পুজোর মুখে বোনাস বঞ্চিত দেবপাড়া চা বাগানের শ্রমিকরা
২০% বোনাসের দাবিতে বানারহাট থানা ঘেরাও
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, বানারহাটঃ
পুজোর আনন্দ যখন রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন চরম হতাশা ও ক্ষোভে ফুটছে বানারহাটের দেবপাড়া চা বাগানের শ্রমিকেরা। রাজ্য সরকারের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গ বোনাস না পেয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বানারহাট থানার গেট ঘেরাও করে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন শতাধিক শ্রমিক।
চা বাগান কর্তৃপক্ষ ২০ শতাংশের পরিবর্তে মাত্র ৯ শতাংশ বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা কোনোভাবেই মানতে নারাজ শ্রমিকরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, পূর্ণ ২০ শতাংশ বোনাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা থানার সামনেই অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।
এদিন সকাল থেকেই শ্রমিকরা চা বাগান থেকে পায়ে হেঁটে থানায় এসে জমায়েত হন। “রাজ্য সরকার তো আগেই জানিয়ে দিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস দিতে হবে। কিন্তু দেবপাড়া চা বাগান কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত কোনো সদর্থক পদক্ষেপই নেয়নি,”— অভিযোগ এক শ্রমিক নেতার।
শ্রমিকদের আরও দাবি, এই বোনাস তাঁদের পুজোর একমাত্র ভরসা। বছরের অন্যান্য সময় যেভাবে সংস্থার স্বার্থে তাঁরা পরিশ্রম করেন, তেমনই পুজোর আগে তাঁদের ন্যায্য অধিকারও নিশ্চিত হওয়া উচিত। “কুড়ি শতাংশের জায়গায় নয় শতাংশ? এটা মেনে নেওয়া যায় না। সরকার যা বলেছে, সেটা মানতেই হবে,”— বলেন এক প্রবীণ শ্রমিক।
বিক্ষোভের জেরে বানারহাট থানার গেট কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
এদিকে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান ত্যাগ করবেন না। ফলে পুজোর ঠিক মুখে চা বাগানে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, জেলা শ্রম দপ্তর বিষয়টি নজরে রেখেছে এবং আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা যাতে না ছড়ায়, সেজন্য কড়া নজরদারিতে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তবে শ্রমিকদের আন্দোলনের আঁচ যে পুজোর আগে রাজ্যের চা শিল্পে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।







