ধূপগুড়ি পৌরসভা নির্বাচনের দাবিতে পথে নাগরিক মঞ্চ, শহরজুড়ে পোস্টার-আন্দোলন
প্রীতিময় সরখেল
নতুন পয়গাম, ধূপগুড়ি:
ধূপগুড়ি পৌরসভায় দীর্ঘ আট বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ার প্রতিবাদে সরব হয়েছে ধূপগুড়ি মহকুমা নাগরিক মঞ্চ। পৌরসভার প্রশাসক বোর্ড গঠনের চার বছর পূর্ণ হওয়ার দিনেই আন্দোলনে নেমে শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে পোস্টার—
“আমার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর চাই, তোরা যে যা বলিস ভাই, আমাদের ধূপগুড়ি পৌর নির্বাচন চাই”।
সেইসাথে ব্যবহৃত হয়েছে জনপ্রিয় গানের লাইন— “আর কবে, আর কবে?”—নির্বাচনের দাবি ঘিরে। আট বছর ধরে ভোটবিহীন পৌরসভা। ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট ধূপগুড়ি পৌরসভার শেষ নির্বাচন হয়েছিল। এরপর গঠিত হয় পাঁচ সদস্যের প্রশাসক বোর্ড। সেই বোর্ডের অধীনেই চলছে পৌর পরিষেবা, কিন্তু ভোট হয়নি একবারও। বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন চেয়ে ডেপুটেশন ও আন্দোলন করেছে। তবুও কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
ধূপগুড়ি মহকুমা নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক অনিরুদ্ধ দাসগুপ্ত বলেন, “অগণতান্ত্রিকভাবে চলছে পৌর প্রশাসন। মানুষের গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত পৌর নির্বাচন হোক।”
নাগরিকদের অভিযোগ, নির্বাচনের অভাবে শহরের উন্নয়ন থমকে গেছে। নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, আবর্জনার স্তূপ বাড়ছে, পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
শিক্ষক অসক তরু বস বলেন, “ওয়ার্ডে কাউন্সিলর না থাকায় সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধান হচ্ছে না। এখন সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি পৌরসভায় যেতে হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল বসাক বলেন, “পৌরসভার কাজ কার্যত অচল। পরিষেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। তাই দ্রুত নির্বাচন হওয়া জরুরি।”
বিজেপি জেলা সম্পাদক চন্দন দত্ত বলেন, “রাজ্যের শাসক দল ভয় পেয়ে নির্বাচন করছে না। দুর্নীতি ঢাকতেই প্রশাসক বোর্ড দিয়ে পৌরসভা চালানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং পাল্টা মন্তব্য করে বলেন,
“নির্বাচন করানো আমাদের হাতে নেই। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বিষয়। আমরা প্রস্তুত, তবে শুধু ধূপগুড়ি নয়, রাজ্যের আরও কিছু পৌরসভায় নির্বাচন হয়নি—সেগুলি নিয়েও কথা বলুন।”
নাগরিকদের দাবি একটাই—অবিলম্বে ধূপগুড়ি পৌরসভায় নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে। না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে নাগরিক মঞ্চ। শহরের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নাগরিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনতেই এই দাবি, বলে জানান আন্দোলনকারীরা।







