পার্টির তীব্র সমালোচনা করেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ এ নিয়ে অভিযোগ জমা পড়লেও নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ করেনি। বিরোধীদের অভিযোগ, বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে বিজেপি অভিযোগ করলেই কমিশন যেখানে অতিসক্রিয়তা দেখায়, অথছ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন রহস্যজনকভাবে নীরব।
নিবন্ধনপত্রে আরও কয়েকটি বিতর্কিত প্রসঙ্গের উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কেরালায় নির্বাচন কমিশনের নোটিশে বিজেপির সিলমোহর থাকা, পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলকে উদ্দেশ্য করে কমিশনের ‘কড়া’সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং এসআইআর-এর নামে বাংলায় ব্যাপক হারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া। পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে, নিবিড় সংশোধনের নামে এসআইআর করে বাংলার ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩৪ লক্ষ মানুষ এখনও ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিরোধীদের দাবি, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা না দেওয়া পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমারকে যেন সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়। এর আগে ৬ এপ্রিল পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে একই ধরণের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও লোকসভার স্পিকার। সেবার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে উভয় কক্ষ মিলিয়ে ১৯৩ জন সাংসদ সই করেছিলেন।
হাইলাইট
বিরোধীদের দাবি, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা না দেওয়া পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমারকে যেন সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়।








