পুজোর আগে অসহায়দের মুখে আনন্দের আলো, মানবিক উদ্যোগে শেখ জরিফ
খান সাহিল মাজহার, নতুন পয়গাম, বীরভূম:
শারদীয়ার আগমনী সুরে চারিদিক ভরে উঠেছে আনন্দে, উচ্ছ্বাসে। শনিবার শুভ পঞ্চমী, বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গোৎসবের সূচনা লগ্ন। এই আনন্দমুখর সময়ে যাতে কেউ বঞ্চিত না হয়, সেই ভাবনা নিয়েই এগিয়ে এলেন আমোদপুরের বিশিষ্ট সমাজসেবী শেখ জরিফ। বীরভূমের লাভপুর বিধানসভার আমোদপুর ও ভ্রমরকল অঞ্চলের অসহায় গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি আয়োজন করলেন বিশেষ কর্মসূচির।
এই উদ্যোগে প্রায় ১৫০০ জন দুস্থ মহিলার হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন শাড়ি। একই সঙ্গে প্রায় ৫০০-রও বেশি পুরুষের হাতে দেওয়া হয় লুঙ্গি। নতুন বস্ত্র হাতে পেয়ে চোখে-মুখে খুশির ঝলক ফুটে ওঠে এলাকার মানুষদের। সমাজসেবীর এই প্রয়াসে সাধারণ মানুষ যেমন আনন্দিত, তেমনি আবেগাপ্লুতও।
শেখ জরিফ জানালেন, “দুর্গাপুজো কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সর্বজনের আনন্দের উৎসব। এই উৎসবে সামিল হওয়ার অধিকার সবারই আছে। তাই চেষ্টা করেছি অসহায় মানুষদের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফোটাতে।” তাঁর এই বক্তব্যে ফুটে উঠল মানবিকতার বার্তা এবং সমাজের প্রতি তাঁর আন্তরিক দায়বদ্ধতা।
স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন, শেখ জরিফের এই উদ্যোগ শুধু উপহার দেওয়া নয়, বরং সমাজে এক নতুন বার্তা বহন করছে। ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে মানুষে মানুষে মিলনের সেতু গড়ে তোলার এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠল তাঁর এই কর্মসূচি। উৎসবের আবহে সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের এই চিত্র মানুষকে এক ভিন্ন আনন্দ ও প্রেরণা দিয়েছে।
গ্রামের প্রবীণদের মতে, সমাজসেবী শেখ জরিফ বহুদিন ধরেই এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু দুর্গাপুজোর আগে এমন এক বৃহৎ আয়োজন সত্যিই নজিরবিহীন। বস্ত্র পেয়ে খুশিতে ভরে উঠেছেন গৃহবধূ থেকে প্রবীণ পুরুষ সবাই। অনেকেই বলেছেন, “এতদিন পুজোর সময় নতুন জামাকাপড় কেনার সামর্থ্য হয়নি। আজ নতুন বস্ত্র হাতে পেয়ে মন ভরে গেল।”
অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই শেখ জরিফের প্রকৃত প্রাপ্তি। তাঁর এই উদ্যোগ সমাজের বুকে মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দিল এবং আবারও প্রমাণ করল—পুজো কেবল আনন্দের নয়, এটি মিলনের, ভালোবাসার এবং একাত্মতার উৎসব।








