BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

দেশভাগ: দায়ী কে বা কারা

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:১১ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:১১

মাসুদুর আলি, নতুন পয়গাম 

আরও পড়ুন:

ভারতবর্ষের ইতিহাসে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিঃসন্দেহে অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি। হাজার বছরের সহাবস্থানের ঐতিহ্য, মিলনমেলার সংস্কৃতি, পারস্পরিক মত ও ভাব বিনিময়, আর আন্তঃসম্পর্কের শিকড় ছিন্নভিন্ন করে ভারতবর্ষ দ্বিখণ্ডিত হয়ে এক রাতে দুটি পৃথক রাষ্ট্র তৈরি হল — ভারত ও পাকিস্তান। দেশভাগ শুধু ভৌগোলিক সীমারেখার বিভাজনই নয়, এটি ছিল মানুষের হৃদয়, বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের বিভাজন। অগণিত মানুষ বাস্তুচ্যুত হল, কয়েক লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাল, আর যে ক্ষত তৈরি হল — তা আজও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও সমাজে দগদগে ক্ষতচিহ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রশ্ন হলো, এই দেশভাগের জন্য দায়ী কে বা কারা? দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত বয়ানে বলা হয়েছে, মুসলিম লীগই দেশভাগের মূল কারিগর। জিন্নাহর পাকিস্তান দাবিকেই সবসময় আলাদা রাষ্ট্র সৃষ্টির জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যদি ইতিহাসকে গভীরভাবে দেখা যায়, দলিল-দস্তাবেজ অধ্যয়ন করা হয় এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করা হয়, তবে স্পষ্ট বোঝা যায়, দেশভাগের জন্য মুসলিম লীগ একাই নয়, কংগ্রেস তথা হিন্দু নেতৃত্বের একগুঁয়ে মনোভাব, রাজনৈতিক আধিপত্যবাদ এবং হিন্দু মহাসভার সাম্প্রদায়িক রাজনীতিও ছিল সমান দায়ী। যদি কংগ্রেস কিছুটা নমনীয় হত, মুসলিমদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিত, সাম্য ও মৈত্রীর নীতিকে প্রাধান্য দিত এবং ক্ষমতার সুষম বণ্টনে আন্তরিক হত, তবে পাকিস্তান আন্দোলন হয়ত এত ব্যাপক সমর্থন পেত না, এবং দেশ ভাগও হত না।
কংগ্রেসের ব্যর্থতা যেখানে: কংগ্রেস দাবি করত, তারা আসমুদ্র হিমাচল পরিবেষ্ঠিত ভারতবাসীর প্রতিনিধি। কিন্তু বাস্তবে কংগ্রেসের রাজনৈতিক পলিসি, এজেন্ডা ও কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হত কেবল সংখ্যাগুরু সমাজের কল্যাণের দিকটাই। ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনেই এর প্রমাণ মেলে। মুসলিম লীগ তখন তুলনামূলক দুর্বল ছিল এবং মুসলমানদের ভোট ব্যাপকভাবে বিভক্ত হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর কংগ্রেস যখন সরকার গঠন করল, তখন আনুপাতিক হারে মুসলমানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করার পরিবর্তে তাদেরকে প্রশাসন ও সরকার থেকে বঞ্চিত করা হল।
উত্তর প্রদেশে মুসলিম লীগ কংগ্রেসের মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে চেয়েছিল, কিন্তু কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিল তাদের প্রয়োজন নেই। ফলে মুসলমানদের মনে ভয় তৈরি হল যে, স্বাধীন ভারতে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়বে। তাছাড়া কংগ্রেসি শাসনে নানা সিদ্ধান্ত মুসলমানদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে, যেমন স্কুল-কলেজে ‘বন্দে মাতরম’ গান বাধ্যতামূলক করা, যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা, যা উর্দুভাষী মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। গোমাংস ভক্ষণ নিয়ে উগ্র হিন্দু ভাবাবেগকে প্রশ্রয় দেওয়া, যা মুসলমানদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ হিসেবে দেখা দেয়। এসব অভিজ্ঞতা মুসলমানদের কাছে বার্তা এই দিল যে, স্বাধীন ভারতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে সংখ্যাগুরু সমাজের আধিপত্যই প্রতিষ্ঠিত হবে, সংখ্যালঘুরা ন্যায্য বা প্রাপ্য অধিকার পাবে না।
গান্ধী-নেহরু ও জিন্নাহ: মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রথম জীবনে জাতিগত ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী নেতা ছিলেন। তিনি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে গান্ধী-নেহরুর সঙ্গে একই মঞ্চে কাজ করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে কংগ্রেস তাকে প্রান্তিক করে তোলে। জিন্নাহ যখন মুসলমানদের অধিকার রক্ষার্থে আলাদা কণ্ঠস্বর তুলতে শুরু করেন, তখন কংগ্রেস নেতৃত্ব সেই দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি। ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা ছিল দেশভাগ রোধ করার সর্বশেষ বড় সুযোগ। পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, ভারত একটি ফেডারেল রাষ্ট্র থাকবে, যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে আলাদা গ্রুপে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হবে। এতে পাকিস্তান না গড়েই মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেত। কিন্তু জওহরলাল নেহরু প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, কংগ্রেস এই পরিকল্পনার কোনো বাধ্যবাধকতা মানবে না। এই ঘোষণাই মুসলিম লীগকে চূড়ান্তভাবে পাকিস্তানের দাবির দিকে ঠেলে দেয়।
১৯৪৬ সালের নির্বাচন; বিভাজনের ইঙ্গিত: দেশভাগের আগে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা ছিল ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন। এই নির্বাচনে মুসলমানরা প্রায় সর্বসম্মতভাবে কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করে মুসলিম লীগের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট ৪৯৬টি আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ জেতে ৪২৯টি আসন (৮৭%)। কংগ্রেস ব্যর্থ হয় মুসলমানদের আসনে। অন্যদিকে, হিন্দুপ্রধান আসনে কংগ্রেস কার্যত একাধিপত্য কায়েম করে। এই ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়, ভারতীয় সমাজ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে। হিন্দুরা কংগ্রেসে, আর মুসলমানরা মুসলিম লীগে। এটাই মূলত দেশভাগের গণভিত্তি তৈরি করে দেয়।
হিন্দু মহাসভা ও কট্টরপন্থী রাজনীতি: মুসলিম লীগের পাশাপাশি হিন্দু মহাসভা এবং আরএসএস-এর ভূমিকা দেশভাগকে আরও ত্বরান্বিত করে। এই সংগঠনগুলো স্পষ্টভাবে মুসলমানদের ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়ে ভারতকে কেবল হিন্দুদের রাষ্ট্র করার দাবি তোলে। ভি.ডি. সাভারকার তার গ্রন্থ Hindutva: Who is a Hindu? (১৯২৩)-তে লেখেন, “ভারত হিন্দুদের ভূমি, মুসলমানরা এখানে বহিরাগত।” বাংলায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী মুসলিম-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। মহারাষ্ট্রে আরএসএস ও মহাসভা মুসলিমবিরোধী প্রচার চালিয়ে মুসলিমদের আতঙ্কিত করে তোলে। এহেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে মুসলমানদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মায় যে, স্বাধীন ভারতে তারা কোনোদিনই নিরাপদ হবে না। জিন্নাহ এবং মুসলিম লীগ এই ভয়কে কাজে লাগিয়েই পাকিস্তান আন্দোলনকে সর্বজনীন রূপ দেয়।
দেশভাগের ভোটাভুটি ও চূড়ান্ত রায়: ১৯৪৭ সালে দেশভাগ কার্যকর করার আগে বিভিন্ন প্রদেশের আইনসভায় ভোটাভুটি হয়। পাঞ্জাবে মুসলিম সদস্যরা পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেয়, হিন্দু ও শিখরা ভারতের পক্ষে। পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা পাকিস্তানের পক্ষে, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা ভারতের পক্ষে ভোট দেয়। সিন্ধ ও সীমান্ত প্রদেশে মুসলিম লীগ পাকিস্তানের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পায়। ভোটাভুটিতে এই আড়াআড়ি বিভাজন দেশভাগকে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেয়। কিন্তু এর নেপথ্য কারণ ছিল ১৯৩৭ ও ১৯৪৬ সালের অভিজ্ঞতা, কংগ্রেসের একগুঁয়ে নীতি এবং হিন্দু মহাসভার উগ্র রাজনীতি।
কংগ্রেসের একক আধিপত্যবাদ: কংগ্রেস সবসময় নিজেকে ভারতের একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইত। যদিও মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মতো সর্বজনীন নেতারা কংগ্রেসের ভিতরে মুসলমানদের প্রতি ইনসাফের দাবিতে সরব হতেন, কিন্তু তাদের মতামত প্রায়শই উপেক্ষিত হত। স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আজাদ তাঁর আত্মজীবনীতে (India Wins Freedom) লিখেছেন, “যদি কংগ্রেস ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করত, বা ১৯৪৬ সালের ‘ক্যাবিনেট মিশন’ পরিকল্পনাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করত, তবে পাকিস্তান সৃষ্টি হত না।”
নিরপেক্ষভাবে ইতিহাস পরিক্রমা করলে দেখা যায়, দেশভাগের জন্য কেবল মুসলিম লীগকে দোষারোপ করা অযৌক্তিক। মুসলমানদের ভয়, অবিশ্বাস ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল মূলত কংগ্রেসের একগুঁয়ে মনোভাব, ক্ষমতার একচেটিয়া দখলদারি এবং হিন্দু মহাসভার উগ্র রাজনীতির কারণে। মুসলিম লীগ এই অবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের দাবিকে শক্তিশালী করেছিল। সুতরাং, দোষের পাল্লা ভারি করলে বলতে হয়, দেশভাগের জন্য কংগ্রেস তথা তদানীন্তন হিন্দু নেতৃত্ব কোন অংশে কম দায়ী নয়। তাদের ব্যর্থ নেতৃত্ব, সংকীর্ণ মানসিকতা এবং মুসলিমদের প্রতি অবজ্ঞা-অবহেলাই পাকিস্তান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করেছিল।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder