এসআইআর-এ ত্রুটি দেখলেই বাতিল: সুপ্রিম কোর্ট
নতুন পয়গাম
নয়াদিল্লি, ১৫ সেপ্টেম্বর:
এসআইআর-এ ভুল-ত্রুটি কিছু ধরা পড়লে পুরো প্রক্রিয়াই বাতিল করে দেওয়া হব বলে ধমক দিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এই মর্মে এক মামলার শনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত কোন রাখঢাক না রেখে সাফ বলে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন যতই এসআইআর-এর কাজ শুরু করুক না কেন ভুল-ত্রুটি বা বেআইনি কিছু দেখা গেলে বাতিল করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি সূর্যকান্ত। এহেন কড়া মন্তব্য করার সময় তাঁর পাশে ছিলেন সহ-বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও।
এদিন তাঁরা এও জানান, এই মামলার রায় সারা দেশের জন্যই প্রযোজ্য হবে। উল্লেখ্য, দেশজুড়ে এসআইআর করানোর দাবিতে এক মামলা রুজু হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতে। মূল মামলার সঙ্গেই সেটিকে যুক্ত করে দুই বিচারপতির বেঞ্চ এদিন জানান, ৭ ও ৮ অক্টোবর এসআইআর মামলার শুনানি হবে। তারপরই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্ট।
এই মামলা দায়ের করেছে এসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রাইটস বা এডিআর। এছাড়াও অন্যান্য আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ওব্রায়েন, লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব প্রমুখ। তাঁদের দাবি, ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। তারপর অক্টোবরের মাঝামাঝি নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে। এদিকে আইনি প্রক্রিয়া মেনে ২২ নভেম্বরের মধ্যে বিহারে নতুন সরকার গড়তে হবে। তাই চূড়ান্ত শুনানি এবং রায়ের দিনক্ষণ এগিয়ে আনা হলে ভালে হবে। নাহলে নির্বাচন কমিশন গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলবে। দেশজুড়ে এসআইআর শুরু হয়ে যাবে। মামলাকারীদের পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ম-বিধি লঙ্ঘন করছে। কেউ অভিযোগ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না। একথা শুনে বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা। আশা করি তারা নিয়ম কানুন মেনেই চলবে। কিন্তু যতই কাজ শুরু করুক, বেআইনি কিছু দেখলেই পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়া হবে।
অভিযোগ, ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে এসআইআর সংক্রান্ত বুলেটিন প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছে কমিশন। একথা শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করেন, প্রতিদিন বুলেটিন আপলোড করতে সমস্যা কোথায়? কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী জানান, রোজ অত পরিসংখ্যান দেওয়া সম্ভব নয়। ১ অক্টোবর তো ফাইনাল তালিকা প্রকাশ হবে। এরপর বিচারপতি বাগচী ফের প্রশ্ন করেন, পরিসংখ্যান নিয়ে এত অসুবিধা হলে আগে রোজ বুলেটিন দিচ্ছিলেন কীভাবে?
ইতিমধ্যেই এসআইআরে আধারকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যদিও সেই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়। এদিন আদালতে তিনি বলেন, আধার যখন জন্ম তারিখ এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, তাহলে কেন এক্ষেত্রে আধার গ্রহণ করা হবে? আধার নকল হয়। তাই আধারের সঙ্গে কমিশনের তালিকাভুক্ত ১১টি নথির কোনও একটি জমা দেওয়ার আবেদন জানান অশ্বিনী। বিচারপতি বাগচী এই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে বলেন, আপনার আর্জি মানার কোনও প্রশ্নই নেই। আধারকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে দেখানো যাবে। পাসপোর্ট, লাইসেন্স, জন্ম সার্টিফিকেট সবকিছু তো নকল হয়। তাহলে সেক্ষেত্রে কী বলবেন? এরপর চুপ করে যান অশ্বিনী উপাধ্যায়।








