ওয়াকফ: সুপ্রিম স্থগিতাদেশকে স্বস্তি বললেন সেলিম
নতুন পয়গাম,
কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বর: বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী আইনর কয়েকটি ধারার ওপর সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন এই মামলার অন্যতম আবেদনকারী সিপিএম রাজ্য সম্পাদক তথা পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম। এপ্রিলে পার্টির পক্ষ থেকে মোদী সরকারের আনা ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছিলেন সেলিম। এদিন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অন্তর্বর্তী রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ স্বীকৃতি দিচ্ছে যে, আমাদের আপত্তির যথাযথ কারণ ছিল। মোদী সরকারের ওয়াকফ সংশোধনী আইন দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সংবিধানের বিরোধী।
সোমবার ওয়াকফ আইনের সংশোধনীর তিনটি ধারার ওপরে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ দিয়েছে, একে আপাতত স্বস্তিদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন মহম্মদ সেলিম। ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ সংশোধনী আইন অনুসারে সমীক্ষার ভিত্তিতে ওয়াকফ সম্পত্তি নির্ধারণে ওয়াকফ বোর্ডকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ওয়াকফ ট্রাইবুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মোদী সরকারের সংশোধনী আইনে এই ক্ষমতা জেলাশাসকদের দেওয়া হয়েছে। বকলমে ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে যাবতীয় ক্ষমতা কেন্দ্র সরকার নিজের হাতে নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এর ওপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
এই সংশোধনীর বিরোধিতা করে মহম্মদ সেলিম বলেছিলেন, সরকার সব জমি সম্পদ কেড়ে নিয়ে বেসরকারি হাতে দিয়ে মানিটাইজেশন করতে চাইছে। কেন্দ্র সরকার রেল, বিমানবন্দর চালাতে পারছে না। তাই সবকিছু জলের দরে বেসরকারি কোম্পানির হাতে তুলে দিচ্ছে। যেগুলো সরকারের চালানোর কথা সেগুলো বেসরকারি হাতে দিচ্ছে, আর ধর্মীয় বিষয় যেগুলি বেসরকারি পরিচালনায় থাকার কথা, সেগুলিকে সরকার চালাতে চাইছে? সেলিমের পরামর্শ হল, ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনার বদলে সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিচালনায় নজর দিক। সংবিধান নাগরিকদের ধর্মবিশ্বাস অনুসারে যেগুলো পরিচালনার অধিকার দিয়েছে তাতে হস্তক্ষেপ চলবে না।
এছাড়াও সম্পত্তি দান করে ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে পাঁচ বছর ইসলাম ধর্ম পালনের যে বাধ্যবাধকতা নতুন আইনে মোদী সরকার চাপিয়েছে, তাকেও আপাতত স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম প্রতিনিধি রাখার ক্ষেত্রেও সীমা বেঁধে দিয়েছে। সেলিমের মতে, প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার দেওয়া হয়েছে সংবিধানে। আজকে মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকারে আঘাত হানা সফল হলে কাল শিখদের অধিকারে, তারপরে আদিবাসীদের অধিকার হরণের চেষ্টা হবে।
সেলিম এও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ওয়াকফ বিল সংসদে পাশ হওয়ার সময়ে নিজের দলের সব সাংসদকে বিলের বিরুদ্ধে ভোটদানের জন্য হাজির করাননি। এমনকি ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরোধিতা করে মমতা ব্যানার্জী বলেছিলেন, এখানে আন্দোলন চলবে না, আন্দোলন করতে হলে দিল্লিতে গিয়ে করো। সেকথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সেলিম বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে দুর্নীতি বন্ধের প্রয়োজন নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু বিজেপি, তৃণমূল কেউই তাতে উৎসাহী নয়। ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের পরে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারই প্রথম ওয়াকফ ট্রাইবুনাল গঠন করে ওয়াকফ দুর্নীতি বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে রাজ্যে ১০ হাজার মাদ্রাসা করার এবং ওয়াকফ দুর্নীতি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। গত ১৫ বছরে সে সবের কী হল, এ প্রশ্ন তোলেন সেলিম।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক আরো বলেন, অন্য রাজ্যে বিজেপি এবং এরাজ্যে তৃণমূল নেতারা সরকারে এসে একের পর এক ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করেছে, নাম পালটেছে। এখন ওয়াকফ আইনে সংশোধনীর নামে বিভাজনের রাজনীতির জন্য সাম্প্রদায়িক উসকানিতে নেমেছে বিজেপি। ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বিপথে চালিত করতে একদল ভাড়ায় খাটানো এজেন্টদের দিয়ে বলানো হচ্ছে ‘ইসলাম খাতরে মে হ্যায়’। আরেকদল সেটাকে দেখিয়ে বলছে, ‘হিন্দু খাতরে মে হ্যায়’। সেলিমের কথায়, হিন্দু ধর্ম বা ইসলাম ধর্ম নয়, দেশের ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র ও সংবিধান খাতরে বা বিপদে রয়েছে।








