বিজেপি শাসনের ১৪ মাসে ওড়িশায় নারী নির্যাতন ৩৭ হাজারেরও বেশি: মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা
নতুন পয়গাম, ভুবনেশ্বর, ২৪ সেপ্টেম্বর
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি সম্প্রতি রাজ্যের নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন। তার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মাসে বিজেপি শাসনের অধীনে ওড়িশায় ৩৭,৬১১টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই সংখ্যাকে রাজ্যের রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশে “উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে তুলনীয়” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়কালে বিভিন্ন ধরনের নারী নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- শ্লীলতাহানি: ৯,১৮১টি মামলা
- মহিলাদের অপহরণের চেষ্টা: ৮,২২৭টি মামলা
- পণ ছাড়াই নিগ্রহ: ৬,১৩৪টি মামলা
- পণ দাবির ভিত্তিতে নির্যাতন: ৫,৪৬৪টি মামলা
- ধর্ষণ: ২,৯৩৩টি মামলা
- যৌন হেনস্থা: ১,২৭৮টি মামলা
- জনসমক্ষে মহিলাদের বিবস্ত্র করা: ২,১৬১টি মামলা
এই সমস্ত ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মোট ৭৯৯ জন, যার মধ্যে ধর্ষণের জন্য ৪২৬ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি বলেন, এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানের পেছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি জানান, নাবালিকাদের উপর অত্যাচারের বিচারের জন্য রাজ্যে ২৪টি পকসো আদালত রয়েছে। এছাড়া রাজ্যের ২৯টি জেলায় নারী নির্যাতন তদন্তের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
বিপদে থাকা মহিলাদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের জন্য রাজ্য সরকার ১১২ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। বড় ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিজে তদন্তের তত্ত্বাবধান করবেন, এমন নির্দেশনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ বিষয়ে সংসদীয় প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেস বিধায়ক সোফিয়া ফিরদৌস রাজ্যে নারী নির্যাতন পরিস্থিতি তুলে ধরলে, মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই বিস্তারিত খতিয়ান প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “নারী নির্যাতনের এই পরিসংখ্যান আমাদের রাজ্যের সামাজিক ও আইন শৃঙ্খলার জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজ্যে নারী নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য সরকারী পদক্ষেপকে আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।








