বিহারে ভোট পরের মাসে কে হবে কুপোকাত, কে করবে বাজিমাত?
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হবে আগামী মাসের প্রথম দিকে। খুব সম্ভবত কাল-পরশু নাগাদ ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। এদিকে ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের লক্ষ্যে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর নিয়ে শুরু থেকেই দেশজুড়ে এত বিতর্ক চলছে যে, এবার বিহারের বিধানসভা ভোট নিয়ে গোটা দেশের কৌতুহল। অন্যান্য বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলোও তাকিয়ে আছে বিহারের দিকে। কারণ, সব রাজ্যেই শুরু হতে চলেছে এসআইআর। বিজেপি তথা কেন্দ্র সরকারেরও পাখির চোখ বিহার। যে কোন মূল্যে তারা এবার বিহারকে পকেটে পুরতে মরিয়া। লালু-নীতীশের জামানা খতম করে এবার বিহারকে পেতে উদগ্রীব গেরুয়া শিবির। সব মিলিয়ে বিহার বিধানসভা নির্বাচন এখন হাইভোল্টেজ। অর্থাৎ বিহার ভোটকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে পারদ হু হু করে চড়ছে। কে হবে কুপোকাত, আর কে করবে বাজিমাত — সেই নিয়ে রীতিমতো ছক্কা-পাঞ্জা খেলা চালু হয়ে গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জেডিইউ দল চায় এক দফাতেই ভোট হোক। জোটসঙ্গী বিজেপির দাবি অন্তত দুই দফা। অন্যদিকে কমিশন চাইছে তিন দফায় হোক ভোট। এক বা দুই দফা হলে কমিশনকে যদি ফের বিরোধীরা কাঠগড়ায় তোলে। তাই এসআইআর নিয়ে নীলকণ্ঠ হয়ে কমিশন এখন ঘরপোড়া গরুর মতো সাবধানী পদক্ষেপ করতে চাইছে। সেই মতোই তারা তিন দফায় ভোট করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে ২২ নভেম্বর শেষ হচ্ছে বিহার বিধানসভার মেয়াদ। তার আগে যে কোনভাবে ভোট প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
ক্যালেন্ডার বলছে, ২০ নভেম্বর দীপাবলি বা কালিপুজো। ২৫ থেকে ২৮ অক্টোবর ছট পুজো, যা বিহারের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তাই তার আগেই প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর্ব চুকিয়ে ফেলতে চাইছে কমিশন। সেটা হলে প্রার্থীরা প্রচারের জন্য গড়ে দিন কুড়ির মতো সুযোগ পাবে। উল্লেখ্য, গতবার বিহারে তিন দফায় ভোট হয়েছিল ২৮ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। ফল প্রকাশ হয়েছিল ১০ নভেম্বর।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এসআইআরের ফলে এবার বিহারে মহিলা ভোটারের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। যা নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়েছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলো। রবিবার এআইসিসি-র সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী অলকা লাম্বা বলেন, এসআইআরের মাধ্যমে বিহারে প্রায় ২৩ লক্ষ মহিলা ভোটারের নাম কেটে বাদ দিয়েছে কমিশন। যার মধ্যে মুসলিম আর দলিত সবথেকে বেশি। তাঁর অভিযোগ, মোদি-শাহর ইশারায় কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এর মাশুল দিতে হবে বিজেপিকে। বিহারবাসী নীতীশ-বিজেপি জোটকে আর ক্ষমতায় দেখতে চাইছে না।








