জুবিন গর্গ কেমন মানুষ ছিলেন?
কীভাবে মারা গেলেন এই গায়ক?
নতুন পয়গাম,
গুয়াহাটি, ২২ সেপ্টেম্বর: ৫২ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন জুবিন গর্গ। বন্যার সময় রাস্তায় নেমে ত্রাণ সংগ্রহ করতেন। তিব্বতের স্বাধীনতার জন্য সওয়াল করে এসেছেন বরাবর। যার কণ্ঠে গান না শুনলে যাদের দিন ভাল যেত না, তারা এখনও বিশ্বাসই করতে পারছে না যে, তাদের প্রিয় গায়ক জুবিন গর্গ আর নেই। অসমের ভূমিপুত্র জুবিন সিঙ্গাপুরে মারা যান। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা জুবিন কখনও মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করেননি।
জুবিন গর্গ না ফেরার দেশে চলে গেলেও রেখে গেলেন বিরাট উত্তরাধিকার। গত ৩৩ বছরে ৪০টি ভাষায় ৩৮ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন জুবিন। গলা ছিল যেমন নিখাদ, তেমনই ১২টি বাদ্যযন্ত্র বাজাতে জানতেন। একসময় চুটিয়ে গান গেয়েছেন। বাংলাতেও তার অনেক গান বিপুল জনপ্রিয় হয়েছে। মাঝেমধ্যেই সংগীতের জগত থেকে নিজেকে গুটিয়েও নিয়েছেন জুবিন। বিতর্কিত রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বেশিরভাগ শিল্পী বিরত থাকলেও, জুবিন সেই পথে হাঁটেননি।
গত বছর সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বলেছিলেন, অসমের মানুষ কখনও সিএএ মেনে নেবেন না। কোনও রকম ধর্মীয় বিভাজন অসমবাসী বরদাস্ত করবেন না। তিনি এও ঘোষণা করেন, সিএএ-র বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ আন্দোলন জারি থাকবে। এই লড়াইয়ে জয়ী হতে সকলকে একজোট হতেও আহ্বান জানান। ধর্ম, জাতপাতের বেড়াজাল মানতেন না। ২০১৯ সালে তিনি জানান, জন্মসূত্রে ব্রাহ্মণ হলেও পৈতে পরেন না। ব্রাহ্মণ্যবাদের ঘোর বিরোধী ছিলেন। ব্রাহ্মণদের নিয়ে মন্তব্যের জেরে কম বিতর্ক হয়নি জুবিনকে নিয়ে। শেষমেষ ক্ষমা পর্যন্ত চাইতে হয় তাঁকে।
২০২৪ সালের এপ্রিলে অসমের বিহু কনসার্টে শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে যে মন্তব্য করেন জুবিন, তা নিয়েও বিতর্ক হয় বিস্তর। অসমের রকস্টার জুবিন গর্গ বলেছিলেন, কৃষ্ণ ভগবান বা দেবতা নয়, ছিলেন মানুষ। এ নিয়ে অনেক বিতর্ক হলেও কোনকিছুই শিল্পী জুবিনের সৃজশীলতাকে খর্ব করতে পারেনি। জুবিনের ডেথ সার্টিফিকেটে লেখা হয়েছে, সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। গায়ক জুবিন গর্গের মৃত্যুশোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি সঙ্গীতপ্রেমীরা। তাঁর প্রয়াণে থমথমে অসম-সহ গোটা দেশ। শোকস্তব্ধ সঙ্গীত দুনিয়া। শুক্রবার ‘নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে’ গান গাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চিরবিদায় নিলেন। এদিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ মারা যান জুবিন গর্গ। কিন্তু কী কারণে তিনি মারা গেলেন, তা নিয়ে নানা মহলে চলছে চর্চা। তাঁর মৃত্যু রহস্যময় থেকে গেল। তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে কাল মঙ্গলবার সকাল ৮ টায়।
ইন্ডিয়ান পপ-রক, লোকগীতি, হিন্দুস্তানি ক্ল্যাসিক্যাল, সুফি, ব্লুজ থেকে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার সিনেমার গানে জুবিন তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেলেন। শুধু সংগীতশিল্পী নন; গীতিকার এবং সুরকার হিসেবেও স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি।








