BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

দেশভাগ: দায়ী কে বা কারা

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:১১ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:১১

মাসুদুর আলি, নতুন পয়গাম 

আরও পড়ুন:

ভারতবর্ষের ইতিহাসে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিঃসন্দেহে অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি। হাজার বছরের সহাবস্থানের ঐতিহ্য, মিলনমেলার সংস্কৃতি, পারস্পরিক মত ও ভাব বিনিময়, আর আন্তঃসম্পর্কের শিকড় ছিন্নভিন্ন করে ভারতবর্ষ দ্বিখণ্ডিত হয়ে এক রাতে দুটি পৃথক রাষ্ট্র তৈরি হল — ভারত ও পাকিস্তান। দেশভাগ শুধু ভৌগোলিক সীমারেখার বিভাজনই নয়, এটি ছিল মানুষের হৃদয়, বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের বিভাজন। অগণিত মানুষ বাস্তুচ্যুত হল, কয়েক লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাল, আর যে ক্ষত তৈরি হল — তা আজও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও সমাজে দগদগে ক্ষতচিহ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রশ্ন হলো, এই দেশভাগের জন্য দায়ী কে বা কারা? দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত বয়ানে বলা হয়েছে, মুসলিম লীগই দেশভাগের মূল কারিগর। জিন্নাহর পাকিস্তান দাবিকেই সবসময় আলাদা রাষ্ট্র সৃষ্টির জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যদি ইতিহাসকে গভীরভাবে দেখা যায়, দলিল-দস্তাবেজ অধ্যয়ন করা হয় এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করা হয়, তবে স্পষ্ট বোঝা যায়, দেশভাগের জন্য মুসলিম লীগ একাই নয়, কংগ্রেস তথা হিন্দু নেতৃত্বের একগুঁয়ে মনোভাব, রাজনৈতিক আধিপত্যবাদ এবং হিন্দু মহাসভার সাম্প্রদায়িক রাজনীতিও ছিল সমান দায়ী। যদি কংগ্রেস কিছুটা নমনীয় হত, মুসলিমদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিত, সাম্য ও মৈত্রীর নীতিকে প্রাধান্য দিত এবং ক্ষমতার সুষম বণ্টনে আন্তরিক হত, তবে পাকিস্তান আন্দোলন হয়ত এত ব্যাপক সমর্থন পেত না, এবং দেশ ভাগও হত না।
কংগ্রেসের ব্যর্থতা যেখানে: কংগ্রেস দাবি করত, তারা আসমুদ্র হিমাচল পরিবেষ্ঠিত ভারতবাসীর প্রতিনিধি। কিন্তু বাস্তবে কংগ্রেসের রাজনৈতিক পলিসি, এজেন্ডা ও কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হত কেবল সংখ্যাগুরু সমাজের কল্যাণের দিকটাই। ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনেই এর প্রমাণ মেলে। মুসলিম লীগ তখন তুলনামূলক দুর্বল ছিল এবং মুসলমানদের ভোট ব্যাপকভাবে বিভক্ত হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর কংগ্রেস যখন সরকার গঠন করল, তখন আনুপাতিক হারে মুসলমানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করার পরিবর্তে তাদেরকে প্রশাসন ও সরকার থেকে বঞ্চিত করা হল।
উত্তর প্রদেশে মুসলিম লীগ কংগ্রেসের মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে চেয়েছিল, কিন্তু কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিল তাদের প্রয়োজন নেই। ফলে মুসলমানদের মনে ভয় তৈরি হল যে, স্বাধীন ভারতে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়বে। তাছাড়া কংগ্রেসি শাসনে নানা সিদ্ধান্ত মুসলমানদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে, যেমন স্কুল-কলেজে ‘বন্দে মাতরম’ গান বাধ্যতামূলক করা, যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা, যা উর্দুভাষী মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। গোমাংস ভক্ষণ নিয়ে উগ্র হিন্দু ভাবাবেগকে প্রশ্রয় দেওয়া, যা মুসলমানদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ হিসেবে দেখা দেয়। এসব অভিজ্ঞতা মুসলমানদের কাছে বার্তা এই দিল যে, স্বাধীন ভারতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে সংখ্যাগুরু সমাজের আধিপত্যই প্রতিষ্ঠিত হবে, সংখ্যালঘুরা ন্যায্য বা প্রাপ্য অধিকার পাবে না।
গান্ধী-নেহরু ও জিন্নাহ: মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রথম জীবনে জাতিগত ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী নেতা ছিলেন। তিনি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে গান্ধী-নেহরুর সঙ্গে একই মঞ্চে কাজ করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে কংগ্রেস তাকে প্রান্তিক করে তোলে। জিন্নাহ যখন মুসলমানদের অধিকার রক্ষার্থে আলাদা কণ্ঠস্বর তুলতে শুরু করেন, তখন কংগ্রেস নেতৃত্ব সেই দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি। ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা ছিল দেশভাগ রোধ করার সর্বশেষ বড় সুযোগ। পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, ভারত একটি ফেডারেল রাষ্ট্র থাকবে, যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে আলাদা গ্রুপে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হবে। এতে পাকিস্তান না গড়েই মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেত। কিন্তু জওহরলাল নেহরু প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, কংগ্রেস এই পরিকল্পনার কোনো বাধ্যবাধকতা মানবে না। এই ঘোষণাই মুসলিম লীগকে চূড়ান্তভাবে পাকিস্তানের দাবির দিকে ঠেলে দেয়।
১৯৪৬ সালের নির্বাচন; বিভাজনের ইঙ্গিত: দেশভাগের আগে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা ছিল ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন। এই নির্বাচনে মুসলমানরা প্রায় সর্বসম্মতভাবে কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করে মুসলিম লীগের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট ৪৯৬টি আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ জেতে ৪২৯টি আসন (৮৭%)। কংগ্রেস ব্যর্থ হয় মুসলমানদের আসনে। অন্যদিকে, হিন্দুপ্রধান আসনে কংগ্রেস কার্যত একাধিপত্য কায়েম করে। এই ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়, ভারতীয় সমাজ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে। হিন্দুরা কংগ্রেসে, আর মুসলমানরা মুসলিম লীগে। এটাই মূলত দেশভাগের গণভিত্তি তৈরি করে দেয়।
হিন্দু মহাসভা ও কট্টরপন্থী রাজনীতি: মুসলিম লীগের পাশাপাশি হিন্দু মহাসভা এবং আরএসএস-এর ভূমিকা দেশভাগকে আরও ত্বরান্বিত করে। এই সংগঠনগুলো স্পষ্টভাবে মুসলমানদের ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়ে ভারতকে কেবল হিন্দুদের রাষ্ট্র করার দাবি তোলে। ভি.ডি. সাভারকার তার গ্রন্থ Hindutva: Who is a Hindu? (১৯২৩)-তে লেখেন, “ভারত হিন্দুদের ভূমি, মুসলমানরা এখানে বহিরাগত।” বাংলায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী মুসলিম-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। মহারাষ্ট্রে আরএসএস ও মহাসভা মুসলিমবিরোধী প্রচার চালিয়ে মুসলিমদের আতঙ্কিত করে তোলে। এহেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে মুসলমানদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মায় যে, স্বাধীন ভারতে তারা কোনোদিনই নিরাপদ হবে না। জিন্নাহ এবং মুসলিম লীগ এই ভয়কে কাজে লাগিয়েই পাকিস্তান আন্দোলনকে সর্বজনীন রূপ দেয়।
দেশভাগের ভোটাভুটি ও চূড়ান্ত রায়: ১৯৪৭ সালে দেশভাগ কার্যকর করার আগে বিভিন্ন প্রদেশের আইনসভায় ভোটাভুটি হয়। পাঞ্জাবে মুসলিম সদস্যরা পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেয়, হিন্দু ও শিখরা ভারতের পক্ষে। পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা পাকিস্তানের পক্ষে, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা ভারতের পক্ষে ভোট দেয়। সিন্ধ ও সীমান্ত প্রদেশে মুসলিম লীগ পাকিস্তানের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পায়। ভোটাভুটিতে এই আড়াআড়ি বিভাজন দেশভাগকে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেয়। কিন্তু এর নেপথ্য কারণ ছিল ১৯৩৭ ও ১৯৪৬ সালের অভিজ্ঞতা, কংগ্রেসের একগুঁয়ে নীতি এবং হিন্দু মহাসভার উগ্র রাজনীতি।
কংগ্রেসের একক আধিপত্যবাদ: কংগ্রেস সবসময় নিজেকে ভারতের একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইত। যদিও মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মতো সর্বজনীন নেতারা কংগ্রেসের ভিতরে মুসলমানদের প্রতি ইনসাফের দাবিতে সরব হতেন, কিন্তু তাদের মতামত প্রায়শই উপেক্ষিত হত। স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আজাদ তাঁর আত্মজীবনীতে (India Wins Freedom) লিখেছেন, “যদি কংগ্রেস ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করত, বা ১৯৪৬ সালের ‘ক্যাবিনেট মিশন’ পরিকল্পনাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করত, তবে পাকিস্তান সৃষ্টি হত না।”
নিরপেক্ষভাবে ইতিহাস পরিক্রমা করলে দেখা যায়, দেশভাগের জন্য কেবল মুসলিম লীগকে দোষারোপ করা অযৌক্তিক। মুসলমানদের ভয়, অবিশ্বাস ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল মূলত কংগ্রেসের একগুঁয়ে মনোভাব, ক্ষমতার একচেটিয়া দখলদারি এবং হিন্দু মহাসভার উগ্র রাজনীতির কারণে। মুসলিম লীগ এই অবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের দাবিকে শক্তিশালী করেছিল। সুতরাং, দোষের পাল্লা ভারি করলে বলতে হয়, দেশভাগের জন্য কংগ্রেস তথা তদানীন্তন হিন্দু নেতৃত্ব কোন অংশে কম দায়ী নয়। তাদের ব্যর্থ নেতৃত্ব, সংকীর্ণ মানসিকতা এবং মুসলিমদের প্রতি অবজ্ঞা-অবহেলাই পাকিস্তান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করেছিল।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder