ওবামা: “গাজায় মানবিক সংকট উপেক্ষা করা অগ্রহণযোগ্য — দুই রাষ্ট্রের সমাধান জরুরি”
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে মন্তব্য করেছেন এবং গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গাজায় যে মানবিক সংকট চলছে তা সহ্য করা যায় না এবং উভয়পক্ষকে এমন একটি সমাধান খুঁজে পেতে হবে যেখানে একটি নিরাপদ ইসরায়েল ও একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র দুটোই অস্তিত্ব বজায় থাকবে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে উঠে আসা এই মন্তব্যটি গুরুত্ব বহন করে, কারণ বিশ্ব মঞ্চেই গাজা সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।
ওবামা ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, শিশুদের ক্ষুধার মধ্যে ফেলে রাখা বরদাস্তযোগ্য নয় এবং গাজা ভূপাতিত করে ধ্বংস করার কোনো যৌক্তিক সামরিক কারণ নেই — বিশেষত যেখানে বহু নিরীহ মানুষ ইতিমধ্যেই মৃত্যু ও ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে গাজায় সহায়তা পৌঁছে দিতে বাধা দেয়া বন্ধ করতে হবে।
শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে এক অনুষ্ঠানে ওবামা বলেন, তিনি ইসরায়েলের সব নীতির সঙ্গে একমত নন — এবং রাষ্ট্রীয় অবস্থান-রাজনীতির কারণে অনেক সময় নেতাদের মধ্যে ‘আমরা বনাম তারা’ মানসিকতা দেখা যায়। তিনি স্বীকার করেছেন যে এর ফলে রাজনীতিগত সম্পর্ক কখনও কখনও তিক্ত হয়ে ওঠে:
“আমি ওই অঞ্চলে জনপ্রিয় ছিলাম না, কারণ আমি তাদের সমালোচনা করতাম। ফলে আমি এবং ইসরায়েলের তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলাম না।”
— বারাক ওবামা
ওবামা পূর্বে গাজায় ‘প্রতিরোধযোগ্য’ দুর্ভিক্ষ রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেছেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু যুদ্ধ বন্ধ করা নয়—নির্ধারক অনেক জিনিসই প্রয়োজন; কিন্তু অযথা বেসামরিক মানুষদের জন্য খাদ্য ও পানি আটকানো কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর ভাষায়:
“বেসামরিক মানুষদের থেকে খাবার এবং পানি দূরে রাখার কোনো যুক্তি নেই।”
— বারাক ওবামা
জাতিসংঘে ইস্যুটি উত্তপ্ত আকার নেয়—ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে অনেক প্রতিনিধিই প্রতিবাদ জানিয়ে কক্ষ ত্যাগ করেন, এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ওবামার এই মন্তব্যগুলো এমন সময় এসেছে যখন আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক আন্দোলন উভয়ই তীব্র আকার নিয়েছে।








